
”রাফসান ভাইয়া, আপনার নামেই থামে আমার কথা ভাইয়া
ভাইয়া, আপনার একটুখানি হাসিতেই যেন আমার এই অস্থির মনটা শান্তি খুঁজে পায়।
আর লুকোবার কিছু নেই, সত্যিটাই বলি আজ ভাইয়া
আমি আপনাকে ভালোবাসি, আই লাভ ইউ রাফসান ভাইয়া।”
এই! তোর এত সাহস হলো কী করে আমাকে প্রপোজ করার? হাউ ডেয়ার ইউ।”
কথাটা শেষ করার আগেই রাফসান সজোরে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল সারার গালে। থাপ্পড়ের প্রচণ্ড গতি আর আকস্মিকতায় সারা ভারসাম্য হারিয়ে ছিটকে গিয়ে পাশের দেওয়ালে ধাক্কা খেল। কপালের একপাশটা দেওয়ালে লেগে সজোরে একটা শব্দ হলো। সারা যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়ে আর্তনাদ করে উঠল, “আহহ।”
পিছন থেকে রাফসানের বন্ধু রোহান ছুটে এসে সারাকে ধরে ফেলল। রাফসানের এই রুক্ষতায় সে নিজেও স্তম্ভিত। সে রাফসানের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল, “রাফসান, তুই কি পাগল হয়ে গিয়েছিস? এইভাবে মারলি কেন? দেখ কতটুকু ব্যথা পেল মেয়েটা।”
রোহান উদ্বিগ্ন হয়ে সারার মাথার আঘাতটা দেখার চেষ্টা করল। কণ্ঠে দুশ্চিন্তা মিশে নরম স্বরে বলল,
“সারা, খুব বেশি লাগেনি তো?”
সারার চোখ ফেটে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। অপমানে আর ব্যথায় তার কণ্ঠরোধ হয়ে এসেছে। সে কোনো উত্তর দিতে পারল না, শুধু মাথা নিচু করে নিজের কান্না লুকানোর চেষ্টা করল।
রাফসানের রাগ তখনো কমেনি। বুকের ওপর দুই হাত ভাঁজ করে সে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে সারার দিকে তাকিয়ে রইল। চোখেমুখে অহংকারের ছাপ স্পষ্ট। ঠোঁট বাঁকিয়ে হালকা হাসল, তারপর বলল,
“ইউ আর সো ইরিটেটিং। তুই এত বিরক্তিকর কেন রে? তোর কি একটুও সেলফ-রেসপেক্ট নেই? তোর লজ্জা করল না আমাকে প্রপোজ করতে? আই মিন, সিরিয়াসলি। লুক অ্যাট ইয়োরসেলফ ইন দ্য মিরর।”
রাফসান এক পা এগিয়ে এসে সারার চিবুকটা চেপে ধরার চেষ্টা করল, কিন্তু পরক্ষণেই ঘৃণাভরে হাত সরিয়ে নিল। যেন সারাকে স্পর্শ করাটাও তার জন্য অসম্মানজনক। সে বলে চলল, “তুই খুব ভালো করেই জানতি তোর চেয়েও অনেক বিউটিফুল আর সোফিস্টিকেটেড মেয়েদের আমি ডেইলি রিজেক্ট করি। দে আর ওয়েল-স্ট্যান্ডার্ড। সেখানে তোর মতো এই থার্ড-ক্লাস লুক নিয়ে আমাকে প্রপোজ করার সাহস পেলি কোত্থেকে? ডোন্ট ইউ নো ইওর লিমিটস? তুই আমার স্ট্যাটাসের ধুলোর সমানও না। সো, স্টপ দিস চিপ ড্রামা অ্যান্ড গেট আউট অফ মাই সাইট।”
রাফসানের প্রতিটি শব্দ চাবুকের মতো সারার কানে বাজছে। ওর আভিজাত্য আর অহংকারের সামনে সারা যেন নিমিষেই ছোট হয়ে গেল।
রোহান এবার সত্যি রাফসানের ওপর বিরক্ত হলো। সে রাফসানকে সজোরে একটা ধাক্কা দিয়ে পিছিয়ে দিল। চোখে মুখ লাল করে বলল, “অনেক হয়েছে রাফসান। এনাফ ইজ এনাফ। ও তো ছোট একটা মেয়ে, আবেগপ্রবণ হয়ে কিছু একটা করে ফেলেছে। ও বুঝতে পারেনি যে তোর ইগো কতটা আকাশচুম্বী। তাই বলে তুই একটা মেয়ের গায়ে হাত তুলবি? তাকে এভাবে ইনসাল্ট করবি।”
রাফসান ছিটকে দুই পা পিছিয়ে গেলেও ওর মুখে কোনো অনুশোচনা দেখা গেল না। উল্টো সে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। সেই হাসি যেন সারার আত্মসম্মানকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছিল।
হাসতে হাসতেই রাফসান সোজা হয়ে দাঁড়াল এবং তার দামী শার্টের কলারটা ঠিক করে নিল। চোখে চরম তাচ্ছিল্য নিয়ে রোহানের দিকে তাকিয়ে সে বলল, “কাকে ছোট মেয়ে বলছিস তুই? দিস জংলি গার্ল? হাউ সো ফানি, রোহান। জাস্ট লুক অ্যাট হার। যে মেয়ে এত নিখুঁত প্ল্যান করে প্রপোজ করতে পারে, সে আর যাই হোক ‘লিটল গার্ল’ না।”
সারা এবার চুপ করে থাকতে পারল না। চোখের পানি মুছে মাথা সোজা করে দাঁড়ালো। ওর চোখে এখন ভয়ের বদলে একরাশ অবজ্ঞা। রাফসানের চোখের দিকে তাকিয়ে সে স্পষ্ট গলায় বলল।
“সরি ভাইয়া… আমি আসলে আপনাকে ইচ্ছে করে প্রপোজ করিনি। আমি এতটাও বাচ্চা নই যে কার স্ট্যাটাস কী বুঝব না। ক্লাসে আমরা ট্রুথ অর ডেয়ার খেলছিলাম। আর আমার ডেয়ার ছিল—আপনার মতো রাগী হিটলারকে প্রপোজ করা। আমি কিছুতেই চাইনি আপনার মতো বিন্দু জাজা জা মরিচকে প্রপোজ করতে, কিন্তু তারাও এক রকম ঘাড় ত্যাড়া মানবে না মানে মানবে না। তাই বাধ্য হয়ে আপনার মতো হিটলারকে প্রপোজ করতে এসেছিলাম।”
কথাগুলো শুনে রাফসানের ফর্সা মুখটা অপমানে আর রাগে লাল হয়ে গেল। সে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। যে মেয়েটা একটু আগে কাঁদছিল, সে এখন তাকে ‘মরিচ’ আর ‘হিটলার’ বলছে।
রাফসান দাঁতে দাঁত চেপে এক পা এগিয়ে এলো। চোখেমুখে রাগের ঝলক স্পষ্ট। গর্জে উঠে বলল,
“হোয়াট ডিড ইউ জাস্ট সে? ইউ কলড মি আ মরিচ? হাউ ড্যায়ার ইউ। ডু ইউ ইভেন নো হু ইউ আর টকিং টু? আই অ্যাম রাফসান চৌধুরী। হাউ প্যাথোটিক। তুই একটা সস্তা গেমের জন্য আমাকে ইউজ করলি।”
রাফসানের চোখ দুটো রাগে একদম টকটকে লাল হয়ে উঠেছে। তার চোয়াল শক্ত হয়ে আসছে, মনে হচ্ছে এখনই সে সারার ওপর নতুন করে চড়াও হবে। রোহান পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত রাফসানের কাঁধ শক্ত করে ধরল এবং তাকে টেনে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে করতে বলল, “রাফসান, শান্ত হ। চলে আয় এখান থেকে, আর ঝামেলা করিস না। দেখ, মেয়েটা তো নিজেই বলল জাস্ট মজা করেছে, তাহলে এত রিয়েক্ট করছিস কেন।”
রাফসান রোহানের হাত ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে দিয়ে সটান সারার মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো। ওর লম্বা শরীরের ছায়ায় সারা যেন ঢেকে গেল। রাফসান দাঁতে দাঁত চেপে, চোখের মণি স্থির করে তপ্ত গলায় বলল।
”আমাকে তুই গেমের জন্য ইউজ করলি? ওকে ফাইন, এই শোধ আমি তুলবো। তুই এতদিন শুধু রাগী মরিচ রাফসানকে দেখেছিস, এখন রাফসানের আসল পরিচয়টাও দেখবি। জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ।”
বলেই রাফসান গটগট করে বড় বড় পা ফেলে করিডোর দিয়ে বেরিয়ে গেল। ওর রাগের চোটে মনে হচ্ছিল করিডোরও কেঁপে উঠছিল। পিছন পিছন রোহানও তাকে থামানোর জন্য দৌড়ালো। সারা এতক্ষণ দম আটকে ছিল ওরা চোখের আড়াল হতেই সে গাল ফুলিয়ে লম্বা একটা শ্বাস নিল। যেন খুব বড় কোনো বিপদের হাত থেকে বেঁচে ফিরেছে।
মুহূর্তেই নিজের লাল হয়ে যাওয়া গালটা ওড়না দিয়ে একটু আড়াল করে সে ক্লাসে দৌড়ে এলো। ক্লাসে ঢুকতেই দেখল ওর সেই ইন্নু-বিন্নু ভণ্ড বন্ধুগুলো মুখ চুন করে ভীতুর মতো এক কোনায় বসে আছে। সারাকে ঢুকতে দেখে ইতি একটু কাঁচুমাচু হয়ে এগিয়ে এলো। ইতির চোখে অপরাধবোধ স্পষ্ট।
সে সারার একটা হাত ধরে কাঁপা গলায় বলল, “সরি দোস্ত। বিশ্বাস কর, রাফসান ভাইয়া যে এতটা খারাপ ব্যবহার করবে তোর সাথে, আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। আমি ভেবেছিলাম বড়জোর একটা ধমক দিয়ে তোকে দাঁড়িয়ে দেবে আর আমরা আড়ালে দাঁড়িয়ে সেইটা দেখে একটু মজা নেব। কিন্তু রাফসান ভাইয়া যে তোর গায়ে হাত তুলবে, এটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। প্লিজ আমাদের মাফ করে দে সারা।”
সারা ইতির দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ওর গালটা এখনো চিনচিন করে জ্বলছে। সে শান্ত গলায় বলল।” আরে বাদ দে তো ভাইয়ার হাতে মার খেয়ে খেয়ে আমার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে ও কিছু মনে করি নাই আমি।”
সারার বান্ধবীরা আর কথা বাড়াল না, সবাই অপরাধবোধ নিয়ে চুপচাপ ক্লাসে বসে রইল। সবার মনেই ভয়, রাফসানের মতো ছেলে খেপে যাওয়া মানে মহাবিপদ।
এবার একটু পরিচয় পর্ব সেরে নেওয়া যাক
একটু আগে যে প্রচণ্ড তেজে থাপ্পড়টা মারল, সে হলো রাগী হিটলার রাফসান চৌধুরী। (সারা যেহেতু এই নাম দিয়েছে, তাই আমরাও না হয় তাকে হিটলার নামেই ডাকলাম) আর যে থাপ্পড়টা খেল, সে হলো বেচারি সাবাউন ইসলাম সারা। সারার জীবনটা মোটেও সহজ নয়। সে একরকম এতিম বললেই চলে, কারণ তার আসল বাবা-মা বেঁচে আছে কি না, তা সে নিজেও জানে না। তবে সে একা নয়। সারা এখন এই রাফসানদের বাড়িতেই থাকে। যখন সারার বয়স মাত্র তিন বছর, তখন রাফসানের বাবা তাকে রাস্তার এক কোণে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। সেই থেকে তিনি সারাকে নিজের মেয়ের মতো আগলে রেখেছেন।
রাফসানের বাবা রায়ান চৌধুরী অত্র কলেজের প্রিন্সিপাল। শুধু তাই নয়, তিনি একজন সফল ব্যবসায়ীও বটে। এক কথায়, শহরের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং নামকরা মানুষ হলেন রায়ান চৌধুরী। আর তার একমাত্র ছেলে হলো এই অহংকারী রাফসান।
রাফসানের ডায়েরি।
রাফসান এইবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে। গম্ভীর, রাগী আর আকাশচুম্বী অহংকার এই হলো তার ভূষণ। তবে সৃষ্টিকর্তা তাকে রূপ দিতে কার্পণ্য করেননি। ধবধবে সাদা গায়ের রং, ১৯ বছর বয়সী চড়া সুঠাম শরীর, আর উচ্চতা এখনই ৬ ফুট ২ ইঞ্চি। তার চোখের মণি গাঢ় নীল রঙের, যা দেখলে যে কেউ থমকে যাবে। কলেজের মেয়েদের কাছে সে এক পরম ‘ক্রাশ’, তাকে এক পলক দেখার জন্য মেয়েরা পাগল হয়ে থাকে। কিন্তু রাফসানের এসবে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। মেয়েদের প্রতি তার বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট নেই। সে আছে তার নিজের জগত নিয়ে। বাবার অঢেল টাকা উড়ানো, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া আর বাইরে টো টো করে ঘুরে বেড়ানোই তার কাজ। পড়াশোনাটা সে চাইলে করে, না চাইলে বইয়ের ধারেকাছেও যায় না।
আমাদের এই গল্পের মূল নায়িকা সাবাউন ইসলাম সারা। বয়স মাত্র ১৫ চলছে, এইবার ক্লাস নাইনে পড়ে। সারা দেখতে যে খুব আহামরী রূপবতী তা নয়, আবার কুৎসিতও নয়। গায়ের রং বেশ উজ্জ্বল আর সুন্দর। উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চির মতো হবে। ওর সবচেয়ে সুন্দর সম্পদ হলো ওর এক ঢাল ঘন কালো চুল, যা একদম কোমর পর্যন্ত নেমে গেছে। সারার মুখে এমন একটা স্নিগ্ধ মায়া আছে, যা দেখলে যে কারো মন শান্ত হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, সেই মায়াটা আজ পর্যন্ত রায়ান চৌধুরী ছাড়া আর কেউ মন দিয়ে দেখেনি। রাফসানের চোখে সে শুধুই একটা ‘জংলি’ মেয়ে।
এখন গল্প শুরু করা যাক
স্কুল ছুটির পর সারা তার বান্ধবী ইতি, মুন্নি আর রতির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রাস্তায় এসে রিকশার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। রাফসানদেরও কলেজ ছুটি হয়ে গেছে। সারা আর রাফসানদের কলেজ একসাথে, একই ক্যাম্পাসে স্কুল এন্ড কলেজ। রাফসান তার বন্ধু রোহান আর মাসরাফির সাথে বের হয়ে গেটের কাছে রাখা বাইকে উঠল। রাফসান সামনে, আর রোহান ও মাসরাফি তার পিছনে বসল। রাফসান বাইক চালিয়ে সামনের দিকে আসতেই দেখল সারা রাস্তায় একা দাঁড়িয়ে আছে। সে হঠাৎ কড়া ব্রেক কষে বাইক থামাল।
রোহান ভ্রু কুঁচকে বলল, “বাইক থামালি কেন।”
রাফসান সারার দিকে তির্যক হাসি হেসে বলল,
“একটা চমক দেখাতে।”
তারপরই মুখটা গম্ভীর করে রোহান আর মাসরাফির দিকে তাকিয়ে আদেশের সুরে বলল,
“বাইক থেকে নামো।”
মাসরাফি অবাক হয়ে বলল, “নামব কেন।”
রাফসান কড়া গলায় বলল, “নামতে বলছি নাম। জাস্ট গেট অফ দ্য বাইক।”
রোহান আর মাসরাফি বাধ্য হয়ে নামল। হঠাৎ রোহান সামনে সারাকে দেখল, সারা এখনো তাদের খেয়াল করেনি। রোহান সারাকে দেখে রাফসানকে কিছু বলতে যাবে, তার আগেই রাফসান বাইক চালিয়ে সোজা সারার সামনে ঘেষে এসে দাঁড়াল। সারার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে সে হুকুমের সুরে বলল।
”বাইকে ওঠ।”
সারা চমকে গিয়ে রাফসানের দিকে তাকাল। রাফসানের চোখেমুখে এক অদ্ভুত জেদ। সে আবার কর্কশ গলায় বলল, “আই সেড গেট অন দ্য বাইক। কানে শুনতে পাচ্ছিস না।”
সারা দুই কদম পিছিয়ে গিয়ে ভয়ে ভয়ে বলল, “আপনার বাইকে কেন উঠতে যাবো। আমি রিকশা দিয়েই যাবো।”
রাফসান বাইকের হ্যান্ডেলটা জোরে চেপে ধরল, ওর হাতের রগগুলো রাগে ফুলে উঠেছে। সে রক্তবর্ণ চোখে সারার দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “তোর সাহস তো কম না। আই অ্যাম কমান্ডিং ইউ সারা, তুই কি নিজের ইচ্ছায় উঠবি নাকি আমি সবার সামনে তোকে কোলে তুলে বসাবো। চয়েস ইজ ইয়োরস। ডোন্ট ট্রাই টু টেস্ট মাই পেশেন্স।”
সারা রাফসানের চোখের দিকে তাকিয়ে ভয়ে একটু কুঁকড়ে গেল। এই রাগী লোকটা যে কোনো মুহূর্তে যা খুশি করে বসতে পারে। সে বাধ্য হয়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বাইকে উঠতে যাবে, কিন্তু রাফসান তো রাফসানই। সারা যেই বাইকে পা দিতে যাবে, অমনি রাফসান সজোরে বাইক স্টার্ট দিয়ে ধুলো উড়িয়ে ভোঁ করে চলে গেল। সারা টাল সামলাতে না পেরে প্রায় পড়েই যাচ্ছিল। রাফসান কিছুটা দূরে গিয়ে বাইক থামিয়ে পিছন দিকে তাকিয়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে বলল।
রাফসান ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
“তোর কি সত্যিই মনে হয়েছে, সারা—তোর মতো জংলি মেয়েকে আমি আমার বাইকে উঠাব? ইমপসিবল! এটা তো শুধু একটা ছোট্ট নাটক ছিল, ঠিক যেমনটা তুই সকালে আমার সাথে করেছিলি। জাস্ট আ প্র্যাঙ্ক। বাই বাই।”
বলেই সে আবারও বাইকের গতি বাড়িয়ে চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে গেল। সারা মাঝরাস্তায় স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
চলবে…!
পূর্ণহীন পূর্ণতা
পর্ব ১
লেখিকা সুমি চৌধুরী