প্রেমের বাজিমাত পর্ব-২৬ | Premer Bajimat Part-26

ভালোবাসার বাজিতে এবার সামনে এলো এমন এক সত্য, যা সব হিসাব পাল্টে দিতে পারে।

প্রেমের বাজিমাত

লেখনিতে রোজও রুশা

অতীত এর দ্বিতীয় অংশ

পাঠ_২৬

~

রুমের ভেতরটা ভারী নীরব। যেন বাতাসও থমকে গেছে। কারো নিশ্বাসের শব্দ পর্যন্ত স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। হঠাৎ করেই সেই নীরবতা ভেঙে উঠে অধীর এর কণ্ঠ–

“কিন্তু কথা হচ্ছে নাভান আর হেরাকে কেনো ফাদার বাংলাদেশ ভাই বোন বললো ? আর হেরা তো নাকি ফাদার বাংলাদেশ এর মেয়ে না তাহলে হেরার বাবা মা কে?

“নাভান এর গলায় কাঁপন। চোখে অদ্ভুত যন্ত্রণা। থমকে যায় সবাই । ঠোঁট শুকিয়ে আসে। রোজ আর ঝিনুক একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে, যেন কেউই ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না কী বলা উচিত।

“আমারও একই কথা…”

ঝিনুক ধীরে বলে ওঠে,

“আর তুমি কেন আঙ্কেলের এসব কথা শুনেও চুপ ছিলে অইদিন ?”যখন আংকেল বলেছে তুমি বিয়ে করেছো?

“আন্টি বলো আন্টি…” রোজের গলায় মিনতি, “প্লিজ, আজ চুপ থেকো না।”সব কেমন গোলমাল লাগছে।

চুপ করে থাকে কাজল খান,,জাওয়াদ এর বা কি দোষ,, সব তো অই শামসুল করেছিলো,,১০ বছর আগে যে তারা বিয়ে করতে যাচ্ছে খুব দ্রুত,, তার জন্য তো বলেছিলো জাওয়াদ খান এই বিয়ের কথা। আর এখন শামশুল যে গন্ডোগোল পাকাচ্ছে তা সে ভালো জানে,,কিছু কথা স্কিপ করছে মনে মনে। একজন এর পরিচয় তিনি সামনে আনতে চান না এই দুনিয়ায় তাই তো এতো বিপত্তি, শামসুল এর নাম বিয়ে এসব জানলে তো বিপত্তি হবে।

“ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা সেই কাজলরেখা, জাওয়াদ খান এর স্ত্রী,, হঠাৎ যেন ভেঙে পড়েন। আজকের শেহতাজ খান নাভান এর মা হলে এভাবে ভেঙে পরতেন না তিনি। এই কাজল যে নরম মুখুসের আড়ালে শক্ত আবরনে ঢাকা নাড়ী। এত বছর ধরে বুকের ভেতর চেপে রাখা সত্যগুলো আজ বেরিয়ে আসতে চাইছে, কিন্তু মুখ খুলতে পারছেন না। মাকে চুপ থাকতে দেখে নাভান হঠাৎ হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে।

“মা… প্লিজ আমায় বাঁচাও মা…”

আরো পড়ুন

তার কণ্ঠ ভেঙে যায়, আকুতি সুরে বলে!!

“আমি পারছি না… এই পবিত্র সম্পর্কের উপর অপবিত্র দাগ বহন করতে পারছি না। তুমি যদি আজ না বলো… তাহলে আমি সত্যিই ধরে নিবো বাবার ধারনা!!

“নাভান!”

নাভান সম্পুর্ন কথা শেষ করতে পারে না তার আগেই মায়ের কণ্ঠ বজ্রপাতের মতো কেঁপে ওঠে,সবাই নাভার নির্বিকার।

“তোমার সাহস হলো কী করে আমার সম্পর্কে এত বাজে ধারণা করার?”

তার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।

“তোমরা কেউ আমাকে বিশ্বাস করোনি… যে মানুষটাকে আমি নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসতাম,আজও ভালোবাসি- সে মানুষটাই আমাকে কুকুরের মতো তাড়িয়ে দিয়েছিল অবিশ্বাস করে… আর যেই সন্তানকে বুকে আগলে এত বছর বড় করলাম… সেই তুমিও আজ আমার দিকে আঙুল তুলছো?”

তিনি থেমে যান। বুক ওঠানামা করছে দ্রুত।

“আমি সত্যিই হেরে গেলাম…”

ঘরের বাতাস আরও ভারী হয়ে ওঠে। আজকের কাজল খান এর নিশ্বাসে।

নাভান কাঁপতে কাঁপতে বলে–

“আমি জানি… আমার মা এই পৃথিবীর সেরা মা… কিন্তু আজ তুমি চুপ থাকলে সবচেয়ে বড় হারটা আমারই হবে মা… আমায় জিতিয়ে দাও… আমি যেন বলতে পারি–আমার মা পবিত্র…”

তার চোখে অনুনয়। কণ্ঠে আকুতি।

“আমার সম্মানটা ভিক্ষা দাও মা…”

একটা দীর্ঘ নীরবতার পর, তিনি ধীরে চোখ মুছে দাঁড়ালেন।

“নিজের জন্য না… আমি আমার ছেলের জন্য বলবো…”

সবাই নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

“শোন তবে…”

তার কণ্ঠ ধীর, কিন্তু ভেতরে জমে থাকা ঝড় স্পষ্ট।

“জিহান তালুকদার … সে ছিল আমার ফুপাতো ভাই। তার নাম, টাকা-পয়সা, সম্পত্তি–কিছুই কম ছিল না। সে ছিলো আমার ছায়,,কখনো বাবার মতো শাসন করতো কখনো মায়ের মতো বুকে আগলে নিত কখনো ভাই এর মতো রক্ষা করতো,আবার কখনো বন্ধুর মতো ডায়রি হয়ে যেতো,আমার বাবা মা এক্সিডেন এ মারা যাওয়ার পর জিহান ভাই আমায় তার কাছে নিয়ে রাখে, আমাদের সম্পর্ক ছিলো ফুলের মতো পবিত্র। সবাই জানতো আমাদের সম্পর্ক কেমন।

তিনি একটু থামেন, অতীতের স্মৃতিতে হারিয়ে যান আবার!

” আর শামশুল আজমীর চৌধুরী “সে ছিল আমার ফুপার দ্বিতীয় ঘরের ছেলে… কিন্তু কীভাবে যেন শামসুল ফুপাকে নিজের হাতে নিয়ে নেয়… তখন আমরা রাশিয়ায় সেটেল হয়ে গেছি। মাঝে মাঝে লন্ডন যেতাম…। আমি শামসুল কে হাতে গোনা কয়েকবার দেখেছি, শামসুল এর মায়ের আগের ঘরের সন্তান ছিলো সে। তাও শামসুল এর মা তাকে নিজের কাছে রাখতেন।

নাভান এর দিকে তাকিয়ে আবার বলে।

“তোমার বাবা আর তোমার ফুপা মানে জিহান ভাই আমাদের খুব আদর করতো… কোথাও একা যেতে দিত না…”।

তার চোখে ভেসে ওঠে পুরনো দিনগুলোর ছবি।

“একদিন বাংলাদেশ থেকে খবর আসে। ফুপা খুব অসুস্থ… মৃত্যুর দোরগোড়ায়। এদিকে তৌহিদা আর ছোট্ট পরি দুজনেই অসুস্থ। একদিকে বাবা, একদিকে স্ত্রী আর মেয়ে… জিহান ভাই দিশেহারা হয়ে পড়ে…”
আমি ছোট থাকতেই … ফুপাকে খুব ভালোবাসতাম… এমন খবর শুনে পাগলের মতো কান্না করি। কান্না থামাতে পারছিলাম না…”

“তখন জাওয়াদ আমাদের আশ্বাস দেয়–সে তৌহিদা আর আমাদের পিচ্চি পরিটার দেখাশোনা করবে… আর আমি জিহান ভাইয়ের সাথে বাংলাদেশে যাতে চলে আসি…ফুপকে দেখতে,,বাবার সাথে রাগ করে দূরে চলে গিয়েছিলো ঠিকি কিন্তু বাবার প্রতি ভালোবাসাও কম ছিলো না জিহান ভাই এর। তাইতো অসুস্থ মেয়েকে আর বউ কে রেখে আমাকে আর নাভান কে নিয়ে দেশে আসে জিহান ভাই।

তার কণ্ঠ নরম হয়ে যায়।

“আমি জাওয়াদকে ছেড়ে আসতে চাইনি… কিন্তু ফুপাকে শেষবার দেখার ইচ্ছেটা খুব তীব্র ছিল…”
আমরা বাংলাদেশে পৌঁছানোর দিনই… ফুপা ইন্তেকাল করেন…” আমরা সাত দিন সেখানে ছিলাম… মিলাদ মাহফিলের জন্য…”

—তার কণ্ঠ হঠাৎ ভারী হয়ে ওঠে।নিশ্বাস নিয়ে বলতে লাগে।

“এই সময়টাতেই… শামসুল আমার দিকে খারাপ নজর দিতে শুরু করে… জিহান ভাই এর অবর্তমানে শামসুল কে নাকি সয় সম্পত্তি সব দিয়ে দিয়েছেন ফুপা,এটা ফুপা মরে যাবার পর জানতে পারি আমরা ,,এগুলো যে জালিয়াতি করে নিয়েছিলো শামসুল আমি তখনো বুঝিনি… কিন্তু জিহান ভাই বুঝে গিয়েছিল…”
“আর সেটাই হয়তো আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়…”

–ঘরের বাতাস যেন জমে যায়। ঘরের ভেতর যেন বজ্রপাত হয়। সবাই স্তব্ধ। আর ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয় সেই সত্যের ভয়ংকর অধ্যায়… যেটা এত বছর ধরে চাপা পড়ে ছিল…আবারো বলতে লাগে।

“একদিন… আমি আমার রুমে গভীর ঘুমে ডুবে ছিলাম। বাইরে রাত নেমেছে, চারদিক নিস্তব্ধ। সেই সুযোগেই… শামসুল নিঃশব্দে ঢুকে পড়ে আমার রুমে। আমি কিছুই বুঝিনি… ঘুমের মধ্যে অচেতন হয়ে ছিলাম। সে ধীরে ধীরে আমার দিকে এগিয়ে আসে… তার চোখে ছিলো নোংরা লালসা। ঠিক যখন সে আমার গায়ে হাত দিতে যাবে। হঠাৎই একটা শক্ত হাত তার কবজি চেপে ধরে।

“তোর সাহস কী করে হয়… আমার বোনকে কলঙ্কিত করার!”

“গর্জে ওঠে জিহান ভাই। পরের মুহূর্তেই শুরু হয় ঝড়। জিহান ভাই তাকে এমনভাবে মারতে থাকে, যেন বহুদিনের জমে থাকা রাগ আজ একসাথে বেরিয়ে আসছে। ঘুষি, লাথি,,কোনো কিছুই বাকি রাখেনি।

আমি ঘুম ভেঙে আতঙ্কে উঠে বসি। পুরো দৃশ্যটা দেখে আমার শরীর কাঁপতে থাকে। ভয় আর লজ্জায় আমি যেন জমে যাই।

“ভাই… থামো…”

“কাঁপা কণ্ঠে বললেও সে থামেনি জিহান। যে বোন কে ফুলের টুকাও পরতে দেয় নি সে, আজ সেই বোন কে কলঙ্কিত করতে নেমেছিলো, এটা যেন মানতে পারছিলো না জিহান। কাজলখান চোখ মুছে ফ্লোরে তাকায় বলে।

“শেষে আমি দৌড়ে গিয়ে জিহান ভাইকে জড়িয়ে ধরি। বুকের মধ্যে মুখ লুকিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলি। সে তখনো রাগে ফুঁসছে, কিন্তু আমাকে বুকে টেনে নিয়ে ধীরে ধীরে শান্ত হয়।
পরের দিন… সব জানাজানি হয়ে যায়।
কিন্তু প্রমাণের অভাবে কেউ কিছু করতে পারে না শামসুলের বিরুদ্ধে। সে সবকিছু এমনভাবে ঘুরিয়ে দেয়, যেন কিছুই ঘটেনি। জিহান ভাই… ভয় পেয়ে জাওয়াদকে কিছুই জানায় না। তারপরের দিনই ছিল আমাদের ফ্লাইট। সেই রাতটা… আজও আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর রাত। আমার কালো রাত ছিলো। আমার সেভ রাখতে ভাই বারবার আমার রুমে আসছিল… একটু পর পর দরজা খুলে দেখছিল আমি ঠিক আছি কিনা। তার চোখে ছিলো ভয়, দুশ্চিন্তা, আর এক অদ্ভুত অস্থিরতা। শেষ রাতের দিকে… কখন যে সে আমার পাশেই ঘুমিয়ে পড়ে—আমি বুঝতেই পারিনি।
সকালবেলা ঘুম ভেঙে দেখি… আমি শান্তিতে ঘুমিয়ে আছি, আর জিহান ভাই আমার পাশে। তার বুক আর পিঠে অসংখ্য খামচির দাগ… মুখে ক্লান্তি, শরীরে অবসাদ। আমি জানতাম,আমাদের সম্পর্ক পবিত্র। কিন্তু বাইরে থেকে কেউ দেখলে… অন্য কিছু ভাবতেই পারতো । আর সেটাই হলো। সেদিন সকালটা আমার জীবনে অন্ধকার হয়ে নেমে এলো। পরিবারের লোকজন… আত্মীয়স্বজন… সবাই আমাদের নামে বদনাম রটাতে শুরু করলো। নোংরা অভিযোগ… অপমান… সন্দেহ–সব একসাথে।
আমি কাঁদছিলাম… চিৎকার করে বলছিলাম আমরা নির্দোষ। কিন্তু জিহান ভাই… সেদিন সম্পূর্ণ নির্বিকার।
একটাও কথা বলেনি। এদিকে খবর পেয়ে জাওয়াদ ছুটে আসে দেশে। সাথে সবাইকে নিয়ে। শামসুল তখন তার আসল খেলা শুরু করে। সে সেদিন রাতের কিছু ভিডিও দেখায়… আমার রুমে জিহান ভাইয়ের আসা-যাওয়া… আর শেষ রাতে আমাদের একসাথে থাকার দৃশ্য… ভিডিওগুলো সত্যি ছিলো। কিন্তু সত্যিটা ছিলো অন্য। আমাদের মনে কোনো পাপ ছিলো না… কোনো খারাপ সম্পর্ক ছিলো না… তবুও সেই প্রমাণই আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়। জিহান ভাই… একটাও কথা বললো না।
যে ভাই আমার চোখে পানি পড়ার আগেই সব এনে দিত… আমি একটু অসুস্থ হলেই কয়েকজন ডাক্তার এনে ফেলতো… সেই মানুষটা সেদিন চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। একটা কথাও বললো না আমার হয়ে। শামসুল আমার আর ভাই এর নামে রটে দিলো এক বাক্য যেটা শুনে আমি প্রতিবাদ করি কিন্তু ভাই করে নি।

আরো পড়ুন

বরং… সে নিজেই বললো–

“নাভান… আমার আর কাজলের সন্তান।”

–হ্যাঁ সেদিন আমার ছেলের জন্ম নিয়ে কথা উঠেছিলো,

বলে কেদে দেয় কাজল খান, সেইদিন তার পৃথিবীটা যেন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। কাজল খান ছুটে গিয়ে সবচেয়ে আপন ভাই, যার স্নেহে বাবার আদর,বন্ধুর মতো ভালোবাসা ছিলো তার পায়ে পরে বলে ।

“ভাই! তুমি কী বলছো? নাভান তো জাওয়াদ আর আমার ছেলে! তুমি কেন মিথ্যা বলছো ভাই?”

জিহান তালুকদার নিচু স্বরে বললো—

“কাজল… এখন আর লুকিয়ে লাভ নেই। সবাই জেনে গেছে… আমাদের একটা সম্পর্ক ছিলো।”

“মানে! কী সম্পর্ক ভাই?” কি বলছো তুমি?

জিহান তালুকদার মাথা নিচু করে বললো–

“আমরা… খারাপ সম্পর্কে জড়িয়েছিলাম…”

“না!”

কাজল খান চিৎকার করে উঠে বলতে লাগে পাগলের মতো।

“ভাই তুমি কী বলছো! দেখো… আমার জাওয়াদ কাঁদছে… দেখো না… তার চোখ লাল হয়ে গেছে…”ভাই ও এসব সহ্য করতে পারছে না ভাই,,আমার জান এর কষ্ট হচ্ছে,,তার কাজল রেখা তো এমন না সে জানে তুমি এসব বলছো কেনো ভাই!

হাউ মাউ করে কাদতে কাদতে জাওয়াদের দিকে ছুটে যায় কাজল খান। জাওয়াদ এর হাত স্পর্শ করতেই জাওয়াদ খান তার কাজল রেখার হাত সরিয়ে দেয়,,অবাক চোখে তাকিয়ে ছল ছল চোখে বলে উঠে আবার কাজলরেখা!

“জান… তুমি কিছু বলো… তুমি আমায় এভাবে দূরে সরিয়ে দিচ্ছো কেন? আমি তোমার…”

কাজলরেখার হাত এক ঝটকায় সরিয়ে দেয় জাওয়াদ খান। তার চোখে ঘৃণা… অবিশ্বাস… রাগ,জাওয়াদ খান রক্ত বর্ণ চোখে বলে উঠে ।

“তোদের মনে এই ছিলো? ছি! তোরা এত নিচ হতে পারিস?”ছি!!

তার কণ্ঠ কাঁপছে ক্রোধে।

“দুই ভাই-বোন মিলে আমাদের জীবন শেষ করে দিলি… নাভান আমার সন্তান না!”এই ছেলে আমার না “কেনো করলি এমন বল কেনো করলি?

কাজল রেখার বুকটা ছিঁড়ে যাচ্ছিল সেদিন তার প্রান প্রিয় দুই জন লোক এর পরিবর্তন দেখে । জাওয়াদ খান আবারো কর্কশ গলায় বলে।

“কেন করলি? আমি তোকে কী দেইনি? রানীর মতো রেখেছি তোকে… তাও এমন প্রতারণা করলি?”

এসব কথা শুনে ছুটে জাওয়াদ খান এর পা জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে কাজল রেখা!

“জান… ও জান… আমি পবিত্র… ভাই মিথ্যা বলছে… তুমি বিশ্বাস করো… প্লিজ… আমার খুব কষ্ট হচ্ছে তুমি এসব বলো না জান!

জাওয়াদ খান এক ঝাটকায় পা সরিয়ে নেয়।

“বিশ্বাস? তোদের মতো নিমকহারামদের বিশ্বাস করবো?”আমি তোর গায়ে হাত তোলার আগে… চলে যা আমার চোখের সামনে থেকে।”

সেই মুহূর্তে কাজল রেখার পৃথিবীটা ভেঙে পড়লো।
বিশ্বাস হারালো… সম্পর্ক হারালো… সম্মান হারালো… কোনো ভাবে কাওকে সেদিন বিশ্বাস করাতে পারে নি কাজল রেখা। সবাই মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিলো,যে কাজল রেখাকে সবাই চোখে হারাতো সেই মেয়েটাকে সবাই থু থু দিতেছে, বান্ধবী রুপি ভাই এর ভালোবাসা,আর তার ভালোবাসার একটা মাত্র কলিজা তৌহিদার সেদিন ইচ্ছে মতো মারে কাজল রেখাকে,,ঘৃণার চোখে দেখে সব সম্পর্ক শেষ করে।

এতোটুকু বলেই এডভোকেট কাজল খান মুখে হাত চেপে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। কান্নারত গলায় সুধায়!

“আর আমি… আমি হারিয়ে গেলাম—একটা মিথ্যার নিচে চাপা পড়ে।”

ঘরের পরিবেশ মুহূর্তেই ভারী হয়ে উঠল। কারও মুখে কোনো কথা নেই। শুধু কাজল খানের কান্নার শব্দটা যেন দেয়ালে দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসছে।

রোজ ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে এক গ্লাস পানি বাড়িয়ে দিল। নরম কণ্ঠে বলল—

“নাও আন্টি, এটা খাও… নিজেকে সামলাও। এখনো অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে।”

ঠিক তখনই দরজার দিক থেকে পায়ের শব্দ ভেসে এলো। তুষার দরজার পাশে ছিলো এতোক্ষন সব শুনেছে সে। সে ভেতরে ঢুকেই গম্ভীর গলায় বলে উঠল।

“আই হ্যাভ এ গভীর প্রশ্ন।”

সবাই তার দিকে তাকালো। তুষার একটু থেমে আবার বলল।

“শামসুল আজমির চৌধুরী এখনো তোমাকে ভালোবাসে। এটা আমরা নিশ্চিত। কিন্তু সেদিন সে নিজের উপর বদনাম না তুলে জিহান আংকেলের নামে কেনো দোষ চাপালো?”

কথাটা শেষ হতেই ঝিনুক থামিয়ে দিয়ে বলল!

“তার থেকেও বড় প্রশ্ন। জিহান আংকেল কই এখন? তার পরিবার কোথায়? তার মেয়ে, তার স্ত্রী,তারা কোথায় গেল?”

“ঘরের ভেতর আবারও নীরবতা নেমে এলো। সবার চোখ তখন কাজল খানের দিকে। এই মুহূর্তে কাজল খান যা বললেন, তা শুনে যেন সবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল।

“সেদিন… যেদিন আমার ওপর অপবাদ দেওয়া হচ্ছিল, ঠিক সেই সময় নাভান তার ‘পরি বউ ’-কে নিয়ে ছাদে ছিল। নাভানের বয়স তখন দশের মাঝামাঝি … আর সেই ছোট্ট পরিটার বয়স মাত্র পাঁচ চলে ।

কাজল খান থামলেন, চোখের পানি মুছলেন, তারপর কাঁপা গলায় আবার বলতে শুরু করলেন—

“নাভান দোলনায় বসে তাকে বুকে জড়িয়ে ঘুম পাড়াচ্ছিল… জানো, আমার সবচেয়ে বেশি কষ্ট কোথায় লেগেছিল?”

তিনি বুক চেপে ধরলেন।

“আমার এই ছেলেটা ‘পরি বউ ’ বলতে পাগল ছিল! আর সেই ছোট্ট পরিটাও ওর জন্য পাগল ছিল…”

কথাগুলো বলতে বলতে তিনি যেন অতীতে ফিরে গেলেন।

“কিন্তু জাওয়াদ আর তৌহিদা… তারা সেদিন আমার ছেলের বুক থেকে তার ‘পরি বউ ’-কে ছিনিয়ে নিয়ে চলে গেল!”

“কাজল খানের কণ্ঠ ভেঙে গেল এবার!

“আমার যে ছেলে রোদে দাঁড়ালেই লাল হয়ে যেত… সেই ছেলে খালি পায়ে রাস্তায় ছুটে গিয়েছিল—শুধু তার পরি বউ কে ফিরিয়ে আনার জন্য…”

হঠাৎ যেন সেই দিনের দৃশ্যটা সবার সামনে জীবন্ত হয়ে উঠল,,,,,ছোট্ট নাভান কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করে বলছে।

“পাপা… পিপি মনি, পরি বউ কে দিয়ে দাও… ও কান্না করছে!”পিপি মনি, আমার পরি বউকে দিয়ে যাও… আমি পরি বউকে ছাড়া থাকতে পারবো না!”পিপি মনি… তুমি আমাদের নিয়েও যাও…” তোমাদের ছাড়া কিভাবে থাকবো বলো?

কথাগুলো যেন বাতাসে ঝুলে রইল।
ঘরের প্রতিটি মানুষ নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে, কিন্তু তাদের চোখে স্পষ্ট—এই গল্পটা শুধু অতীত নয়, এটা এখনো বয়ে চলা এক গভীর যন্ত্রণার ভিতর এক লুকানো সত্য যা সবার অজানা! কাজল খান চোখের পানি মুছে বলতে থাকে আবার!!

“””সেদিনের সেই রাতটা আজও বুকের ভেতর ঝড় তোলে। আমি তখন আর নিজেকে সামলাতে পারিনি—সেই অবস্থাতেই ছুটে গিয়েছিলাম। রাস্তাটা সেদিন শুধু রক্তে ভিজে ছিল না, আমাদের ভেতরের পৃথিবীটাও যেন ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। দুই মা–ছেলের বুক ফেটে গিয়েছিল একসাথে। সে হারিয়েছিল তার ‘পরি বউ’কে… আর আমি? আমি তো হারিয়েছিলাম আমার পুরো দুনিয়াটাকেই। আমার এই ছেলে যে ফ্লোরে পা রাখতো না সেই ছেলে পাগলের মতো ছুটে গিয়েছে,,রক্তাত হয়েছিলো আমাদের পা,,

চারপাশে এক অদ্ভুত নীরবতা, কিন্তু সেই নীরবতার মাঝেই সৃজন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। তার কণ্ঠে ছিল আতঙ্ক, হতাশা আর একরাশ ভাঙা স্বপ্ন

“মামনি… সেই পরি , তৌহিদা, জিহান আংকেল… ওরা কোথায়?”

তার প্রশ্নটা যেন ছুরির মতো কেটে গেল বুকের ভেতর। কাজল খান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে । তারপর ধীরে ধীরে বলতে লাগে।

“কিছুদিন পর জানতে পারি… ওদের রোড এক্সিডেন্ট হয়েছিল… আর কেউ বেঁচে নেই।”

কথাগুলো বলা যত সহজ, সহ্য করা ততটা না। আশ্চর্যের ব্যাপার—এই খবর শুনেও নাভান একদম চুপ, নির্বিকার। যেন তার ভেতরের সমস্ত অনুভূতি পাথর হয়ে গেছে।

কাজল খান আবার বলতে শুরু করে, কণ্ঠ কাঁপছিল তার!

“যখন আমরা শেষ ভরসাটুকুও হারিয়ে ফেললাম… ওদের খুঁজে না পেয়ে আবার দৌড়ে বাড়ি ফিরলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি,,ভাইকেও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তখনই বুঝে গিয়েছিলাম, শামসুল আবার কোনো ভয়ংকর খেলা খেলতে চলেছে আমাদের নিয়ে।
চারপাশের মানুষের বাজে কথা আমি নিজে সহ্য করেছি… কিন্তু নাভানকে কখনো শুনতে দিইনি। তাই সেই অন্ধকার রাতেই, কোনো গন্তব্য না জেনেই বেরিয়ে পড়েছিলাম আমরা। সেদিন হয়তো মা-ছেলে দুজনেই মরে যেতাম… একটা ভয়ংকর এক্সিডেন্টে পড়েছিলাম আমরা। জীবনে কখনো রাস্তায় একা চলাফেরা করিনি, তাই কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি।

কিন্তু সেদিন… আমাদের বাঁচিয়েছিল আমার ছোটবেলার সেই সই,যার ঋণ শোধ করতে পারবো না কোনো দিন । নিজের জীবন দিয়ে আমাদের রক্ষা করে দিয়ে গিয়েছিল সে। তার সাথে ছিল এই ছেলেটা…”

কাজল খান ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে অধীরের সামনে দাঁড়ায়। তার মাথায় হাত রেখে বলে।

“আমার সইয়ের শেষ স্মৃতিটুকু… আমি নিজের মাঝে বাঁচিয়ে রেখেছি। আর তার কারণেই আজ আবার নতুন করে বাঁচতে শিখেছি আমি।”

-অধীর মাথা তুলে তাকালো। চোখে তার অস্পষ্টতা, কৌতূহল।

“কিন্তু মা… আমার তো এসব কিছুই মনে নেই!”

কাজল খান হালকা হেসে কথাটা এড়িয়ে গেলেন।

“সব মনে না থাকাই ভালো, বাবা। কিছু স্মৃতি না থাকাই শান্তি।”

একটু থেমে আবার বললেন।

“সেদিন থেকেই এই দুই চাঁদ এর জন্য কাজল রেখা থেকে আজ—আমি এডভোকেট, এম.এল.এ কাজল খান।”হয়ে উঠি!!

“ঘরের ভেতর আবার নীরবতা নেমে এলো। সবাই চুপচাপ। এমন এক জীবনের গল্প—যা শোনার পর শব্দ হারিয়ে যায়। কিন্তু সবার মনে তখনো একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। জাওয়াদ খান কেনো বলেছিলো সে বিয়ে করে নি? কেনো বলেছিলো নাভান আর হেরার সম্পর্ক জায়েজ না।

অবশেষে নাভান মুখ খুললো।

“বাবা কেন বলেছিল হেরা আর আমি ভাই-বোন? তোমার কি একবারও এই প্রশ্নটা মনে হয়নি?”

কাজল খান শান্ত স্বরে বললেন—

“উনি তো সৎ ভাই-বোনের কথা বলেছিলেন। কারণ এখনো আমাদের ডিভোর্স হয়নি…”তার জন্য হয় তো বা!!

নাভান থামালো,, আবারো বললো।

“তুমি কি বিয়ে করেছো ” বাবা কেনো বললো? তোমার বিয়ে হয়েছে? তোমার কি সত্যি বিয়ে হয়েছে?

“নাভান এর প্রশ্নে কাজল খান তাকায় ছেলের দিকে,,কথায় আছে না কাটা দিয়ে কাটা তুলতে হয়,,নাভান ঠিক তাই করছে সহজ প্রশ্ন করলে উত্তর তারা দিবে না,,তাই এই পথ বেছে নিয়েছে। নাভান এর কথায় কাজল খান অবাক চোখে তাকায়।

“এ কেমন প্রশ্ন, নাভান?” তুমি জানো সবটা,,আমি বিয়ে করি নি!! তার থেকে বড় কথা এখনো সে মানুক বা না মানুক আমি ডিভোর্স দেই নি। তাহলে কিসের বিয়ে? তিনি মূর্খতার পরিচয় দিয়েছে শেহতাজ!

এবার নাভান পয়েন্টে আসে।

“তুমি বিয়ে করোনি—তার প্রমাণ তুমি নিজেই। বাবা তোমার ওপর মিথ্যে দোষ চাপিয়েছে।”

কাজল খান দীর্ঘশ্বাস ফেললেন!

“তার যথেষ্ট কারণ ছিল, নাভান। সে জানতো, শামসুলকে আমি বিয়ে করছি…”১০ বছর আগে এমন টা জেনেছিলো,আর সেটা করেছিলো শামসুল নিজে,আমি পরিস্থিতির স্বীকার ছিলাম।

কাজল খান এর প্রশ্নে আবারো প্রশ্ন করলো নাভান।

“করেছো কি?”বিয়ে! হ্যাঁ বা না উত্তর দিবে।

ছেলের কথায় সোজা সাপটা জবাব দেয়।

“না।”

নাভান একটু এগিয়ে এলো।

“করো নি। ঠিক তেমনই—যখন বাবার কাছে প্রশ্ন উঠেছিল, সে বিয়ে করেছিল কি না… সেও কিন্তু বলেছিল—না। কিন্তু তুমি জানো বিয়ে করেছিলো?? ব্যাপারটা রহস্যময় লাগে নি তোমার কাছে? কেনো বাবা তখন নিজের বিয়ের কথা অস্বীকার করেছে। অথচ দশ বছর আগে সে নিজেই বিয়ের কথা স্বীকার করেছিল তুমি সেটাই জানতে। আই মিন তোমাকে জানানো হয়েছে।

কথাগুলো যেন একের পর এক রহস্যের দরজা খুলে দিচ্ছিল। নাভান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো—

“তুমি এডভোকেট হয়েছো, কিন্তু বুদ্ধিটা যদি কোর্টে না খাটিয়ে জীবনের কোর্টে খাটাতে… তাহলে হয়তো জীবন যুদ্ধে হারতে হতো না। সব লড়াইয়ে জিতেও—জীবনের লড়াইয়ে তুমি হেরে গেছো মা ”

কাজল খান নিঃশব্দ।নাভান আবার বললো—

“হেরাই … আমার পরি বউ? তোমার পিচ্চি পরি? জিহান তালুকদার আর তৌহিদা পিপির একমাত্র মেয়ে?”

“মানে?”

“হ্যাঁ। বাবা তখনো জানতো আমি জিহান তালুকদারের ছেলে। তাই বলেছিল—ভাই-বোনের বিয়ে জায়েজ না।” বাবা বিয়ে করে নি আর না কোনো দ্বিতীয় পক্ষের মেয়ে আছে,,হেরাই আমার পরি বউ। বাবা নিজের পরিচয়ে তাকে বড় করছে?

এবার রোজ ধীরে ধীরে সামনে এলো। তার কণ্ঠে দৃঢ়তা।

“হ্যাঁ, নাভান ভাই ঠিক বলেছে। যখন আংকেল জানতে পারলেন, নাভান ভাই তার নিজের রক্ত… তখনই হেরার আসল পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেছেন। কারণ, যদি তাদের বিয়ে মেনে নিতেন—সবাই জেনে যেত হেরা আসলে কে।” সেদিন এসব নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আর নাভান ভাই এর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতেই আংকেল তাদের নিয়ে চলে গেছে এটাই হবে?

একটু থেমে সে চারদিকে তাকালো—

“কিন্তু প্রশ্ন হলো… হেরার পরিচয় লুকাতে চাইছেন কেন আংকেল? এই প্রশ্নের উত্তর… একমাত্র উনিই দিতে পারবেন।”

“ঘরের ভেতর আবার নেমে এলো নিঃশব্দ উত্তেজনা।
সব সত্য যেন সামনে আসার অপেক্ষায়…
আর প্রতিটা মানুষের চোখে—একটাই প্রশ্ন,
কেনো পরিচয় লুকাতে চাচ্ছে জাওয়াদ খান। এটা কেবল তিনি বলতে পারবেন।

“কাজল খান দুই দুই চার মিলাচ্ছে । যখন বুঝতে পারে এসব তাদের ফাদে ফেলার ষড়যন্ত্র। কাজল খান ধপ করে বসে পরে ফ্লোরে।

” তার মানে জাওয়াদ বিয়ে করে নি।

“নাভান এর কাঠ কাঠ জবাব।

” না বিয়ে করে নি বাবা, নিজের বোনের মেয়ের পরিচয় লুকিয়ে নিজের পরিচয় দিয়েছে,

এবার সৃজন বলে উঠে।

“আমার তখনি সন্দেহ হয়েছে,মেহরিমা ইসলাম কোনো তার নাম। নিজের মেয়ে হলে তো খান টাইটেলে থাকতো।

তুষার একমত হয়ে বলে!

“” একদম ঠিক,

কথার মধ্যে হটাৎ ফ্লোরে অচতেন হয়ে লুটিয়ে পরে কাজল খান।

‘মা”

নাভান ছুটে এসে ধরে তার মাকে,পাজা কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দেয়,নাভান তুষার এর দিকে তাকায়
ঘরের ভেতর এক অদ্ভুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সৃজন, তুষার—সবাই দিশেহারা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আর অধীর… সে যেন বাস্তবতাই মানতে পারছে না।

অধীর হঠাৎ করে চিৎকার করে উঠলো—

“মা ! কেউ কিছু বলো… কেউ কিছু করো…!”আমার মাদার বাংলাদেশ কথা বলছে না কেনো চুপ হয়ে আছে কেনো,,আমি যে নাটক করছিলাম মরে যাওয়ার তার জন্য আমায় ভয় দেখাচ্ছে,,

সে দৌড়ে এসে বিছানার পাশে বসে কাজল খানের হাত ধরে কাঁপতে কাঁপতে বলতে লাগলো—

“মা , চোখ খোলো না প্লিজ… তুমি না থাকলে আমি কার কাছে যাবো? আমি তো ছোট বাচ্চার মতো হয়ে যাবো… উঠো না প্লিজ…”

তার চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে।
একেবারে শিশুর মতো কান্না—নিয়ন্ত্রণহীন, অসহায়।
নাভান দাঁত চেপে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু চোখের কোণে জমে থাকা পানি লুকাতে পারছে না।
বারবার মায়ের কপালে হাত রেখে বলছে—

“মা… প্লিজ কিছু বলো… আমি আছি না মা… কিছু হবে না তোমার…”তোমার থেকে আর কিছু জানতে চাইবো না প্রমিস!!

দুই ভাই কে কেউ সামলাতে পারছে না আজ,তুষার
দ্রুত নাড়ি চেক করলো, চোখের পাতা তুলে দেখলো, তারপর গম্ভীর মুখে বললো—

মামনিকে এখনই হাসপাতালে নিতে হবে। এটা হাইপার টেনশনের জন্য হয়েছে। মানসিক চাপ অনেক বেশি পড়েছে।” দ্রুত হসপিটালে ভর্তি করাতে হবে।

নাভান এক সেকেন্ডও দেরি করলো না—

“সৃজন! গাড়ি বের কর! এখনই!” ফাস্ট।

ঝিনুক পানি খাওয়াতে চাইলো,কিন্তু তুষার বাধা দিলো।

“না, এখন কিছু খাওয়ানো যাবে না। দ্রুত ভর্তি করতে হবে।”

অধীর তখনো থামেনি।
সে নাভানের হাত ধরে প্রায় কাকুতি মিনতি করে বলছে

“ভাই মায়ের কিছু হবে না তো? তুই বল না কিছু হবে না… তুই বললেই আমি বিশ্বাস করবো…”

নাভান তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁপা গলায় বললো।

“কিছু হবে না… আমি থাকতে কিছু হতে দেবো না…”মায়ের!! আমাদের মায়ের কিছু হবে না!!

কিন্তু তার নিজের গলাতেই ছিল ভয়, অনিশ্চয়তা আর অজানা আতঙ্ক। তার বাড়াবাড়ির জন্য কি এমন হয়েছে নিজেকেই অপরাধী লাগছে আজ নাভান এর ভয় টা অন্য জায়গায়।

চারজন মিলে কাজল খানকে সাবধানে তুলে গাড়িতে উঠালো।
গাড়ি ছুটে চললো হাসপাতালের দিকে—

আর পেছনে পড়ে রইলো সেই ঘর…
যেখানে কিছুক্ষণ আগেও শুধু প্রশ্ন ছিল,
এখন সেখানে ভয়, কান্না আর অজানা সত্যের ভারী ছায়া,

চলবে,,,,?

প্রেমের বাজিমাত পর্ব-২৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *