
প্রেমের_বাজিমাত
লেখনিতে রোজও রুশা
পাঠ_২৮
"নেপালের রাত যেন এক অদ্ভুত নীরবতার আবরণে ঢাকা_চারপাশে পাহাড়ের কালো ছায়া, আকাশে ঝলমলে তারা, আর ঠান্ডা হাওয়ার হালকা ছোঁয়া। দূরের কোনো মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি ভেসে আসে, আবার মিলিয়ে যায় নিস্তব্ধতায়। সেই নীরবতার মাঝেই জানালার পাশে বসে আছে হেরা… চোখ দুটো পথের দিকে স্থির, যেন প্রতিটা শব্দে সে খুঁজে বেড়াচ্ছে একটাই মানুষকে,, তার বাবা, জাওয়াদ খান। হ্যাঁ তার বাবা জন্ম না দিয়েও বাবা তিনি।
এই পৃথিবীতে তার আপন কে আছে—এই প্রশ্নটা আজ বারবার মাথায় ঘুরছে। “আপন জন” আর “আপন মানুষ”… দুটো কি এক?হেরা ধীরে ধীরে নিজেই উত্তর খুঁজে পায়—না, এক না। আপন জন হয়তো রক্তের সম্পর্ক, সমাজের দেওয়া পরিচয়…
কিন্তু আপন মানুষ? তো সেই, যার কাছে নিজের ভাঙা মনটাও লুকাতে হয় না, যে না বললেও বুঝে নেয় সব কথা ।
আরো পড়ুন
'হেরার কাছে সেই মানুষটা একটাই – তার বাবা।
'হঠাৎ দরজার বাইরে পায়ের শব্দ…
হেরার বুক ধক করে ওঠে।
দরজা খুলতেই সামনে দাঁড়িয়ে জাওয়াদ খান—মুখটা গম্ভীর, চোখে জমে থাকা রাগ আর অভিমান কি আছে নাকি বুঝা গেলো না কিন্তু মন যে ভিষণ খারাপ তা অই মায়াবি মুখখানার দিকে তাকালেই বুঝা যাচ্ছে ।
'হেরা এক মুহূর্তও দেরি করে না। দৌড়ে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে কেদে দেয় বাবা বলে !
“বাবা…”(কান্না করে) বাবা!!
'এই এক ডাকেই যেন সব জমে থাকা কষ্ট গলে যায়।
জাওয়াদ খান প্রথমে চুপ করে থাকে, কিন্তু মেয়ের কাঁপা কণ্ঠ আর শক্ত করে ধরে থাকা হাত দুটো তাকে নরম করে দেয়। ধীরে ধীরে তিনি হেরার মাথায় হাত রাখেন, বুকে টেনে নেন।
“পাগলি মেয়ে আমার … কাঁদছেন কেনো আম্মাজান ?”
'হেরা মাথা নেড়ে আরও জড়িয়ে ধরে। যেন এই মানুষটাই তার পুরো পৃথিবী, তার একমাত্র আশ্রয়।
"তুমি আমার কথায় কষ্ট পেয়েছো বাবা,,আমি বুঝি নি প্লিজ তুমি আমায় মাফ করে দাও আমি আর কখনো এমন কথা বলবো না। বাবা প্লিজ!!
" আমি আমার আম্মাজান এর উপর রাগ করতে পারি বুঝি,,মা তো কতো কথা বলবে, ছেলে কি রাগ করে থাকতে পারে বলুন?
'হেরার মনে হলো,, সে কতো বড় ভুল করেছে তার বাবা কে কথা শুনিয়ে , এই যে এতো মমতাময় ডাক আম্মাজান – এটা শুনলেই হেরা সব ভুলে যায় বাবা মেয়ের মান অভিমান এর পাল্লা কিছুক্ষন চলে। জাওয়াদ খান মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে নিজে বসে সোফায়, তার উড়ুর উপর শুইয়ে দেয় হেরাকে! তেল নিয়ে হেরার মাথায় তেল দিতে দিতে বলে।
"আম্মাজান চুলের যত্ন নিন না আপনি ঠিক মতো কেমন রুক্ষ্ণ হয়ে গেছে,পাগলি পাগলি লাগছে এখন।
'রুশা নাক মুখ ফুলিয়ে জাওয়াদ খান এর দিকে তাকিয়ে বলে।
" হ্যাঁ হ্যাঁ একজন এর দিকে সব খেয়াল,,আরেকজন যে টাক হয়ে যাচ্ছে তার দিকে খেয়াল নেই,,, ইসস কি ভালুপাসা আমার তো একটু ও দরকার নেই। না আমি বলছি আমায়ে দিয়ে দিতে মাথায় তেল ফেল ।
'জাওয়াদ খান হাসে। হেরা আর রুশা মাথায় তেল দেয়া নিয়ে কতো কাহিনি করে,জাওয়াদ খান খুব ভালো তেল দিতে পারে,পিচ্চি বউ এর চুল ও তো হেরার মতো লম্বা ছিলো,তা তো সে নিজেই যত্ন করতো সেই থেকে জানা তেল দেয়ার প্রসেস,,রুশার কথায় জাওয়াদ খান বলে উঠে।
"ছোট আম্মাজান আপনি ও বসেন আমি আপনার মাথায় তেল দিয়ে দিবো,, আগে বড় আম্মাজান তারপর ছোট আম্মাজান।
"হেরা আজ কোনো কথা বললো না,অন্য সময় হলে দুজন ঝামেলা করতো,, জাওয়াদ খান ও বুঝতে পারে মেয়েদের মন ভালো নেই,,তাই তিনিও মেয়েদের সাথে স্বাভাবিক হতে চাইছে। এতো বড় মেয়েদের উপর কিছু চাপিয়ে দেয়া তার কেরেক্টার এর বাহিরে। নিজের রক্তর সাথে বেঈমানী করলো জাওয়াদ খান,, ছেলের চোখে হেরার প্রতি অবিরাম ভালোবাসা দেখেছে,কিন্তু এটাই বুঝতে পারছে না ছেলে কি হেরাকে চিনেছে কি না,চিনে থাকলে যে হেরার পরিচয় সবাই জেনে যাবে রাই তো ভয়ে মেয়েকে নিয়ে ছুটে আসে,এই নেপাল এর ঠিকানা কেউ জানে না,,,অইসব কথা চিন্তা করেই
কিছুক্ষণ পর, জাওয়াদ খান গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে বলেন
“আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আম্মাজান … আপনার বিয়ে ঠিক করেছি। ছেলেটা ভালো, আমার পছন্দের।”
কথাটা শুনে হেরা একটু থমকে যায়। বুকের ভেতর কেমন একটা চাপা কষ্ট জাগে, কিন্তু সে বাবার বুকে মুখ লুকিয়েই থাকে।
“তুমি যা ঠিক করবে, বাবা… আমি না বলব না।”
তার কণ্ঠে ছিল না কোনো জেদ, না কোনো প্রতিবাদ—শুধু ছিল অদ্ভুত এক নির্ভরতা আর ভালোবাসা। হেরা তো আগে শুনেছে ফারুক সাহেব এর থেকে তাই বেশি চমকায় নি,আর তার থেকে বড় কথা তার এসব ঝামেলা মিটে গেলে রুশা আর অধীর এর ভালোবাসায় কেউ বাধা হবে না,তাই চুপ চাপ সব মেনে নিচ্ছে,,জাওয়াদ খান আবারো বলেন।
"১৫ দিন পর বিয়ের অনুষ্টান, কাল থেকে কেনা কাটা শুরু করবেন দুজন,,,এখন যান গিয়ে বিশ্রাম নিন।
" কিন্তু ছোট বাবা,,কে ছেলে কি করে,দেখতে কেমন?
"রুশার কথায় জাওয়াদ খান বিশ্বাসি গলায় বলে।
" ভরসা করতে পারেন ছেলে দেখতে মাশা-আল্লাহ আর আমার আম্মাজান কে খুব পছন্দ করে, আর আম্মাজান এর ও খুব পছন্দ হবে।
রুশাকে কথা বলতে না দিয়ে এড়িয়ে যান জাওয়াদ খান।
তার পদচারণার শব্দ মিলিয়ে যেতেই যেন ঘরটাও নিঃশব্দ হয়ে পড়ে।
হেরা আর রুশা ধীরে ধীরে তাদের রুমে ফিরে আসে।
হেরা ভেতরে ঢুকতেই রুশা দরজা বন্ধ করে দেয়—একটা চাপা অস্থিরতা যেন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
রুশা আর নিজেকে সামলাতে পারে না, ছুটে এসে হেরার কাঁধ দুটো ধরে ঝাঁকিয়ে বলে—
“কি ব্যাপার পাখি? তুই চুপ কেনো? তুই কেন বলছিস না যে তোর এই বিয়েতে মত নেই?”
হেরা কিছুক্ষণ চুপ থাকে। চোখ দুটো যেন কোথাও হারিয়ে গেছে—তারপর ধীরে, খুব ধীরে বলে—
“মত আছে?”
রুশা অবাক হয়ে তাকায়—
“বললেই হলো? তোর বিয়ে হয়ে গেছে, ভুলে গেলি পাখি?”
হেরার ঠোঁট কেঁপে ওঠে, গলায় জমে থাকা কষ্ট যেন বের হতে চায়--
“অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়েকে বিয়ে বলে ধরা যায় না…”
“হেরা! কি বলছিস তুই? ধর্ম থেকে পালাতে চাচ্ছিস?”
হেরা চোখ বন্ধ করে ফেলে এক মুহূর্তের জন্য।
তার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে—
“তিন অক্ষরের ‘কবুল’ সমাজের কাছে সব হতে পারে…কিন্তু মনের বিচার তো সেটা করতে পারে না…”
রুশা কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলে—
“তুই কি সত্যি চকলেট হিরোকে মানিস না?”
“না।”
“তাহলে চুইংগাম হিরো?”
“না… তার প্রতি আমার সম্মান আছে… কিন্তু ভালোবাসা না…”
“আর চকলেট হিরোর প্রতি?”
হেরা এবার মাথা তুলে তাকায়। চোখে এক অদ্ভুত ঝড়,কষ্ট, রাগ, অভিমান… সব একসাথে মিশে আছে। নির্লিপ্ত ভাব করে বললো?
“তার প্রতি… এক আকাশ সমান ঘৃণা।”
রুশা হালকা হেসে বলে,
“ঘৃণা থেকেই তো অনেক সময় ভালোবাসার শুরু হয়… ভুলে গেলি?”
এই কথাটা শুনে হেরা থমকে যায়।
তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে কিছু মুহূর্ত।
অচেনা, অনাকাঙ্ক্ষিত একটা মানুষ…
কিন্তু সেই মানুষটাই তার প্রিয়র ধীরে ধীরে জীবনের প্রতিটা কোণ ছুঁয়ে গেছে।
সে চায় না… তবুও মনে পড়ে— প্রিয়র কথা মনে হতেই, নাভানের সেই তাকানো, সেই অহংকার মেশানো কথা, তার অবহেলা… আবার অদ্ভুতভাবে খেয়াল রাখা। হেরার বুকটা হঠাৎ করে ভারী হয়ে ওঠে। মনে হয়—সে তাকে মিস করছে…
খুব অজান্তেই, কিন্তু পরমুহূর্তেই সে নিজেকে শক্ত করে নেয়।
“ভুলি নি… কিন্তু প্রিয়র আর আমার ব্যাপারটা আলাদা…”
তার গলায় এবার কঠোরতা--
“আমি বাবাকে ভালোবাসি।
তার কথার বাইরে আমি কখনো যাবো না।
সে যার সাথে বিয়ে দেবে, আমি চোখ বন্ধ করে মেনে নেবো…”
রুশা অবাক হয়ে বলে—
“তাই বলে যাকে চিনিস না তাকে?”
হেরা একটু হেসে ফেলে—একটা ভাঙা, ক্লান্ত হাসি--
“চেনা মানুষও তো সব সময় নিজের হয় না রুশা…”তুই এই সিগদান্ত নিয়ে আর একটা কথাও বলবি না,,
রুশা ধপ করে বসে পড়লো… যেন হঠাৎ করে তার চারপাশের সব শব্দ থেমে গেছে। বুকের ভেতরটা কেমন ভারী হয়ে উঠলো—কারণ সে হেরাকে খুব ভালো করে চেনে। এতদিনের সম্পর্ক, এতদিনের বন্ধুত্ব… চোখের ভাষাও পড়তে পারে সে। আর সেই চোখেই আজকাল একটা অদ্ভুত দ্বন্দ্ব দেখতে পাচ্ছে রুশা।
নাভান-এর নামটা এলেই হেরার মুখের রং বদলে যায়—এই দৃশ্যটা নতুন না, কলেজের প্রথম দিন থেকেই এটা দেখে আসছে সে। কিন্তু কেন? কিসের এত রাগ? কিসের এত অভিমান? এই প্রশ্নগুলো যেন রুশার মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে থাকে। কারণ সে বুঝতে পারছে—এই রাগের আড়ালে কিছু একটা আছে… কিছু না বলা অনুভূতি, কিছু চেপে রাখা সত্য,
হেরা যেমন জেদি, তেমনি নাভানও কম যায় না—দুইজন যেন একই আগুনের দুই শিখা। কেউ কাউকে ছুঁতে চায়, আবার কেউ কাউকে ছুঁতে দেয় না। এই অদ্ভুত টানাপোড়েন রুশাকে আরও বেশি ভাবিয়ে তুলছে।
আর নিলয়… তার সাথেও হেরার প্রথম দিকের সেই আলাদা ব্যবহারটা রুশার চোখ এড়িয়ে যায়নি। একটা অদ্ভুত আগলানো ভাব, যেন নিজের ভেতরের কিছু লুকাতে গিয়ে আরও বেশি ধরা পড়ে যাচ্ছিল হেরা। কিন্তু তখনও কিছু বলেনি রুশা—কারণ সে জানে, জোর করে কিছু বের করা যায় না। বিশেষ করে হেরার মতো মেয়ের কাছ থেকে তো না-ই।
সব মিলিয়ে রুশার মাথার ভেতর যেন এক ঝড় বইছে,রহস্যের ঝড়, না বলা কথার ঝড়, অজানা অনুভূতির ঝড়। সে বুঝতে পারছে, এই গল্পের ভেতরে অনেক গভীর কিছু লুকিয়ে আছে… যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না।
এই অবস্থায় তার একটাই ভরসা—তার “লাইভ টেলিকাস্ট”… সেই অদ্ভুত মানুষটা, যার সাথে কথা বললেই তার মনের জটগুলো একটু হলেও খুলে যায়। অথচ তার সাথেও কথা হচ্ছে না। এই কথা না বলার অনুভূতিটাও যেন তাকে আরও একা করে দিচ্ছে।
রুশা চুপচাপ নিজের ফোনটার দিকে তাকিয়ে থাকে… একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে।
“কাল… কাল যেভাবেই হোক একটা নতুন সিম কিনতে হবে… কথা বলতে হবে ওর সাথে…”
তারপর হঠাৎ মনে পড়ে—রোজ!
তার সাথেও তো অনেকদিন কথা হয়নি। কত কথা জমে আছে… অথচ কেউই কাউকে বলছে না।
দুইটা মন… দুইটা আলাদা মানুষ…
তবুও অনুভূতিটা একই—
মিস করা, অপেক্ষা করা, আর না বলা হাজারো কথা বুকের ভেতর জমিয়ে রাখা।
______
সুখনীর—নামের মতোই শান্ত, স্নিগ্ধ হওয়ার কথা ছিল যে বাড়িটি, আজ সেটি সবার কাছে পরিচিত “কাজল ভিলা” নামে। অথচ সেই নামের আড়ালে লুকিয়ে আছে না-পাওয়া ভালোবাসার দীর্ঘশ্বাস, হারানোর বেদনা আর মনের গভীরে জমে থাকা অজস্র না বলা কষ্ট। বাড়ির প্রতিটি মানুষের ভেতরেই যেন চলছে এক অদৃশ্য যুদ্ধ,,ভালোবাসা পাওয়ার, ভালোবাসা ধরে রাখার, আর হারিয়ে ফেলার ভয়কে চাপা দেওয়ার।
অধীর না খেয়েই শুয়ে ছিলো কিছু সময়। বেশ কিছু ক্ষন পরে আবার মায়ের পাশে আসে, শরীরটা ক্লান্ত হলেও মনটা যেন আরও বেশি বিধ্বস্ত। নাভান আর অধীর দু’জনেই মায়ের পাশে বসে আছে। কাজল খান যতক্ষণ না ঘুমিয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দুই ছেলে তার দুই পাশে প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে ছিল। কাজল খান বুঝতে পারছিলেন। তিনি চোখ বন্ধ না করা পর্যন্ত এই দুই ছেলে তাকে একা ছেড়ে যাবে না। তাই তিনি ধীরে ধীরে ঘুমানোর ভান করে শুয়ে রইলেন, যেন তাদের একটু শান্তি দেওয়া যায়।
রোজ আপাতত তাদের ভাড়া বাসায় থাকছে। আর ঝিনুক আছে নাভানদের বাড়িতে—তুষার নিজেই যেতে মানা করেছে। বাবাকে ফোন করে জানিয়েছে, সে কিছুদিন এখানেই থাকবে। বড় বোনের মতো করে নাভান আর অধীরের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ঝিনুক। রোজকেও থাকতে বলেছিল, কিন্তু মেয়েটার মামা-মামি আসবে বলে সে চলে গেছে। সৃজন তাকে দিয়ে এসেছে,,সৃজন এর মায়ের শরীর ও ভালো না,,নাভান আর ঝিনুক তাকে পাঠিয়েছে জোর করে,,রোজ কে নামিয়ে সে মায়ের কাছে গেছে। নাভান আর সৃজন দের বাসা পাশাপাশি তাই এতো ঝামেলা নেই। রোজ এর জন্য যতো ভয়।
নাভান একা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। গ্রিলের সঙ্গে মাথা ঠেকিয়ে সে তাকিয়ে আছে দূরের আকাশে—চাঁদের দিকে। আজ দুই দিন হয়ে গেল, সে তার “মিসাইল গার্ল”-কে দেখেনি। বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শূন্যতা কাজ করছে। সে খুব ভালো করেই জানে—তার বাবা ইচ্ছে করেই এই সবকিছু করেছে। সেই কথোপকথন এখনো কানে বাজে নাভান এর।
“তুমি কি সত্যি এই বিয়ে মানো?”
জাওয়াদ খানের করা প্রশ্নে সরাসরি জবাব নাভান এর।
“না মানার কী আছে? বিয়ে যখন হয়েছে,,, সে তো আমার বউ,সেটা যেভাবেই হোক!! কিন্তু তুমি সবাইকে হেরার আসল পরিচয় জানিয়ে দাও।”
“না। হেরার কোনো পরিচয় নেই—তার একটাই পরিচয়, সে আমার মেয়ে।”(জাওয়াদ খান)
“অনেকেই জানে এখন হেরা তোমার মেয়ে না।”(নাভান)
“সেটা আমি চাপা দিয়ে দেব, নাভান।”(জাওয়াদ খান)
“বাবা, হেরা আমার বউ। তাহলে তোমার মেয়ের পরিচয় এমনিতেই চলে যাবে।”(নাভান)
“এই পরিচয় তুমি দেবে না।”(জাওয়াদ খান)
“তুমি কী বলতে চাও? আমি আমার বিয়ের পরিচয় গোপন রাখব? তোমার ছেলের ওপর এমনিতেই হাজার হাজার মেয়ের নজর।এসব থেকে মুক্তির একটা পথ পেয়েছি আমি।”(নাভান)
“নাভান, তুমি হেরার থেকে ভালো মেয়ে পাবে। আমার ছেলে রাজপুত্র।কিন্তু হেরাকে বউ হিসেবে মানবো না আমি । আর তোমার মায়ের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক হবে না। তুমিও আমার সঙ্গে থাকবে না। আমার জীবনের এই একটুকু অংশ তুমি নিয়ে যেও না…”(জাওয়াদ খান)
“ছেলে তোমার, ছেলের বউও তোমার। আগে মেয়ের পরিচয় দিয়েছ, এখন ছেলের বউয়ের পরিচয় দেবে। সবই তো তোমার! তাহলে এসব ‘কেড়ে নিচ্ছি’ টাইপ কথা বলছ কেন, বাবা? এটা তো কোনো বাংলা সিনেমা না…”(নাভান)
"জাওয়াদ খান চেষ্টা করেও ছেলেকে বোঝাতে পারেননি। হেরার পরিচয় সামনে আনা যাবে না—এটা তার প্রতিজ্ঞা। শুধু প্রতিজ্ঞাই না, এর পেছনে আছে ভয়, আশঙ্কা… আর সেই মানুষটির দেওয়া শেষ কথা, যাকে তিনি কোনোদিন অমান্য করতে পারেন না। নিজের সন্তানের নিরাপত্তার জন্য, নিজের বুকের টুকরোকে বিপদে না ফেলতে, তিনি বছরের পর বছর নিজের অনুভূতিকে চাপা দিয়ে রেখেছেন। এমনকি বহু বছর পর ছেলেকে ফিরে পেয়েও বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেননি। নিজের রক্তের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ থেকেও নিজেকে বঞ্চিত করেছেন। অথচ শেষ পর্যন্ত ছেলের কাছেই যেন বিশ্বাসঘাতক হয়ে গেলেন—ছেলের বউকে তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে হবে বলে ।
বাবার সাথে কথা বলতো প্রায় যতোদিন ছিলো জাওয়াদ খান দেশে,,নাভান বাবার সঙ্গ থেকে দূরে থাকতে চায় নি তাই তো বাবার সাথে দিনের বেশির ভাগ ও রাতের বেশির ভাগ সময় তারা একসাথে কাটিয়েছে। মনে পরতেই নাভান আকাশের দিকে তাকায়। মন ভরে নিশ্বাস নেয় । কিছুক্ষন চুপ করে আকাশের দিকে চেয়ে থেকে, জীবন এর ছক মিলিয়েছে। নাভান নিঃশব্দে ফোনটা হাতে নেয়। কারও নাম না নিয়েই একটি মেসেজ পাঠায়। কিছুক্ষণ পর ফোনের ক্ষীণ শব্দে একটি ঠিকানা ভেসে ওঠে। সে চুপচাপ সেই ঠিকানার দিকে তাকিয়ে থাকে, তারপর আরেকটি মেসেজ টাইপ করে—
“খুব মিস করছি… চলে আসো। আর অনেক ধন্যবাদ…”
মেসেজ পাঠিয়ে সে অজান্তেই নিজের বুকের কাছে হাত রাখে—যেখানে ঠোঁটের আকারের ছোট্ট একটি ট্যাটু আছে। আঙুল দিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে যায় সেটাকে, যেন সেখানে লুকিয়ে আছে তার সব অনুভূতি, সব না বলা কথা। চোখ বন্ধ করে বির বির করে ভাঙা গলায় বলে উঠে।
“””তুমি ত্রিমাত্রার সীমা ছাপিয়ে ওঠা এক অনন্ত আকাশ!!!আর আমি বহুমাত্রার ভিড়ে হারানো এক নিঃশ্বাসের আর্তনাদ”””তোমায় ছোঁয়ার জন্য প্রতিটা মাত্রা ভেঙে ফেলতে চাই আমি!!!”কারণ এই দ্বিমাত্রিক ভালোবাসা আমার কাছে খুবই ক্ষুদ্র লাগে!!””আমি চাই,,সব হিসাব, সব সীমা, সব অস্তিত্ব মুছে গিয়ে,,আমি হয়ে যাই শুধু এক অনুভূতি…!””””” যার গভীরতা মাপার কোনো মাত্রা নেই,,!!শুধু তুমি আছো,আর আছে তোমার মাঝে আমার নিঃশেষ ডুবে থাকা…!! ~~
রোজের শরীরটা ভীষণ খারাপ। জ্বরে কাঁপছে মেয়েটা, অথচ একা ঘরে থাকতে ভয় পাচ্ছে। হেরা রুশা নেই খুব একা লাগছে নিজেকে। মামা–মামি আসার কথা ছিল, কিন্তু কোনো অজানা কারণে তারা আর আসেনি। চারপাশটা যেন আজ নিরব বেশি নেই কোন কোলাহল,নেই পড়ার প্যারা।
একদিকে সৃজন তার মায়ের অসুস্থতা, অন্যদিকে যার জন্য তার হৃদয় ধড়ফড় করে—সেই মানুষটাও ভালো নেই। তার উপর সবচেয়ে কাছের মানুষ, বন্ধু-রূপী ভাই অধীর,আর নাভান আজ মনমরা। যেন চারদিক থেকে মন খারাপ এসে ছেলেটাকে ঘিরে ধরেছে।
রাত তখন ১০টা ৩০। নিঃশব্দ এক রাত।
সৃজন মায়ের পাশে বসে আছে—চুপচাপ, নিরব। হাতে ধরা ফোনটা বারবার খুলে রোজের ছবিটা জুম করে দেখছে। যেন ছবির ভেতরেই খুঁজে পাচ্ছে তার সব অস্থিরতা, সব না বলা কথা।
বাবা মারা যাওয়ার পর, এই মাকেই আঁকড়ে ধরেই বেঁচে আছে সে। আর মা—শায়লা সরকার, একজন প্রাইভেট কলেজের প্রফেসর—তার সমস্ত জীবনটাই ঢেলে দিয়েছেন ছেলের জন্য।
আমাদের সমাজে নারীদের আসলে কোনো তুলনা হয় না। একটা নারী একাই পার করে দিতে পারে পুরো জীবন, শুধু সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে। পুরুষরাও পারে—তবে খুব কম, হাতে গোনা। কিন্তু এমন অসংখ্য মা আছেন, যারা নিজের সবটুকু বিসর্জন দিয়ে সন্তানের পৃথিবীটাকে আগলে রাখেন।
হঠাৎ করেই হার্টের সমস্যাটা বেড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শায়লা সরকার। তবুও ছেলের দিকে তাকালে তার চোখে এক অদ্ভুত শান্তি নেমে আসে।
সৃজনের দিকে তাকিয়ে তিনি ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন।
সেই স্পর্শে লুকিয়ে থাকে হাজারটা না বলা কথা—
ভয়, ভালোবাসা, আর বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন।
বাড়ির ভেতরটা আজ অস্বাভাবিক নীরব। সৃজনদের বড় বাড়ির এক কোণে। মায়ের রুমে,,হালকা ওষুধের গন্ধ ছড়িয়ে আছে। বিছানায় শুয়ে আছেন মা, ক্লান্ত শরীর, চোখে ঘুমের ভার।
সৃজন মায়ের পাশে বসে আছে চুপচাপ। সারাদিন এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করে ক্লান্ত সে, কিন্তু মুখে সেই ক্লান্তির চিহ্ন নেই—শুধু আছে চিন্তা।
মা শায়লা সরকার ধীরে ধীরে বললেন,
“বাবা, আজ সারাদিন আমাকে নিয়ে কত ঘুরেছিস… আমি এখন ওষুধ খেয়ে ঘুমাবো। তুই একটু রেস্ট নে।”
সৃজন সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে বলল,!
“না মা, আমি এখানেই থাকবো। তোমার কিছু দরকার হলে?”
তার গলায় একরাশ দায়িত্ব আর ভালোবাসা মিশে আছে।
মা হালকা হেসে বললেন,
“পাগল ছেলে! নুড়ি পাথর আসবে এখনই। একটু আগে ফোন দিয়েছিলো।”
“নুড়ি পাথর”—নামটা শুনতেই সৃজনের মুখের ভাব বদলে গেল। ভ্রু কুঁচকে উঠল, চোখে বিরক্তি।
মনে মনে বলল,
“এই মেয়েটাকে আবার কেন ডাকতে হলো!”
সে আর চুপ থাকতে পারল না, সরাসরি বলেই ফেলল,
“তুমি আবার ওই বেলেল্লাপনা মেয়েটাকে আনতেছো কেনো?”
মা একটু অবাক হয়ে তাকালেন,
“কি বলছিস বাবা! নুড়ি তোকে খুব কেয়ার করে।”
মায়ের কথা শেষ হওয়ার আগেই সৃজন বিরক্ত স্বরে বলে উঠল,
“ছাতার মাথা! গায়ে পড়া মেয়ে আমার একদম পছন্দ না।”
তার কন্ঠে বিরক্তিকর আভাস। বির বির করে বলে।
“এই মেয়ে তো চোখ দিয়েই আমাকে গিলে খায়…”
নুড়ি ইসলাম—সৃজন একমাত্র মামার একমাত্র মেয়ে। ছোটবেলা থেকে চেনা জানা, কিন্তু বড় হওয়ার পর মেয়েটার আচরণ বদলে গেছে । এবার ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে, কিন্তু তার চোখে এখন অন্যরকম এক ভাষা।
বাড়িতে এলেই সে যেন সৃজনকে ঘিরেই থাকে।
সৃজন না থাকলে তার রুম নিজের মতো করে গুছিয়ে নেয়, সাজায়—যেন সেটাই তার নিজের জায়গা।
আর সৃজন থাকলে তো কথাই নেই–কখনো পানি, কখনো বই, কখনো অকারণেই দরজায় এসে দাঁড়ানো… আর সেই ড্যাবড্যাবে চোখে তাকিয়ে থাকা।
সবকিছু মিলিয়ে সৃজনের বিরক্তি যেন দিন দিন বাড়ছেই।
ঠিক তখনই–টিং টং…বাড়ির কলিং বেল বেজে উঠল।
সৃজন উঠে দ্রুত চলে যায়,তার রুমে।
সকাল ঠিক ১০টা।
হঠাৎ করেই ফোনের তীব্র রিংটোন ঘরের নিস্তব্ধতা ছিঁড়ে ফেলে।
ট্রিং… ট্রিং… ট্রিং…
অধীর হঠাৎ চমকে উঠে বসে।
চোখ দুটো আধখোলা, মাথা ভারী, শরীর ক্লান্ত।
রাতটা সে ঘুমায়নি ঠিকমতো।
রুশার কথা মাথা থেকে সরেনি এক মুহূর্তও।
বারবার ফোন হাতে নিয়েছে, আবার রেখে দিয়েছে।
আজ ভোরের দিকে একটু ঘুম এসেছিল—
ঠিক তখনই এই অভিশপ্ত রিংটোন!
অধীর বিরক্ত হয়ে ফোনটা হাতড়িয়ে খুঁজে নেয়।
চোখ না খুলেই রিসিভ করে।তার মাথায় একটাই নাম—সৃজন।আর সেই ভেবেই সে গালি ছুড়ে দেয়—
“এই শালা! lc তুই রাতে ঘুমিয়েছিস বলে কি সবাই ঘুমায় নাকি?!”কিছু মানুষ এর ভোর বেলা তাদের রাত শুরু হয় জানিস না।
তার গলায় রাগ, ক্লান্তি, আর না বলা কষ্টের মিশ্রণ।
কিন্তু ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা।একটা ভারী, থমথমে নীরবতা।অধীর একটু ভ্রু কুঁচকে ফেলে।
ঘুম জড়ানো চোখে ফোনটা কানে চেপে ধরে থাকে।
তারপর…
একটা কাঁপা, চেনা, কিন্তু অপ্রত্যাশিত কণ্ঠ ভেসে আসে—
“অধীর… আমি রুশা…”তোমার লাল গোলাপি!!
মুহূর্তেই অধীরের শরীর জমে যায়।
ঘুম, রাগ, বিরক্তি—সব এক সেকেন্ডে উধাও। বুকের ভেতর ধক করে ওঠে।হাতটা কেঁপে ওঠে, ফোনটা শক্ত করে ধরে।মাথার ভেতর হাজারটা কথা ভিড় করে—
কিন্তু ঠোঁট খুলে একটা শব্দও বের হয় না।
সে শুধু চুপ করে থাকে।ওপাশ থেকেও নীরবতা।
দুজন মানুষ—দুজনের বুক ভরা কথা, কিন্তু শব্দহীন।
এই নীরবতার মধ্যেই যেনো হাজারটা অনুভূতি কথা বলে…ভালোবাসা, অভিমান, দূরত্ব, আর এক অদ্ভুত টান।সকালটা আর আগের মতো থাকে না অধীর এর।
দুই দিন… মাত্র দুই দিন—কিন্তু অধীরের কাছে মনে হচ্ছে যেন দুটো যুগ কেটে গেছে। অধীর ফোনে তাকায় বিদেশি নাম্বার তার মানে রুশারা বিদেশে চকে গেছে। অধীর এর বুক টা ধক করে উঠে। রুশা “”””দুই দিন ধরে সেই নামটা নীরব। না কোনো কল, না কোনো ভয়েস… কিছুই না। না দেখা।
অধীর চোখ বন্ধ করে মনে করার চেষ্টা করে—রুশার সেই হাসির শব্দ, সেই মিষ্টি কণ্ঠ,
“লাইভ টেলিকাস্ট কই আপনি?
কিন্তু আজ সবকিছু যেন স্মৃতির ভেতরে আটকে গেছে।তার বুকের ভেতরটা হঠাৎ করে মোচড় দিয়ে ওঠে—অধীর ভাঙা গলায় বলে।
“কোথায় গেলে তুমি, রুশা? একটা বার জানালে না?”
তার চোখ ভিজে আসে অজান্তেই। রুশা চুপ ইস এই ভন্ড এতো ফাজলামো করা কিউট ছেলেটা তার ভালোবাসা,রুশাখুব ভালো বুঝতে পেরেছে এই ছেলে তার জীবন, একটু ভয়েস শুনে কেমন শান্ত হয়ে গেছে রুশার মন। অধীর ডাকে।
“হ্যালো… রুশা?”
ওপাশে কিছুক্ষণ চুপ। শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ।
তারপর ভাঙা গলায় রুশা বলে উঠে।
“অধীর…”
এই একটা শব্দেই অধীরের বুকটা ভেঙে যায়।
“তুমি কোথায় ছিলে রুশা? দুই দিন… দুই দিন আমি পাগলের মতো হয়ে গেছিলাম! তুমি ঠিক আছো তো? কিছু হয়েছে? তোমার
ওপাশ থেকে কান্নার শব্দ ভেসে আসে।
রুশা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না।
“আমি… আমি ভালো নেই অধীর… অনেক কিছু হয়ে গেছে… আমি কারো সাথে কথা বলতে পারছিলাম না…”
অধীরের গলা ভারী হয়ে যায়–
“একটু কষ্ট করে করলে না কেনো যোগাযোগ, আমি কি তোমার কেউ না। তোমার জন্য যে আমার চিন্তা হয় তুমি জানো না।
রুশা কেঁদেই বলে–
“তুমিই তো সব… তাই তো পারছিলাম না… ভয় হচ্ছিল তোমায় হারিয়ে ফেলার।
অধীর চোখ মুছে নেয়, কিন্তু কান্না থামে না। এই প্রথম অধীর রুশার জন্য নিজের পাগলামি দেখে নিজেই অবাক।
“পাগলি একটা… তুমি না থাকলে আমি কিভাবে থাকি বলো? এই দুই দিনে আমি বুঝেছি… তুমি ছাড়া আমি একদম শূন্য…”(অধীর)
“আমিও… আমি প্রতিটা মুহূর্তে তোমায় মিস করেছি… তোমার ভয়েস, তোমার রাগ, তোমার হাসি… সব…”(রুশা)
অধীর হালকা হেসে বলে—
“তাহলে কল দাওনি কেন?”
রুশা একটু চুপ করে থেকে বলে—
“নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না… আমি যদি কাঁদতে কাঁদতে তোমার সাথে কথা বলতাম… তুমি আরো কষ্ট পেতে…”
অধীর নরম গলায় বলে—
“কষ্ট তো এখনো পাচ্ছি… কিন্তু তোমার কণ্ঠটা শুনে একটু বাঁচলাম…”
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ।
কিন্তু এই চুপটা আর আগের মতো না—এটা ভরা ভালোবাসায়, মিস করার যন্ত্রণায়।
রুশা ধীরে বলে
“অধীর… তুমি আমাকে ভুলে যাবে না তো?” আর অপেক্ষা করবে আমার জন্য?
অধীর চোখ বন্ধ করে বলে–
“মরার আগে পর্যন্ত না… আর যদি পারতাম, মৃত্যুর পরেও না…” আর অপেক্ষা, মারার আগ অব্দি করবো লাল গোলাপি!
রুশা হালকা হেসে আবার কেঁদে ফেলে–
“আমি খুব ভয় পাই… তোমাকে হারানোর…”
“হারাবে না… আমি আছি, সবসময় আছি… শুধু তুমি আর এভাবে হারিয়ে যেও না, প্লিজ…”
“প্রমিজ…”
“প্রমিজ…”
দুজনেই ফোনের ওপাশে কাঁদছে, আবার হাসছে।
মিস করার সব জমে থাকা কষ্ট আজ কথায়, কান্নায় বের হয়ে আসছে।রুশা একে একে ঘটে যাওয়া ঘঠনা বলে অধীর কে।
চলবে…..?