আবিরের স্প্যারো পর্ব-৪ | Abir-er Sparrow part-4

আবিরের স্প্যারো গল্পের পর্ব ৪ এর রহস্যময় দৃশ্য

আবিরের স্প্যারো  (ইবুক ভার্সন)

লেখনীতে সালমা চৌধুরী 

পর্ব -৪

গানের সাথে তাল মিলিয়ে বেশ কয়েকজন নিত্য করছে। মেঘ আর বন্যা হল রুমের দরজা থেকে মাথা ঢুকিয়ে কোনোমতে দেখার চেষ্টা করছে,,

হঠাৎ পিছন থেকে কেউ ডাকল, 

মাহদিবা কে?’

মেঘ চমকে তাকাল। পিছনে ঘুরে দেখল, একটা অল্প বয়সী ছেলে দাঁড়ানো। খুব সম্ভবত মেঘের সমবয়সী হবে। হয়তো একই ডিপার্টমেন্ট বা ভিন্ন ডিপার্টমেন্ট পড়ে। মেঘ স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,

‘আমি মাহাদিবা। কেন?’

আপনাদের ভেতরে ডাকছে। আসুন।

‘কে ডাকছে? ভিতরে বসার মত সিট নেই। এত মানুষের ভিড়ে কিভাবে যাব।

আপনাদের জন্য সিট রাখা হয়েছে, আপু। চলুন।

সিট রাখা হয়েছে মানে? কে রাখবে সিট?

ছেলেটা আর কোন কথা বাড়াল না। হাঁটছে আর পিছন ফিরে মেঘদেরকে যাওয়ার জন্য ইশারা দিচ্ছে।

আরো পড়ুন

মেঘরা ও ছেলেটার পিছন পিছন যেতে লাগল। কিছুটা এগোতেই দেখলে, মিষ্টি, সাদিয়া পাশাপাশি দুটো চেয়ারে বসে আছে। তাদের পাশে আরো দুটো চেয়ার ফাঁকা। মেঘদের দেখামাত্র ইশারা করল। মিষ্টি, সাদিয়া দুজনেই মেঘদের ডিপার্টমেন্ট পড়ে।

তারা ভার্সিটি হোস্টেলে থাকে।

এরকম একটি প্রোগ্রামের সামনের দিকে সিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।’

মেঘ মিষ্টি কে জিজ্ঞাসা করল, 

সামনে বসার জন্য কি ভোরবেলা থেকে এখানে এসে অপেক্ষা করছিলি?

‘না! আমাকে আর সাদিয়াকে ডেকে এনে বসানো হয়েছে।

‘কে ডেকেছে?

সাদিয়া স্টেজের দিকে ইশারা করে বলল, ওই যে ফর্সা করে ভাইয়াটা। ভাইয়ার নাম সম্ভবত লিমন। আরেকটা ভাইয়া ছিল নাম আয়মান।

বাহ!. হোস্টেলে থাকিস বলে সেলিব্রেটি হয়ে গেলি।

মিষ্টি বিড়বিড় করে বলল, 

সেলিব্রেটি আমরা না তুই।

মেঘ আশ্চর্য নয়নে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,

‘আমি!’

মিষ্টি সাদিয়া দুজনেই উপর নিচ মাথা নাড়ল। মেঘ আবারও প্রশ্ন করল,

কিভাবে?’

আমরা কিভাবে বলব। আয়মান ভাইয়া আমাদের দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি মেঘের বান্ধবী? আমরা প্রথমে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন মেঘ? তারপর লিমন ভাইয়া বললেন মাহদিবা খান মেঘ। তখন বুঝলাম তোর কথা বলছেন। হ্যাঁ বলায় আমাদের এনে এখানে বসিয়ে রেখে গেছেন। এই স্পেশাল ট্রিটমেন্টর সব ক্রেডিট তোর।

‘কিন্তু আমি তো ওনাদের চিনি না।

মিষ্টি বলল,,

‘হতে পারে ওনারা তোকে খুব ভালোভাবে চিনে। হতে পারে ওনাদের মধ্যে কেউ তোকে পছন্দ করে।

মেঘ এখন অবাক চোখে তাকাল বন্যা পাশে বসে হাসতে হাসতে মেঘের কাঁধে মাথা রেখে বলল,

‘আবার হতেও পারে ওনারা মেঘের ভাইয়ের বন্ধু।

‘মানে?’

‘তানভীর ভাইয়ার বন্ধুও তো হতে পারে।

মেঘ শক্ত কণ্ঠে বলল,,

‘ভাইয়া এমন নামে কোনো বন্ধু আছে বলে আমার জানা 

নেই।

‘তোর ভাইয়ের সব বন্ধুদের কি তুই চিনিস।

না। কিন্তু বাসায় কথা বললেন নাম তো শুনি। আচ্ছা বাদ দে। যা ইচ্ছে হোক। আমার কি।

আমরা প্রোগ্রাম দেখতে এসেছি, আপাতত সেটাই মনোযোগ দেই।

আধাঘন্টা হতে না হতেই দু টো অচেনা মেয়ে ডাকল, মাহদিবা আপু…!

মেঘ ঘাড় ফিরিয়ে বলল,

‘জি।’

আরো পড়ুন

 ‘এগুলো আপনার জন্য পাঠিয়েছেন।

মেঘ, বন্যা কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেয়েগুলো কিছু চিপসের প্যাকেট, কোমল পানীয় সাথে একটা চিরকুট ধরিয়ে ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে গেল।

মিষ্টি, সাদিয়া মজার ছলে বলল,

‘আমরা বলেছিলাম না, তুই খুব স্পেশাল। মনে হয় স্টেজের ভাইয়াটা পাঠিয়েছেন!’

মেঘ একবার স্টেজের দিকে তাকাল। আপাতত গানের প্রোগ্রাম বন্ধ আছে। লিমন আয়মান সহ বেশ কয়েকজন স্টেজের এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছে।মেঘ মিষ্টিদের দিকে খাবার গুলো দিয়ে দিল। হাতে থাকা চিরকুটটা ধীরে সুস্থে খুলল। তাতে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা__

রংধনুর সাতরঙে রাঙাব তোমায়,

তুমি আছো আমার হৃদয়ের মনিকোঠায়…

চিরকুটের নিচে ছোট করে লেখা~AS~

মেঘ চিরকুটের দিকে তাকিয়ে রইল।

মেয়েকে দেওয়া চিরকুটে M লেখা থাকার কথা ছিল।কিন্তু A বা S কেন?

তবে কি অন্য কারো চিরকুট ভুল করে মেঘের কাছে চলে এসেছে?

মিষ্টি, সাদিয়া চিপসের প্যাকেট খুলে আপন মনে খাওয়া শুরু করেছে। বন্যা তখনো নিশ্চুপ। পরিস্থিতি বোঝতে কিছুটা সময় নিচ্ছে।

মেঘ অকস্মাৎ ধমক দিল, 

এই কার না কার জন্য পাঠিয়েছে চিপস। তোরা খাচ্ছিস কেন?’

তোর জন্য পাঠিয়েছে। মেয়েগুলা তোকে চিনে বলেই দিয়েছে।

‘চিরকুটে আমার নাম নেই। অন্য কারো নাম লেখা।

‘দেখি।’

মিষ্টি চিরকুটটা হাতে নিয়ে পড়ল। আড়চোখে মেঘের দিকে তাকিয়ে বলল,,

বাহ! কি সুন্দর কথা! কে দিল রে

‘জবাবে মেঘ বলল,, 

তোদের ভাইয়া..

বন্যা পাশ থেকে ঠাট্টা স্বরে বলল,, 

ভাইয়া…! কোথা থেকে আসলো?

‘জানি না।

কিছু সময়ের বিরতির পর আবারও প্রোগ্রাম শুরু হলো। মেঘ একবার স্টেজের দিকে দেখছে। আবার হাতে চিরকুটটার দিকে দেখছে। চিরকুটের দুটো লাইন যতবার পড়ছে ততবারই বুকের ভেতরটা মুচোড় দিয়ে ওঠছে। তাই অনুভূতি মেঘের জীবনে প্রথমবার ঘটেছে। যা প্রকাশের ভাষা নেই…..!

এই গল্প প্রকাশের জন্য লেখকের অনুমতি আছে। অননুমোদিত কপি বা পুনঃপ্রকাশ নিষিদ্ধ।  

Published with the author’s permission. Unauthorized copying or republication is prohibited.

           আবিরের স্প্যারো পর্ব-৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *