প্রেমের বাজিমাত পর্ব-৩০ | Premer Bajimat Part-30

প্রেমের বাজিমাত

লেখনিতে রোজও_রুশা

পাঠ_৩০


নিলয়কে বর-এর আসনে বসে থাকতে দেখে মুহূর্তের জন্য যেন সময়টাই থেমে গেল।
রুশা আর হেরা—দুজনেই স্তব্ধ। চোখ দুটো বিস্ফারিত, ঠোঁট কাঁপছে, কিন্তু কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। তারা কল্পনাও করেনি—এই জায়গায়, এই মুহূর্তে, নিলয়কে দেখতে হবে!

হেরার বুকের ভেতর ধকধক শব্দ যেন বাইরে থেকেও শোনা যাচ্ছে। তার দৃষ্টি বারবার নিলয়ের মুখে গিয়ে থামছে—এই কি সত্যি? নাকি সে কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছে?

অন্যদিকে নিলয়… বাইরে থেকে যতটা শান্ত দেখাচ্ছে, ভেতরে ততটাই তোলপাড়। হাতের আঙুলগুলো কাঁপছে, ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। তবুও সে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছে—কারণ আজকের দিনটার জন্য সে অনেক অপেক্ষা করেছে!

জাওয়াদ খানের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় গোপন রেখে, কৌশলে, ধীরে ধীরে তার বিশ্বাস অর্জন করেছে সে। হেরার প্রতি নিজের ভালোবাসা বোঝাতে গিয়ে কতবার নিজেকে ভেঙে ফেলেছে, কিন্তু একবারও পিছু হটেনি।
আর এই পুরো খেলাটা… শামসুলের নিখুঁত পরিকল্পনা।

বিয়ের কোনো জাঁকজমক নেই। কোনো শপিং হয়নি। কিন্তু তবুও—সবচেয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে হেরাকে।

আরো পড়ুন

নিলয়ের আনা লাল টুকটুকে শাড়িটা…
যেন তার প্রতিটা স্বপ্নের রং মিশে আছে তাতে।

কত রাত জেগে সে কল্পনা করেছে—
লাল ঘোমটার আড়ালে নির্বাক মুখ লুকিয়ে বসে আছে হেরা…
মাথায় হালকা লাল ঘোমটা, হাতে কানে সোনার গয়না। মুখে কোনো মেকআপ নেই—এমনকি কাজল পর্যন্ত না।
তবুও… যেন চাঁদের আলোও ম্লান হয়ে যায় তার সামনে। নিলয়ের চোখ সরছে না।
সে যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না—এই মেয়েটা সত্যিই তার সামনে বসে আছে।

রুশা ইচ্ছে করেই হেরাকে সাজায়নি।
তার মনে একটা দ্বন্দ্ব—
নিলয়কে সে পছন্দ করে, কিন্তু… হেরা তো এখন অন্য কারো স্ত্রী! তার ভেতরে একটা অজানা অপরাধবোধ কাজ করছে।

কাজি সাহেব গম্ভীর গলায় দেনমোহর ঘোষণা করলেন—
“এক কোটি টাকা।”

চারপাশে চাপা গুঞ্জন।
হেরার বুক কেঁপে উঠলো।
নিলয়ের চোখে তখন অদ্ভুত এক দৃঢ়তা।

“কবুল বলুন…”

কাজি আবার বলতেই—
ঠিক সেই মুহূর্তে—
ধড়াম!

দরজা যেন ঝড়ের মতো খুলে গেল।
কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই—
নাভান ছায়ার মতো এসে নিলয়ের গলা চেপে ধরলো!

“আহ!”

নিলয়ের চোখ মুহূর্তেই বিস্ফারিত। শ্বাস আটকে যাচ্ছে। হাত দুটো নাভানের কব্জি ছাড়ানোর চেষ্টা করছে—কিন্তু পারছে না!

চারপাশে হইচই পড়ে গেল।
হেরা চমকে উঠে দাঁড়িয়ে গেল—
“অসভ্য গিটার ওয়ালা!”

রুশার মুখে এক ফলি হাসি দেখা গেলো। কেউ তা খেয়াল করে নি।
সবচেয়ে বেশি অবাক—জাওয়াদ খান। তার চোখে বিস্ময়, রাগ আর অবিশ্বাস একসাথে খেলা করছে। এত তাড়াতাড়ি নাভান এখানে কিভাবে পৌঁছালো—এটা যেন তার মাথায় ঢুকছেই না!

জাওয়াদ খান গর্জে উঠলেন—
“শেহতাজ! এটা কী হচ্ছে?! তুমি আমার হবু মেয়ের জামাইকে মারছো কেনো?”

নাভানের চোখ লাল। মুখে তীব্র রাগের ছাপ।
সে দাঁত চেপে বললো—
“আপনার মেয়ে? অন্যের বিয়ে করা বউকে আবার বিয়ে দিচ্ছেন—বাহ, চমৎকার!”

কথাটা যেন বজ্রপাতের মতো পড়লো।
চারপাশে নিস্তব্ধতা।

হেরা যেন জমে গেল।
জাওয়াদ খান গর্জে উঠলেন—
“এই বিয়ে আমি বা আমার মেয়ে—কেউ মানি না!”

নাভান ঠাণ্ডা, কিন্তু ভয়ংকর গলায় বললো—
“না মানলেই কি বিয়ে মিথ্যে হয়ে যাবে?”

“তোমাদের এই বিয়ের কোনো সাক্ষী নেই!
না আছে আইনি কোনো কাগজ!”

নাভান এবার একটু হেসে উঠলো—
একটা ঠাণ্ডা, রহস্যময় হাসি।

“সবই আছে…”

“মানে?”—জাওয়াদ খানের কণ্ঠে প্রথমবারের মতো দ্বিধা।

নাভান ধীরে ধীরে পকেট থেকে কিছু কাগজ বের করলো…
তার চোখে তখন বিজয়ের ঝলক।

“সাক্ষী আছে…
রেজিস্ট্রি পেপার আছে…
সব কিছুই আছে।”

আরো পড়ুন

ঘরের ভেতর হঠাৎ করে বাতাস ভারী হয়ে উঠলো…

নিলয়—এখনো শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছে। চোখে ভয় আর অবিশ্বাস।
জাওয়াদ খান ছেলের দিকে তাকিয়ে পেপার হাতে নেয়। হেরার রাগ—হচ্ছে কি পেয়েছি লোকটা তাকে!
হেরা সামনে গিয়ে ঘোমটা সরিয়ে বলে উঠল—

ঘরের ভেতরটা যেন ঝড়ের আগের নীরবতা…
সবাই আছে, কিন্তু কেউ কথা বলছে না। শুধু চোখে চোখে আগুন।

হেরা দাঁড়িয়ে আছে সবার সামনে। মুখে কঠিন অভিব্যক্তি, চোখে জেদ।

“শুনুন… আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি—এই বিয়ে আমি মানি না। আর আপনাকে আমি পছন্দও করি না। না কোনো কিউরিসিটি আছে আপনার প্রতি। অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়ে এটা—কোনো বিয়ে নয়।”

তার কথা শেষ হতেই, নাভান ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এলো।
তার চোখে আজ অন্যরকম কিছু—রাগ, দখলদারিত্ব… আর অদ্ভুত এক জেদ।

“ফাকিং তোর মানা না মানা…
ফাকিং তোর অ্যাটিটিউড…
ফাকিং তোর জেদ…
ফাকিং তোর পছন্দ-অপছন্দ…”

“বিয়ে হয়েছে মানে তুই আমার অধিকার।”

হেরা নাভানের দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে আছে।
জাওয়াদ খান পেপার হাতে নিয়ে বলল—

“ওগুলো কি সত্যিই রেজিস্ট্রার পেপার?”

নাভান হেসে উঠলো, ঠোঁটে তাচ্ছিল্য—

“বয়স কি খুব বেশি হয়ে গেছে নাকি? লন্ডনের টপ বিজনেসম্যান হয়ে একটা রেজিস্ট্রি পেপার চিনতে পারছে না?”

জাওয়াদ খান এবার সামনে এগিয়ে এলেন। মুখ শক্ত, চোখে রাগ—

“এটা কখনোই হবে না! আমরা এই বিয়ে মানি না। আজ হেরার বিয়ে হবে নিলয়ের সাথে। তুমি এখান থেকে চলে যাও।”

নাভান থামলো…
তারপর ধীরে ধীরে মাথা নাড়লো।

“নিজের ছেলের বউকে অন্যের সাথে বিয়ে দিচ্ছেন… আর যার সাথে বিয়ে দিচ্ছেন, সে কে জানেন?”

ঘরের সবাই চুপ।

নাভান ঠান্ডা গলায় বললো—
“শামসুল আজমিরের প্রথম ঘরের ছেলে… নিলয় আজমির চৌধুরী।”

এক মুহূর্তে যেন পুরো ঘরটা জমে গেল।

জাওয়াদ খান অবিশ্বাসে তাকিয়ে রইলেন নিলয়ের দিকে—
“নিলয়… এটা কি সত্যি?”

নিলয়ের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
সে বুঝে গেছে—সব শেষ।
তবুও সে সামনে এগিয়ে এলো—

“আংকেল… আমি সত্যি এই শত্রুতার কিছুই জানতাম না। আমি শুধু জানি আমি হেরাকে ভালোবাসি। আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারবো না… তাই আমি পরিচয় লুকিয়েছিলাম। প্লিজ… আমাকে ভুল বুঝবেন না…”

জাওয়াদ খানের চোখে এবার স্পষ্ট ভাঙনের শব্দ।
বিশ্বাস… এক মুহূর্তে চুরমার।

হেরা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
তার দৃষ্টি একবার নিলয়ের দিকে… তারপর নাভানের দিকে।

নাভান আবার কথা বললো—

“বাবা তোমার বউকে তোমার থেকে আলাদা করেছিল…
আর আজ তার ছেলে আমার বউকে বিয়ে করতে এসেছে।
বাপ-ছেলের পছন্দ একদম এক… ঘুরে ফিরে আমাদের ঘরেই এসে পড়ে।”

“দুনিয়াতে কি মেয়ের অভাব বাপ-ছেলের জন্য, যে অন্য জনের বউ নিতে চাস?”

নিলয়ের আকুতি দেখেও জাওয়াদ খানের মন গলেনি।
ভালোবাসা ঠিক আছে, কিন্তু তার থেকে বড় জিনিস—জেলাসি।

জাওয়াদ খান কড়া গলায় বললেন—
“আমি তোমার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দিবো না, নিলয়। তুমি ভুল করেছো, আর আমিও ভুল করেছি তোমার সম্পর্কে না জেনে বিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি। যে ভুল আমি দুই যুগ আগে করেছি—সেই একই ভুল আমি আর করবো না। ওই বংশের একটা নাড়ি-নক্ষত্রকেও আমি আমাদের পাশে রাখবো না।”

জাওয়াদ খান এর কথায় অধীর শিশ বাজিয়ে বলে।

নতুন বছরে নতুন বাশ খাইতে মজা ১২ মাস। নিলয় আগেও বলেছি ব্রো,,এ মাল সুবিধার নয়,দেখলি তো গোল কই থেকে দিয়ে দিলো।

” নিলয় হেরা পাশে এসে দাঁড়ায়।

” আমি ভুল হতে পারি কিন্তু তোমায় ভালোবাসার মানুষ আমি একটু ও ভুল করি নি হেরা ফুল।

হেরা আর রুশার মাথার উপর দিয়ে সব গেছে,কিছুই তারা বুঝতে পারে না।

” ভেবেছিলাম খুব সহজে পেয়ে জাবো আমার হেরা ফুল কে,কিন্তু তুই সহজ হতে দিলি না। এবার বুঝতে পারি নি ঠিক আছে,কিন্তু আমি আমার ভালোবাসা দিয়ে হেরার মন ঠিকি জিতে নিবো।

নিলয়ের চোখে তখন একরাশ জেদ, একরাশ ভালোবাসা — আর ভাঙতে না চাওয়া একরকম অহংকার। কিন্তু তার সেই আকুতি, সেই কণ্ঠের কাঁপনও গলাতে পারলো না জাওয়াদ খানের কঠিন মন।

জাওয়াদ খান ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। তার চোখে যেন আগুন, কণ্ঠে বরফের মতো শীতল দৃঢ়তা—

“ ভালোবাসা ? ভালোবাসা অনেক বড় কথা নিলয়… কিন্তু তার থেকেও বড় একটা জিনিস আছে — সম্মান, বংশ, আর বিশ্বাস।
যে ভুল আমি দুই যুগ আগে করেছি… সেই ভুল আবার করবো ভাবছো?“আমি আমার মেয়েকে তোমার হাতে তুলে দিবো না। কোনোভাবেই না।
আর অই বংশের কারো সাথে আমাদের আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না। শেষ!”

কথাগুলো যেন ছুরি হয়ে গিয়ে বিঁধলো নিলয়ের বুকে। হঠাৎ সেই ভারী মুহূর্তে অধীর হালকা একটা সিটি বাজিয়ে পরিবেশটা ভেঙে দিলো —

“ উফফ ! নতুন বছরে নতুন বাশ খেতে মজা১২ মাস
বলেছিলাম না ব্রো… এই মালটা সুবিধার নয় ! একদম সিনেমার ভিলেন ! দেখলি সোজা বাংলাদেশ থেকে নেপালে এসে গোল দিয়ে দিলো। আর তুই গোল কিপার না থাওতেও গোল দিতে পারলি না,, চু চেড

তার কথা শুনে পাশে রুশা আর তার বাবা মুখ চেপে হাসি আটকাতে লাগলো, কিন্তু পরিস্থিতি এখনো টানটান। নিলয় ধীরে ধীরে হেরার সামনে এসে দাঁড়ালো। তার চোখে এবার পানি, কিন্তু কণ্ঠে অদ্ভুত দৃঢ়তা —

“ আমি ভুল হতে পারি হেরা…
কিন্তু তোমাকে ভালোবাসার জায়গায় আমি একটুও ভুল করিনি।”

হেরা আর রুশা একে অপরের দিকে তাকালো—সবকিছু যেন তাদের মাথার উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে।

নিলয় একটু হেসে মাথা নুইয়ে বললো—

“ ভাবছিলাম খুব সহজে পেয়ে যাবো আমার ‘হেরা ফুল’কে…
কিন্তু তুই তো খেলা জমিয়ে দিলি। ঠিক আছে… খেলা এখন শুরু হলো।”

সে এক পা পিছিয়ে গিয়ে চারপাশে তাকালো, যেন সবাইকে সাক্ষী বানাচ্ছে—

“ আমি হেরে যাওয়ার লোক না।
আমি লড়বো… আর আমার ভালোবাসা দিয়েই হেরার মন জিতে নেবো।”তোকে সহজ ভাবে নেয়া আমার ভুল ছিলো।

নাভান হালকা হাসলো কণ্ঠে তখন অন্যরকম গভীরতা–

“ আমি সেই বীজগণিতের অজানা সূত্র…
যাকে প্রথম দেখায় সহজ মনে হয়, কিন্তু হিসাব মেলাতে গেলে — জীবনের সব অংক এলোমেলো হয়ে যায়।আমাকে বুঝতে চাও? বইয়ের নিয়মে হবে না…
কারণ আমি সিলেবাসের বাইরের এক জটিল সমীকরণ।আমাকে সহজ ভেবে যারা এড়িয়ে যায়…
শেষে তারাই সবচেয়ে বড় ভুলটা করে বসে।তাই সাবধান…
আমি যতটা সহজ দেখাই — ভেতরে ততটাই গভীর, ততটাই ভয়ংকর ।”


“তুমি চলে যাও নিলয়!

” জাওয়াদ খান নিলয়কে বলে চোখ সরিয়ে ফেললো,এ কয় দিনে ছেলেটাকে তিনি খুব ভালোবেসে ফেলেছে,দেখেছে হেরার প্রতি অঘাত ভালোবাসা,কিন্তু কিছু ভালোবাসা আকাশ ছোয়া হলেও নিয়তি এক হতে দেয় না। নাভান নিলয় কে কটাক্ষ করে বলে উঠে ।

” বিয়েতে এ্যাটেন্ড করেছিস, বিয়ের মিষ্টি না খেয়ে চলে যাবি। অধীর মিষ্টি নিয়ে আয় ।

নিলয় কে করা অপমানে এবার হেরা মুখ খুলে।

“শুনুন অসভ্য অহংকারী গিটার ওয়ালা, আমি জানি না কি এমন সম্পর্ক বাবার সাথে, এতো দ্বন্দ্ব আমি জানতেও চাই না,,নিলয় কে বিয়ে না করলে যে আমি আপনে মেনে নিব এটাও কিন্তু নয়,,আমি অইস্পব বিয়ে মানি না,,!!

” নিলয় যেতে যেতে কথা টা শুনে হাসে,,নাভান এর দিকে তাকিয়ে চোখে এক ফোটা পানি ফেলে চোখ টিপ দিয়ে চলে যায়,যা সবার অগোচরে করেছে নিলয়। মূলত হেরা যে নাভান কে মানে না এটাই যেনো উপোহাস করলো হেসে।

নিলয় যেতে নাভান ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে দাঁড়ালো তার বাবার সামনে — জাওয়াদ খানের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে।

তার চোখে তখন আর কোনো দ্বিধা নেই—ছিল বছরের পর বছর জমে থাকা ক্ষোভ, অভিমান আর এক অদ্ভুত কঠোরতা।

জাওয়াদ খানের মুখ শক্ত হয়ে গেল। তার চোখে ভয় স্পষ্ট। নাভান এবার আর থামলো না।

“ একটা সম্পর্কের মাঝে সবচেয়ে দরকার কী জানেন?বিশ্বাস। যেটা আপনি কখনো করেন নি আমার মাকে । আপনার অবিশ্বাস এর জন্য একটা সুখের পরিবার ভেঙে গিয়েছিলো ।”

” নাভান,,আমি ঠিকি ছিলাম!

তার কণ্ঠ ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠলো —

“ আমার ছোটবেলাটা কেটেছে ভালোবাসা না পাওয়ার যন্ত্রণায়…
আর আপনি আজও ভাবছেন — আপনি ঠিক ছিলেন?”

জাওয়াদ খান কেঁপে উঠলেন। যেনো প্রতিটা শব্দ তার বুকের ভেতর ছুরি হয়ে ঢুকছে।

নাভান এক এক করে সব সত্য খুলে বলতে লাগলো— মায়ের কষ্ট, বাবার অবিশ্বাস, ভাঙা সম্পর্কের ইতিহাস… সবকিছু। প্রতিটা কথার সাথে সাথে জাওয়াদ খানের মুখের রং পাল্টাতে লাগলো। তার চোখে রাগ, লজ্জা, আর গভীর অনুতাপ একসাথে লড়াই করছে।

হঠাৎ তিনি চিৎকার করে উঠলেন—

“ চুপ করো, নাভান!” কি বলছো এসব?

কিন্তু সেই চিৎকারে আগের মতো জোর নেই।
নাভান শান্ত গলায় বললো—

“ আজ আর চুপ করবো না, বাবা।
অনেকদিন চুপ ছিলাম…
আজ সত্যটা বলবো–পুরোটাই বলবো।”

নাভান এর প্রতিটি কথা বলা, ঘরের বাতাস ভারী হয়ে উঠলো। ফারুক সিকদার মাথায় হাত দিয়ে বসে পরেছে,,হেরা নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেছে।
রুশা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে। আর জাওয়াদ খান… তিনি প্রথমবারের মতো নিজের ছেলের সামনে নিজেকে ছোট মনে করছেন। শেষে নাভান থেমে গিয়ে নিচু গলায় বলে উঠে—

“ একটা সম্পর্ক টিকে থাকে বিশ্বাসে… যেটা তুমি কখনোই দাওনি। আর তার জন্য আমার পুরো শৈশব কেটেছে তোমাদের ভালোবাসার অভাবে… তুমি আমাকে সব দিক থেকে ঠকিয়েছো বাবা…তোমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঠকেছি আমি–আর তোমার কাছ থেকে এখন ঠকছি ”

” কথাগুলো শেষ হতেই জাওয়াদ খান যেনো ভেঙে পড়লেন। ধপাস করে সোফায় বসে পড়লেন তিনি। মাথার ভেতর ঝড় বইছে—কাজল রেখা তাকে ছেড়ে যায়নি… এত কিছু তার অগোচরে ঘটেছে! ফুলের মতো পিচ্চি মেয়েটাকে ভুল বুঝেছে,,সেদিন কেনো আরো যাচাই করলো না সে,,নিজের উপর ধিক্কার জানাচ্ছে সে,,সেই অল্প বয়সে নিজের স্ত্রীর সাথে সাথে যে নিজের সন্তান এর প্রতি ও অন্যায় করেছে সে,,হ্যাঁ নিজেকে এখন পাপি মনে হচ্ছে,আচ্ছা তার ফুলের মতো বউ খুব কি কষ্ট পেয়েছে,,চোখ বন্ধ করে একটু উপলব্ধি করে জাওয়াদ খান,,হ্যাঁ তার পিচ্চি বউ টা খুব কষ্ট পেয়েছে। বুকে তিব্র ব্যাথা অনুভব করে জাওয়াদ খান। না… তাকে জানতে হবে… সব জানতে হবে।
তিনি হঠাৎই চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বললেন—

“ ফারুখ আমার ভিসা রেডি কর ! আমি এক ঘন্টার মধ্যে বাংলাদেশ যাচ্ছি। মা, আপনিও চলুন আমার সাথে!”আর যা ঘটেছে তা সব ভুলে যান,,বাবা ভুল করেছে,আর ভুল করবে না,, এখন সব সিদ্ধান্ত আপনার।

কথাটা বলার পরও তার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে ধকধক করছিল। নাভান সোফায় হেলান দিয়ে বসে ছিল। যেন কিছুই হয়নি—ছেলের নির্লিপ্ত ভাব যেনো অন্য কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে জাওয়াদ খান এর মনে।
সে মাথা একটু কাত করে ঠান্ডা গলায় বলল–

“ আপনি যান… আপনার স্ত্রীর কাছে। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে থাকবো। তার আগে,, এই রুম থেকে বের হন।” ৫ মিনিট এর জন্য।

“ কেন ?”

জাওয়াদ খান দাঁত চেপে বললেন।

নাভান ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো।
তার ভেতরে কোনো তাড়াহুড়া নেই… কোনো ভয় নেই… ঠিক যেভাবে একসময় জাওয়াদ খান নিজে দাঁড়াতেন সবার সামনে।

“ ছেলে আর ছেলের বউয়ের ব্যক্তিগত মুহূর্ত দেখতে না চাইলে… বের হওয়াই ভালো।”তোমার জন্য।

এক মুহূর্তে ঘরের বাতাস ভারী হয়ে গেল।
জাওয়াদ খান গর্জে উঠলেন–

“ শেহতাজ! আমার মেয়ে এই বিয়ে মানে না। তুমি তাকে জোর করতে পারো না!”

নাভানের ঠোঁটে কটাক্ষের হাসি ফুটে উঠলো–

“ আমি অনেক কিছুই পারি… চাইলে আপনাকে দাদা—নানা বানাতেও সময় লাগবে না। তবে এখনই সে প্ল্যান নেই… একটু শান্তিতে থাকতে চাই।”রেস্ট নিতে চাই।

পাশে রুশা মুখ চেপে হাসি আটকাতে গিয়ে কাঁপছে। অধীর যেনো চড়ম শকড,,এ কোন নাভান কে দেখছে,,অধীর রুশার কাছে দাড়িতে বলে।

এটা কি আমার সে গম্ভির ভাই,,যার মুখ থেকে তিতা কথা ছাড়া কথাই বের হতো না,,এ কেমনে এতো ঠোঁট কাটা হলো??

অধীর এর কথায়,রুশা দাত দিয়ে নক কাটতে কাটতে বলে।

আমিও না! আগে ভাবতাম,,চকলেট হিরো,হাসে না, মজা করে না, শু… আর এখন দেখি,, একদম ডার্ক কমেডির কিং!

সবার মন অন্য কিছু ভাবলেও, জাওয়াদ খানের ভেতরে যেন অন্য কিছু শুরু হয়ে গেছে।
এই ছেলেটা…এই চোখের চাহনি…এই কথা বলার ধরন…তারই প্রতিচ্ছবি। তাও থতমত খেয়ে বলে উঠে।

“ ছিঃ! এসব কী কথা শিখেছো? বাবার সামনে এসব বলতে লজ্জা করে না?”

নাভান এবার সরাসরি তার চোখে চোখ রাখলো—

“ আপনি যে পিচ্চি বয়সে বিয়ে করে ৮ মাসেই আমাকে দুনিয়ায় আনতে পেরেছিলেন… তখন লজ্জা কই ছিল?”

কথাটা যেন সোজা গিয়ে আঘাত করলো জাওয়াদ খান এর সম্মানে। জাওয়াদ খান থেমে গেলেন।
তার মুখের রাগটা এক সেকেন্ডে ভেঙে পড়লো।

চোখের সামনে হঠাৎই ভেসে উঠলো নিজের অতীত— একই রকম জেদ… একই রকম ভালোবাসা… সবকিছুর বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের মতো করে বাঁচার এক পাগলামি।

“ এটা তো… আমি…”

মনের ভেতর কথাটা বাজতে লাগলো জাওয়াদ খান এর।

তিনি ধীরে ধীরে বুঝতে পারলেন—
যাকে এতক্ষণ দোষ দিচ্ছিলেন…
সে তো আসলে তারই প্রতিচ্ছবি।

তারই ভুলগুলো…তারই জেদ…
তারই ভালোবাসার উন্মাদনা—সবকিছু যেন নতুন করে দাঁড়িয়ে আছে নাভানের মধ্যে।
মুখটা শক্ত করে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলেন তিনি।
কারণ চোখের ভেতরের সেই অপরাধবোধটা কেউ দেখে ফেলুক—এটা তিনি চান না।

“ আমি কি তাহলে ভুল করেছিলাম?”
“ নিজের ছেলেকে না বুঝেই… তার জীবনটাকে কঠিন করে দিয়েছি?”

বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে উঠলো। তাও চুপ থাকলেন তিনি।

নাভান আবার ঠান্ডা গলায় বলল–

“ যাই হোক… একটা কথা ক্লিয়ার করে দিই।”

সে এক পা এগিয়ে এল জাওয়াদ খান এর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পকেটে দুই হাত গুজে তিক্ষ্ণ চোখে বলে উঠে।

“ বারবার ‘আমার মেয়ে’ বলছেন কেন? ‘আমার ছেলের বউ’ বলুন… তাহলেই তাকে কাছে পাবেন।”
“ না হলে… দূরে রাখবো।”মেয়ের জামাই বানিয়ে দিলে মেয়েকে কাছে তো দূর বছরে ১ বারো দেখতে পারবেন না।

জাওয়াদ খান এবার সত্যিই থতমত খেয়ে গেলেন।

এই একই টোনে…এই একই দৃঢ়তায়…
একসময় তিনি কথা বলতেন। আজ সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তার ছেলে। তিনি কথা বলতে চাইলেন… কিন্তু কোনো শব্দ বের হলো না।
কারণ তিনি বুঝে গেছেন—

এই লড়াইয়ে তিনি জিতলেও… হারবেন।
আর হারলেও… হয়তো একটু জিতবেন।

নাভান শেষবারের মতো তাকিয়ে বলল,,

“ সিদ্ধান্ত আমার … কিন্তু চয়েজ তোমার ” কি বলে সম্মোধন করবে তুমি ?

এরপর হেরার হাত শক্ত করে ধরে তাকে একটা রুমে নিয়ে গিয়ে দরকা বন্ধ করে দিলো।

নাভান এবার এক পা এগিয়ে এসে ধীরে, কিন্তু ভয়ংকর স্বরে বললো–

“ বারবার ‘মেয়ে’ বলছেন কেন ? ‘ছেলের বউ’ বলো … তাহলেই তাকে কাছে পাবে। না হলে — দূরে রাখবো। সিদ্ধান্ত আমার চয়েজ ইউর”

এরপর আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে হেরার হাত শক্ত করে ধরে তাকে একটা রুমে নিয়ে গিয়ে দরজা আটকে দিল।

হেরাকে রুমে নিয়ে যেতে দেখে ড্রয়িং রুমে ভেতর নীরবতা নেমে এলো। জাওয়াদ খান জেতে চাইলে অধীর আটকিয়ে দিলো।

” উফফ ফাদার বাংলাদেশ,, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে জেতে নেই। তুমি দেখলে না তখন কি বলেছিলো ব্রাদার বাংলাদেশ,,

জাওয়াদ খান স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। অধীর কে ভালো করে পরোখ করে নিলো,কিন্তু কি ভাবছে তা একমাত্র তিনি জানেন।

দরজা বন্ধ করতেই হেরার হুস আসে,এতোক্ষন নাভান এর মায়ের কথা বলা শুনে,হেরা কিছু মনে করতে চাইলো কিন্তু বরাবরি বের্থ হচ্ছে। নাভান এর মায়ের মুখ টা খুব পরিচিত লাগে,,তার মত কেমন সুন্দর,,দেখলে মা মেয়ে ভাববে অনেকেই। কিন্তু তা নয়,,হেরা রাগি চোখে তাকায় নাভান এর দিকে। নাভান দরজা আটকিয়ে ঘুরে দাঁড়ালো।
চোখে আগুন। কিন্তু সেই আগুনের গভীরে,আছে জালিয়ে দেয়ার ক্ষমতা যে কাওকে,কিন্তু নাভান তো শুধু হেরা কে এই আগুনে জ্বালাতে চায়।
সে ধীরে ধীরে হেরার দিকে এগিয়ে এলো…
নাভান হঠাৎই ঘুরে দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকালো।
চোখে ভয়ংকর আগুন। এক মুহূর্ত দেরি না করে দাতে দাত চেপে বলে উঠে নাভান ।

“ আমাদের বিয়ে অস্বীকার করেছিস তুই…!!”

নাভান বাইরে থেকে যতটা স্বাভাবিক ছিল, হেরার সামনে এসে যেন ততটাই অস্বাভাবিক হয়ে উঠল। রক্তচোখে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠল—

“ কবুল তোর কয়বার পড়তে ইচ্ছে করে, হ্যাঁ? কয়বার বিয়ের শখ জাগে তোর? আর এই গয়না, এই শাড়ি পরে কার জন্য অপেক্ষা করছিস? তোর সেই প্রেমিক পুরুষের জন্য?”

সে এক পা এগিয়ে এল, চোখে ভয়ংকর দৃষ্টি —

“ শুনে রাখ ! এই শেহতাজ খান নাভান নিজের জিনিস কাউকে শেয়ার করে না… বিন্দু পরিমাণও না।”

হেরা দাঁড়িয়ে, বুক সোজা করে ভয় সেও পাচ্ছে আজ,, কারন এর আগে নাভান কে এমন রাগতে দেখে নি,,,তাও নিজেকে ভিতু প্রমান না করায় বেস্ত কাঁপা গলায় কিন্তু দৃঢ়ভাবে বলে উঠল হেরা,,,

“ আমি এই বিয়ে মানি না।”

“ ঠাস!”

নাভান এর এক চড়ে হেরার মুখ ঘুরে গেল।

“ আমি বিয়ে—”

“ ঠাস!”

দ্বিতীয়টা আগের চেয়েও জোরে।

“ আমি—”

“ ঠাস! ঠাস!”

চারবার বলেছিল হেরা—সে এই বিয়ে মানে না। আর প্রতিবারই নাভানের হাত উঠে গেছে তার নর তুলতুলে আপেলের মতো গালে।

হেরার তুলতুলে গাল লাল হয়ে উঠেছে, চোখে পানি জমেছে—কিন্তু সে চুপ হয়নি।

হঠাৎ নাভান হেরার শাড়ি শক্ত করে টেনে ধরে হ্যাঁচকা টানে খুলে ফেলল। পিনের আঁচড়ে কাঁধ আর পেটের চামড়া ছিঁড়ে হালকা রক্ত বেরিয়ে এলো।

নাভান কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল… তারপর হঠাৎ মুখ ফিরিয়ে নিল। পকেট থেকে লাইটার বের করে শাড়িটায় আগুন ধরিয়ে দিল। আগুন লাল কাপড়টাকে মুহূর্তেই গিলে নিতে লাগল।

“ আজ থেকে এই লাল রং তোর জন্য নিষিদ্ধ,” ঠান্ডা গলায় বলল নাভান,,কিন্তু এটা যেতো আজ থেকে হেরাকে পালন করতে হবে। নাভান আবারো ভয়ংকর সুরে বললো

ফ্রম টুডে, দ্য কালার রেড ইজ ফরবিডেন ফর ইউ।“আই হেট দিস কালার — রেড।”

হেরা নিজের অর্ধনগ্ন শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ বেয়ে পানি গড়াচ্ছে—কিন্তু সেটা রাগের। তার ভেতরে আগুন জ্বলছে… সবকিছু ভেঙে ফেলতে ইচ্ছে করছে।

ঠিক তখন বাইরে থেকে জাওয়াদ খানের ডাক ভেসে এলো।

নাভান শান্ত গলায় বলল —

“ জাস্ট দুই মিনিটে চেঞ্জ করে আসো। আর মনে রাখো রেড কালারের কিছু পরলে… এই শাড়ির মতোই তোমার শরীরে আগুন লাগিয়ে দেবো। গট ইট ?”

হেরা তাকালো তার চোখের দিকে, ঠোঁট কাঁপছে, কিন্তু ভয় নেই —

“ লাগিয়ে দিন। যে যন্ত্রণা দিচ্ছেন আমাকে… তার থেকে জ্বলে পুড়ে মরা অনেক ভালো।”

এই কথাটা যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করল।

নাভানের রাগ মুহূর্তেই বেড়ে গেল। সে দু’কদম এগিয়ে এসে হেরার কোমল, লতানো কোমর চেপে ধরে হ্যাঁচকা টানে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল।

তার শরীরের পারফিউমের গন্ধ নাকে লাগতেই হেরার ভেতরের ঘৃণা আর রাগ আরও দ্বিগুণ হয়ে উঠল।

হেরা দাঁতে দাঁত চেপে বলল—

“ অধিকার খাটাচ্ছেন ? লাভ নেই। তিন অক্ষরের ‘কবুল’ হয়তো সমাজের চোখে শরীরকে বৈধতা দেয়… কিন্তু মনের না।”

কথা শেষ করতে দিল না নাভান।

চুলের মুঠি ধরে তার মুখ নিজের দিকে টেনে এনে হঠাৎ তার ঠোঁট দখল করে নিলো । এটা কোনো কোমল স্পর্শ ছিল না—বরং এক ধরনের আঘাত, যেখানে প্রতিটা চাপ, প্রতিটা কামড়ে হেরার ঠোঁট ক্ষতবিক্ষত হয়ে উঠছিল।

মুখে লবণাক্ত স্বাদ আসতেই নাভান তাকে ছেড়ে দিল।

শ্বাস ফেলে নিচু গলায় বলল —

“ শরীরের বৈধতাই আগে নিলাম… মনেরটা না হলেও চলবে।”

তারপর ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে আবার বলল—

“ আর হ্যাঁ—দুই মিনিট সময় দিলাম। চেঞ্জ করে বের হবে। না হলে… যা এই চার দেয়ালের মধ্যে করেছি… সেটা সবার সামনে করতেও আমার এক সেকেন্ড লাগবে না।”

ঘরটা হঠাৎ আরও ভারী হয়ে উঠল।

হেরা দাঁড়িয়ে রইল…চোখ থেকে অনবরত পানি পরছে তার,কি জন্য নাভান এমন করছে তার সাথে, আর আজ নাভান কি করলো ছি লজ্জায় ঘৃণায় চোখ মুহুর্তে লাল হয়ে যাচ্ছে,,আগের সম্পর্ক তো নেই আগে নাভান ছিলো তার অপরিচিত ,আর এখন,যে মানুষ টা তার দুনিয়া,তার রক্ত নাভান এর শরীরের বয়ে যাচ্ছে,,নিজের ছেলেকে কিছু বললে যে একটু হলেও কষ্ট লাগবে জাওয়াদ খান এর,,আর সে তার বাবা কে কষ্ট দিতে চাচ্ছে না,,কিন্তু তাই বলে নাভান কে মেনে নিবে বা এমন অসভ্যতামি করবে তা মানবে না হেরা,ঘৃণায় ঠোঁট চেপে কান্না করে দেয়,,

নাভান কে বের হতে দেখে জাওয়াদ খান বলে উঠে

“আমার মেয়ে কে কই করেছো তুমি?

নাভান পকেটে দুই হাত গুজে বলে উঠে।

” বেশি কিছু করি নি,,৪ থাপ্পড় আর একটু গ্লুকোজ খাইয়ে দিয়েছি,, যাতে থাপ্পড় এর এর ক্লান্ত শরীর এনার্জিতে পূরণ হয়ে যায়।

“মা নে! তুমি গ্লুকোজ কই থেকে পেলে শেহতাজ। আর তুমি আমার মেয়েকে মেরেছো? আবার আমার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছো?

” তুমি কি এমন যে তোমার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারবো না।

” শেহতাজ আমি তোমার বাবা ” আর হেরার গার্ডিয়ান।

” তো বাবা বাবার জায়গায় থাকো না ছেলে আর ছেলের বউ এর দিকে নজর কেনো দিচ্ছো।

” শেহতাজ, এই বিয়ে আমি মানি না,,আর না আমার মেয়ে। কখনো আমি তোমার সাথে হেরার বিয়ে মানবো না,,আর আমি যা বলবো আমার মেয়ে তাই শুনবে,এমনকি সে তোমায় পছন্দ ও করে না,,

” আমিও মানি না,,তোমার সাথে আমার মায়ের বিয়ে।

চলবে,,,,?

প্রেমের বাজিমাত পর্ব-৩১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *