প্রেমের বাজিমাত পর্ব-১৮ | Premer Bajimat Part-18

প্রেমের বাজিমাত

লেখনিতে রোজ ও রুশা

পাঠ-১৮

নাচ শেষ হতেই চারিদিক করতালি আর গুঞ্জন শোনা যায়। দুই ক্রাসকে একসাথে পেয়েছে, ছেলেরা হেরার প্রশংসা করছে আর মেয়েরা দুই ক্রাসকে। তখন সিয়াম নিলয়কে বলেছিলো, তিতির তাদের জয়ী হতে দিবে না, কিছু একটা করবে। কিন্তু কী করবে তা বোঝার আগেই গান চেঞ্জ হয়ে যায়, আর নিলয় বুদ্ধি করে একটা পর্দা দুজনের উপর ফেলে দেয়, যাতে সবাই বোঝতে পারে এটা নাচের একটা অংশ ছিলো। আর সেই সময় সে পর্দার ভিতর ঢুকে কথাগুলো বলে। সে চায় না তার ফুল হেরে যাক, তাকে জিতানোর জন্য সে সব কিছু করতে পারবে। তাই তো কাটা ক্ষত পা নিয়ে নাচ করে। সবার মতামতে তারাই প্রথম বিজয়ী হয়, দ্বিতীয় দল অধীরদের।

লাস্ট হিন্দি এই গানটা এমন, তাতে প্রচুর ডান্স। তাই তো নাচতে গিয়ে নিলয়ের পা থেকে রক্ত পড়তে থাকে। হেরা বিচলিত হয়ে পড়ে নিলয়ের জন্য। হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় ডাক্তারের কাছে। নিলয় শুধু অবাক চোখে তাকিয়ে ছিলো হেরার দিকে। সামান্য রক্ত বের হয়েছে দেখে হেরা তার জন্য এতো বেকুল হচ্ছে। যদি জানতো হেরা এই সামান্য বিষয়ে এমন করবে, তাহলে যে প্রতিদিন রক্তাক্ত হতো, হেরাকে নিজের প্রতি এতো বেকুল করার জন্য।

আরো পড়ুন

নাভান জানতে পারে তিতির তাদের গান চেঞ্জ করে দিয়েছিলো, কিন্তু তাও সে তিতিরকে কিছু বলে নি। বলবেই বা কী, তিতিরের দিকে তাকালে সে এমনিতে নরম হয়ে যায়। কিছু একটা বাধা তাকে প্রতিনিয়ত চুপ থাকতে বাধ্য করে।

দিন যায়, ঋতু বদলায়। বসন্ত পেরিয়ে নতুন সময় এসে দাঁড়ায় ক্যাম্পাসের আঙিনায়। কিন্তু সময় বদলালেও হেরা আর নাভানের দ্বন্দ যেন বদলায় না। তাদের সম্পর্কটা অদ্ভুত—প্রতিযোগিতা, জেদ, অঘোষিত টান আর না বলা অনেক কথার মিশেলে তৈরি।

নাভান ইদানীং তিতিরের দিকে একটু বেশি ঝুঁকে পড়েছে। মেয়েটার ভেতর এক ধরনের অদ্ভুত পাগলামি আছে। হাসলে পুরো পরিবেশ বদলে যায়, আবার হঠাৎ এমন কিছু করে বসে যে সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। তিতিরের এই সহজ, এলোমেলো স্বভাব নাভানকে অজান্তেই টেনে নেয়। নাভানও তিতিরকে নিয়ে বেশি চিন্তিত—নিয়মিত ফোন দেওয়া, তাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া, বন্ধুদের সাথে আড্ডা। হেরা এসব দেখে চুপ থাকে না। তার ভেতরের প্রতিযোগিতার আগুন যেন আরও জ্বলে ওঠে।

হেরা কখনো কথায় নয়, কাজে জবাব দেয়। একের পর এক পরীক্ষায়, প্রেজেন্টেশনে, প্রতিযোগিতায় সে নাভানকে টপকে যায়। ফলাফল প্রকাশের দিনগুলোতে ভার্সিটির করিডোরে, ক্যাফেটেরিয়ায়, এমনকি ডিপার্টমেন্টের সামনে পর্যন্ত একটাই নাম শোনা যায়—হেরা। শিক্ষকরা উদাহরণ দেন, জুনিয়ররা অনুপ্রাণিত হয়, আর নাভান নীরবে নিজের ভিতরে নতুন করে জেদ তৈরি করে।

এদিকে ক্যাম্পাসের আরেক কোণে অন্যরকম গল্প চলছে। অধীর আর সৃজন শেষমেশ রোজ আর রুশার মন জয় করে ফেলেছে। প্রথমে যত অস্বীকার, তর্ক আর মজার ঝগড়াই থাকুক না কেন, এখন তাদের প্রেম দিব্যি জমে উঠেছে। ক্লাস শেষে একসাথে হাঁটা, ছোট ছোট খুনসুটি, আর বন্ধুদের সামনে লুকিয়ে রাখা হাসি—সব মিলিয়ে তাদের দিনগুলো রঙিন হয়ে উঠেছে। রোজ মাঝে মাঝে বলে, “উপন্যাসের নায়ক না হলেও বাস্তবের মানুষগুলো বেশি সত্যি।” আর রুশা হেসে সম্মতি দেয়।

কিন্তু এই সবকিছুর মাঝেও এমন একটি সত্য লুকিয়ে আছে, যা কেউ জানে না। ক্যাম্পাসের হাজার মানুষের ভিড়ে নাভান আর হেরা মনে রাখেনি সেই অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়ের কথা, না বন্ধু, না পরিচিত কাউকে বলেছে এই কথা। যেন ঘটনাটা কখনো ঘটেইনি। শুধু নাভান আর হেরা জানে, এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে, এক ভুল সময়ে, তারা একবার সম্পর্কের সেই অদৃশ্য বন্ধনে জড়িয়ে গিয়েছিল।

সেই স্মৃতি দুজনেই চেপে রেখেছে নিজের ভেতরে। মুখে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী, আচরণে দূরত্ব; কিন্তু মাঝে মাঝে চোখাচোখি হলে দুজনেরই মনে পড়ে যায়—এই লড়াইয়ের আড়ালে এমন এক সম্পর্ক আছে, যার কথা উচ্চারণ করার সাহস কেউই পায় না। হয়তো তারা ভুলে থাকতে চায়, কিংবা সময়ের উপর ছেড়ে দিয়েছে সবকিছু।

আজ ক্যাম্পাসে অন্যরকম উত্তেজনা। আজ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। অডিটোরিয়ামের সামনে ভিড় জমেছে সকাল থেকেই। ব্যানার টাঙানো, মাইকের সাউন্ড চেক—সবার মুখে প্রত্যাশার ছাপ।

নাভান নিজের নোট গুছিয়ে শেষবারের মতো পয়েন্টগুলো পড়ে নিচ্ছে। তার চোখে স্পষ্ট দৃঢ়তা—আজ সে হারতে চায় না। অন্যদিকে হেরা শান্ত, স্বাভাবিক। যেন প্রতিযোগিতা তার কাছে নতুন কিছু নয়। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সেও জানে, আজকের মঞ্চটা আলাদা। এখানে শুধু যুক্তি নয়, ব্যক্তিত্বও লড়বে।

দুজনের চোখ একবারের জন্য মিলল। কোনো কথা হলো না, তবু যেন অনেক কিছু বলা হয়ে গেল। প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, অহংকার আছে, তবু কোথাও এক অদ্ভুত সম্মানও জন্ম নিয়েছে একে অপরের জন্য।

আজকের বিতর্ক শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটা হেরা আর নাভানের আরেকটি মুখোমুখি হওয়া। যেখানে জয়-পরাজয়ের বাইরেও লুকিয়ে আছে একটি অজানা সত্য, এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়ের স্মৃতি, যা পুরো পৃথিবীর কাছে অচেনা; কিন্তু তাদের দুজনের জীবনে নীরবে রয়ে গেছে সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত প্রশ্ন হয়ে। ভার্সিটির প্রতিযোগিতায় হেরা, নাভান, আর সৃজন, রোজ জিতেছে। এবার ফাইনাল বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রিপারেশন নিচ্ছে সবাই।

ক্যাম্পাসে কয়েকদিন ধরেই অন্যরকম উত্তেজনা। নোটিশ বোর্ডে বড় করে ঝোলানো হয়েছে ঘোষণা—আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। শুধু সাধারণ কোনো প্রতিযোগিতা নয়, এটাই সেই ধাপ, যেখানে জিততে পারলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আন্তর্জাতিক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ মিলবে। তাই পুরো ডিপার্টমেন্টের নজর এখন এই টিমের দিকে।

টিমে আছে নাভান, হেরা, আর তাদের সঙ্গে আরও তিনজন। কিন্তু সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু একটা—নাভান আর হেরা। কারণ সবাই জানে, এরা একসাথে থাকলে জিতবেই, আবার ঝগড়াও করবেই।

সেদিন লাইব্রেরির সামনে হেরা দাঁড়িয়ে নোট দেখছিল। নাভান পাশ দিয়ে যেতে যেতে ইচ্ছে করেই ধাক্কা দিল নাকি বোঝা গেলো না। ধাক্কা দিয়ে নাভান সাথেই বলে উঠেছিলো—

“সরি… খেয়াল করিনি,”
নাভান নির্লিপ্ত গলায় বলছিলো!

হেরা ভ্রু তুলে তাকাল, ঝাঝ মেশানো গলায় বলেছিলো—

“খেয়াল না করে আপনি শুধু আমার সাথেই ধাক্কা খান কেন?”

নাভান স্বাভাবিক ভাবে বলেছিলো—

“তুমি সামনে পড়ে থাকো বলে।”

“আমি সামনে পড়ি, না আপনি সামনে আসেন?”

হেরাও সাথে সাথে জবাব দেয়—

নাভান বিদ্রুপাত্মক হাসি নিয়ে বলেছিলো—

“তুমি একটু বেশি ভাবো, মিসাইল গার্ল? আমি কি তোমার পিছু নিই—তোমার ধারণা এটা, তাই হুটহাট ধাক্কা খাই?
সব জায়গায় জেতা মানে এই না তুমি সবসময় ঠিক, বা বেস্ট! তোমার ধারণা ঠিক না। তোমার মতো মিসাইল গার্লকে ফলো করা এই শেহতাজ খান নাভানের ক্যারেক্টারের সাথে যায় না!”

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অধীর ফিসফিস করে সৃজনকে বলেছিলো—

“দেখ, চুমুর সাপ্লাই ম্যান! এরা ঝগড়া করে না, প্রেমের প্র্যাকটিস করে। আল্লাহ জানে।”

সৃজন হেসে বলল—

“লাইভ টেলিকাস্ট রে! আরও পাঁচ মিনিট দে, দেখবি এখনই কেউ না কেউ রেগে চলে যাবে।”

ঠিক তখনই হেরা নাভানের হাত থেকে তার নোট কেড়ে নিল।

“এই পয়েন্টটা ভুল। এভাবে বললে জাজ কেটে দিবে। আপনার পয়েন্ট!”

নাভান অবাক হয়ে তাকাল—

“তুমি আমাকে হারাতে চাও, আবার সাহায্যও করো? বাহ বাহ! কই উন্নতি, মিসাইল গার্ল।”

হেরা শান্ত গলায় বলল—

আরো পড়ুন

““কারণ আপনার সাথে আমার নামটাও জড়িয়ে আছে, বোঝলেন অহংকারী গিটার ওয়ালা।”

এক মুহূর্তের জন্য দুজনেই চুপ। তারপর নাভান হালকা হাসল কি বুঝা গেলো না। তাও মুখে “চ” উচ্চারণ করে বলেছিলো—

“তুমি আসলে খুব বিরক্তিকর, মিসাইল গার্ল। একেবারে এটোম বোমের মতো। তোমার মুখটা ডিসগাস্টিং।”

“সেম টু ইউ!” (হেরা)

নাভান হেরার সামনে আরো দু’কদম এগিয়ে গিয়ে দাঁত কটমট করে বলেছিলো—

“তুমি একটা প্রয়োজনীয় ঝামেলা! মিসাইল গার্ল তো আর এমনি এমনি বলি না। ঝগড়াটে এটোম বোম।”

বলেই প্রস্থান করে।

দূর থেকে রোজ আর রুশা সব দেখছিল। রোজ ফিসফিস করে বলল—

“এরা একদিন ঝগড়া করতে করতে বুঝবেই, আসলে কে কার ওপর বেশি রাগ।”

রুশা হেসে উত্তর দিয়েছিলো—

“রাগ না… অভ্যাস। এরা অভ্যাসের দাস রে, গোলাপ ফুল!”

সত্যিই, নাভান আর হেরার ঝগড়াগুলো এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। কথায় কথায় খোঁচা, অকারণে তর্ক, আবার অজান্তেই একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে যাওয়া—দুষ্টু, মিষ্টি, অদ্ভুত এক সম্পর্ক, যার নাম তারা এখনো কেউ উচ্চারণ করে না। হ্যাঁ, তারা উপরে এমনি দেখায়, কিন্তু ভিতরে এদের আসল কাহিনি সবার অজানা।

নাভান তখন রাগ করে চলে এসেছিলো। তার কিছুক্ষণ পর আবার সেমিনার রুমে তাদের ডাক পড়েছে। প্রস্তুতি শুরু হতেই তাদের ঝামেলার শুরু।

ডিপার্টমেন্টের সেমিনার রুমে বসে প্র্যাকটিস চলছে। নাভান নিজের পয়েন্ট বুঝিয়ে বলছে সবার উদ্দেশ্যে—

“ওপোজিশন এভাবে আক্রমণ করবে, তখন এই যুক্তিটা দিতে হবে।”

হেরা সঙ্গে সঙ্গে থামিয়ে দিল।

“না, এটা দুর্বল। আবেগ বেশি, তথ্য কম। এটা হবে না!”

নাভান বিরক্ত হয়ে বলল।

“সবকিছুতে ঠাণ্ডা মাথার যুক্তি দিলে চলে না, কিছু জায়গায় আবেগ লাগে, মিসাইল গার্ল!”

“আবেগ আর তথ্য দুটাই লাগবে! বেশি আবেগি কথা বললে নাটকীয় লাগে, অহংকারী গিটার ওয়ালা!”

হেরা জবাব দিল।

রুমে থাকা বাকিরা চুপচাপ একে অপরের দিকে তাকাল। অধীর ফিসফিস করে বলল।

“শুরু হয়ে গেছে।”

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, যতই ঝগড়া হোক, শেষ পর্যন্ত তাদের যুক্তি একে অপরকে আরও শক্ত করে দেয়। হেরা নাভানের পয়েন্ট ঠিক করে দেয়, নাভান হেরার ডেলিভারিতে নতুন এনার্জি যোগ করে। যেন তারা প্রতিপক্ষ না, বরং একে অপরের অসম্পূর্ণ অংশ।

সময় চলে যায় নিজ গতীতে।

ভার্সিটির এরিয়ায় দুটা বাস দাঁড় করানো। ছেলেরা এক বাসে আর মেয়েরা আরেক বাসে—এটা নাভানের প্ল্যান। নিলয়ের বেশ রাগ লাগে। সে চেয়েছিলো হেরার সাথে বসে আসবে, কিন্তু কিছু করা গেলো না।

অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর থেকেই পরিবেশটা বদলে গেল। সবাই নিজের নিজের মতো ব্যস্ত—কেউ নোট ঠিক করছে, কেউ শেষ মুহূর্তের প্র্যাকটিসে ব্যস্ত। কিন্তু নাভান আর হেরার ক্ষেত্রে একটা জিনিস আগের মতোই রয়ে গেল—তাদের ঝগড়া।

তবে এই ঝগড়ার ভেতরে এমন একটা নিয়ম আছে, যেটা কেউ জানে না। তারা কেউই কাউকে বুঝতে দিতে চায় না, একে অপরের প্রতি তাদের নজর কতটা গভীর। তাই যতবার চোখে চোখ পড়ে, ততবারই কথা হয়ে যায় একটু বেশি তীক্ষ্ণ, একটু বেশি ঠাণ্ডা।

লাস্ট সেমিনার রুমে বসে প্র্যাকটিস চলছিল। একটু পর শুরু হবে অনুষ্ঠান, তাই স্যারও তাদের সাথে বসে ছিলো। হেরা একটা পয়েন্ট বলতেই নাভান সাথে সাথে থামিয়ে দিল—

“এভাবে বললে ওরা ধরে ফেলবে। লজিক দুর্বল, মিসাইল গার্ল!”

হেরা ভ্রু কুঁচকে বলল—

““আপনি আগে নিজের ডেলিভারি ঠিক করেন, তারপর আমাকে শেখাতে আসবেন।” অহংকারী গিটার ওয়ালা!!

পাশে বসা টিমমেটরা হালকা অস্বস্তিতে একে অপরের দিকে তাকাল। অথচ কেউ বুঝল না,নাভান আসলে চাইছিল হেরা ভুল না করুক। আর হেরা রাগ দেখাচ্ছিল শুধু এই জন্য, যেন কেউ তার চোখে সেই অদৃশ্য চিন্তা দেখে না ফেলে। এই প্রতিযোগিতা হেরার জন্য অনেকটা সম্মানক হবে।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় একজনের বক্তব্য নয়, পুরো গ্রুপের বক্তব্যই ভূমিকা রাখে। তবে কিছু ভূমিকা একটু বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, যেমন।

প্রথম বক্তা
“বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে, দলের অবস্থান বোঝায় এবং মূল যুক্তির ভিত্তি তৈরি করে। তাই তার বক্তব্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।” তাই তার দায়িত্ব পড়ে নাভানের উপর।

মূল যুক্তি উপস্থাপনকারী বক্তব্য রাখবে সৃজন
“যারা তথ্য, উদাহরণ ও বিশ্লেষণ দিয়ে দলের অবস্থান শক্ত করবে সে। তার যুক্তি বিতর্কের শক্তি নির্ধারণ করবে।” তাই সে ওইভাবে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। এর আগেও অনেক জায়গায় সৃজন এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে।

শেষ বক্তা হলো হেরা
“প্রতিপক্ষের যুক্তি খণ্ডন করে এবং পুরো দলের বক্তব্য সুন্দরভাবে সংক্ষেপে তুলে ধরে। অনেক সময় বিচারকদের ওপর শেষ প্রভাবটা এই বক্তার মাধ্যমেই পড়ে।” তাই তার একটু ভুল হলে তাদের কষ্ট বৃথা যাবে। হেরা তাই এ নিয়ে একটু নার্ভাস।

বিরতি টাইম —

কলেজের ক্যাম্পাস আজ অস্বাভাবিক রকম ব্যস্ত। সবার চোখে উত্তেজনা, কারণ তারা এসেছে অনেক দূরে, পাহাড়ে ঘেরা বান্দরবান-জেলায়, জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে। চারদিকে অন্য ভার্সিটির স্টুডেন্টরা, ব্যানার, মাইক্রোফোন টেস্টিং, ক্যামেরা… পরিবেশটাই আলাদা।

শোনা যাচ্ছে, আজকের রাউন্ডে বাইরের দেশের বিচারকরাও উপস্থিত। যারা টিকবে, তারা দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করার সুযোগ পাবে। চাপটা স্বাভাবিকভাবেই অনেক।

হেরা একপাশে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে ছিল। হাতে ডায়েরি, কিন্তু পাতা উল্টাচ্ছে না। বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে গেছে। এত দূর এসেছে, কিন্তু যদি কথা আটকে যায়? যদি ভুল করে?

ঠিক তখনই পেছন থেকে পরিচিত গলা—

“তুমি কি পাহাড় গুনছো, না ভয় গুনছো, মিসাইল গার্ল!?”

নাভান পাশে এসে দাঁড়ায়। আজ তার চোখেও চাপ আছে, কিন্তু কণ্ঠে দৃঢ়তা। তিতিরের হাত থেকে অনেক কষ্টে বের হয়ে আসে সে। নিরব স্থানে এসেছে একটু ফ্রেশ হাওয়ার জন্য। এখানে এসে দেখে হেরাকে, তাই উপরিউক্ত কথা বলে।

হেরা বিরক্ত গলায় বলে।

“অসভ্য গিটার ওয়ালা, ইয়ার্কির সময় না এটা।”

নাভান এবার সিরিয়াস হয়।

“শোনো, এখানে যতজন আছে, সবাই ভালো। কিন্তু তোমার মতো কনফিডেন্ট খুব কম। তুমি নার্ভাস হচ্ছো মানে তুমি বিষয়টা সিরিয়াসলি নিচ্ছো। এটা খারাপ কিছু না।”

হেরা চুপ।

নাভান ধীরে বলে।

“বাইরের দেশের জাজ আছে তো কী হয়েছে? ভাষা বদলাতে পারে, কিন্তু যুক্তি বদলায় না। আর যুক্তিতে তুমি সেরা। ওইখানে মনে করবে আমার সাথে তর্ক করছো, তাহলেই তুমি জিততে পারবে—আমি সিউর!”

হেরা অবাক হয়ে বলে।

“মানে—!!!”

“মানে কিছু না। তোমার যে মুখ এটোম বোমের মতো, আমাকে প্রতিপক্ষ মনে করে তোমার এটোম বোমের মতো মুখ দিয়ে কয়েকটা বাণী ছুড়লেই জিতে যাবো আমরা!”

প্রথমে হেরা ভেবেছিলো এই লোক হয়তো বিতর্ক নিয়ে তাকে সাহস দিতে এসেছে। কিন্তু তার ধারণা ভুল। এই অহংকারী অসভ্য গিটার ওয়ালা যে কোনো দিন এমন চিন্তাধারা নিয়ে আসবে না, তা জেনেও ভুল ভেবেছে হেরা। খোঁচা মেরে কথা বলেই প্রস্থান করে নাভান। হেরা মনে মনে ভাবে—

“এর জবাব আমি পরে দিবো, অহংকারী গিটার ওয়ালা।”

দূরে মাইক থেকে ঘোষণা আসে,তাদের টিমের নাম।

হেরার বুকের ভেতরটা আবার ধক করে ওঠে। কিন্তু এবার ভয়টা একা না। তার সঙ্গে মিশে গেছে দৃঢ়তা।

নাভান যেতে যেতে বলে।

“চলো, বান্দরবনের পাহাড়ের মতো উঁচু হয়ে কথা বলি আজ।”

হেরা এক মুহূর্ত ইতস্তত করে, তারপর মাথা উঁচু করে হাঁটা দেয়।

কারণ সে জানে,আজ শুধু প্রতিযোগিতা না, আজ নিজের সীমা ভাঙার দিন।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হেরা এতো সুন্দর করে যুক্তি দিয়েছে, সবাই অবাক। মনে জিত থাকলে সহজে মানুষ তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। হেরাও পেরেছে। আজ যেনো আবার হেরা প্রমাণ করে দিলো—নাভানের অস্তিত্ব সে খুব তারাতারি মুছে ফেলবে।

বিজয়ী হবার খুশিতে স্যার স্টুডেন্টদের দুই দিন সবাইকে নিয়ে বান্দরবন এলাকা ঘুরবে বলে জানান দেয়। এতে অধীর, রুশা, রোজ আর সৃজন যেনো বেশ খুশি হয়। প্রেয়শিদের সাথে ভালো করে সময় কাটাতে পারবে তারা।

অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় হেরা আর নাভানকে একসাথে দেখা যায়। তিতির এ নিয়ে বেশ বিরক্ত। এদিকে নেন্সি নিলয়ের কাছে আসে। সিয়াম নিলয়ের সাথে কথা বলায় ব্যস্ত। নেন্সি নিলয়ের কাছে গিয়ে বলে—

“তুমি যে মেয়ের জন্য এতো মরিয়া, সে মেয়ে আদৌ কি তোমায় ভালোবাসে, নিলয়? ওই মেয়ের চরিত্রে সমস্যা। আজ তোমার সাথে ঘুরবে, কাল ওই নাভানের সাথে। তুমি কি দেখে এতো পাগল হয়েছো, নিলয়? আমায় দেখো, আমি তোমার শূন্যতায় কারো সংস্পর্শে যাই না। তুমি কয়লাকে হিরা ভেবে ভুল করছো, নিলয়। সরে এসে আমার ভালোবাসা গ্রহণ করে নাও, জান!”

নেন্সি ইদানিং হেরার কথা ভুজুংভাজুং বলে বেড়ায় নিলয়কে। তাতে অবশ্য সে পাত্তা দেয় না। কিন্তু আজ একটু বেশি বলে ফেলছে নেন্সি। তিতির নেন্সির সাথেই ছিলো। নাভানের সাথে হেরার ঘনিষ্ঠতা তারও চোখে পড়ছে। সে তো পারছে না ওই হেরাকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে, যেখানে নাভানের আশেপাশে কোনো নারীর বাতাসও সে দূষিত বলে আখ্যায়িত করে। আর সেখানে ৬ ঘন্টার ভিতর ৫ ঘন্টা ভার্সিটিতে তারা একসাথে থাকছে। নিলয় নেন্সিকে কড়া ভাষায় বলে উঠলো—

“ফারদার তোমার ওই মুখে আমি আমার হেরা ফুলের নাম শুনতে চাই না। ফুলের মতো তার নাম! আর কেউ যদি সে নাম ভাঙার চেষ্টা করে, আমি নিজে তার জবান টেনে ছিঁড়ে ফেলব। বুঝেছো?”

সিয়াম নিলয়ের কাঁধে হাত রাখে। নিলয় দূরে হেরাকে আসতে দেখে একটু শান্ত হয়। সাথে নাভানও রয়েছে। তিতির যেন এবার জ্বলে উঠে।

“শোনো, নিলয়, তোমার সো-কল্ড প্রেমিকাকে আমার নাভানের থেকে দূরে রাখবে। তা না হলে তোমার প্রেমিকার কী হাল করবো, তা কল্পনার বাহিরে।”

“তোমার চোদ্দগুষ্টির ক্ষমতা নেই আমার ফুলকে একটা টোকা দেওয়ার। যে মুখে বলছো, আমি চাইলে সে মুখ এসিডে জ্বালিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখি। কিন্তু না—আমার ফুলের সামনে আমি কখনো আমার কঠোর রূপটা আনবো না। তাই বলে যে আড়ালে করতে পারবো না, তা কিন্তু নয়, মিস তিতির পাখি।”

থেমে আবার বলে নিলয়—

“তা তোমার কী ধারণা? তোমার নাভানের ক্যারেক্টারে সমস্যা? একটা ছেড়ে আরেকটা ধরবে? আরে, সে তো তোমাকে ধরেও নি। আর হেরার সাথে কী সম্পর্ক, তা আমার জানা। হেরাকে সে সহ্য করতে পারে না। কিন্তু অন্য মেয়েকে সহ্য একদিন করতে হবে তোমায়, তাই তার পরিকল্পনা করো—কিভাবে নাভানের মতো ঘুরাবে। সে তোমায় যে এক বিন্দুও ভালোবাসে না, তা আর কেউ জানুক বা না জানুক, আমি জানি।”

“ইউ ইস্টুপিট!”

তিতির রাগে ফুসফুস করছে। নাভান নাকি তাকে ভালোবাসে না! তাহলে তার প্রতি এতো কেয়ার, এতো যত্ন, এতো প্রটেক্ট—এগুলো কি? তার বাবা যে বলেছে ভালোবাসা মানে এগুলো—কেয়ার করা, যত্ন নেওয়া। তার বাবা মিথ্যা বলে না।

নিলয় রাগি গলায় বললো—

“জাস্ট এই জবান দিয়ে আমার হেরা ফুলের নাম উচ্চারণ করলেও আমি সব জ্বালিয়ে দিবো।”

বলে প্রস্থান করে নিলয়। এদিকে সিয়াম অশ্রুসিক্ত চোখে নেন্সিকে দেখে, সেও চলে যায় নিলয়ের পিছু পিছু। তারা যেতে তিতির বলে উঠে—

“তুই কেনো নিলয়ের পিছু পড়ে আছিস, নেন্সি? ও তোকে চায় না, তাও কেনো পড়ে আছিস!”

নেন্সি অশ্রুসিক্ত চোখে বললো—

“আমি তাকে ভালোবাসি, তিতির। তুই যেমন নাভানকে ভালোবাসিস, আমিও। তুই যেমন ওই মেয়েকে নাভানের আশেপাশে সহ্য করতে পারিস না, আমিও পারি না।”

তাদের কথার মধ্যে তাদের ক্লাসমেট জিসা এসে হাসি দিয়ে বলতে শুরু করে—

“আরে তোরা এতো ভাবিস কেনো? তোদের সমস্যা ওই মেয়ে। নেন্সি, শুধু নিলয়ের সাথে বেগড়া বাজাচ্ছিস। আরে ভাই, এমন চাল দে যাতে রাজ্য আর রাজপুত্র তোর থাকে।”

নেন্সি আর তিতির জিসার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে—কি করবে?

জিসার খুব রাগ হেরার উপর। প্রতিবার সে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে, কিন্তু এবার হেরার জন্য সে চান্স পেলো না। তাই একটু শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাদের কানে ফিসফিস করে কিছু বলে। প্ল্যান শেষে তিতির আর নেন্সি হাইফাইভ দেয়।

এদিকে অধীর আর রুশা দুইজন দুই দিক গাল ফুলিয়ে বসে আছে। কারণটা খুব সামান্য। রুশা এই অনুষ্ঠানেও উপন্যাসের বই নিয়ে এসেছে। সে এবার যে উপন্যাস পড়ছে, এখন আপাতত তার ওই নায়ক ছাড়া কিছু ভালো লাগছে না। কথায় কথায় অধীরকে তার সাথে তুলনা করছে।

তাই অধীর বইটা নিয়ে পানিতে কয়েকটি পৃষ্ঠা ছিঁড়ে গুলিয়ে সেই পানি খেয়ে ফেলেছে। যার কারণে আপাতত দুজনের মুড ফোটকা মাছের মতো ফুলে গেছে।

এদিকে রোজ আর সৃজন বিন্দাস। সৃজন রোজ বলতে পাগল এখন। মেয়েটাকে ছাড়া সে কিছুই কল্পনা করতে পারে না। তারা বুঝের মধ্যে থাকে, কিন্তু অধীর আর রুশা তো বাচ্চামো করে সবসময়।

স্যারের কথায় সবাই খুব খুশি হয়—তারা বান্দরবন ঘুরার সুযোগ পেয়েছে বলে।

সবাই ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে রেডি হচ্ছে—ঘুরতে যাবে। নাভান আর হেরা সবার মধ্যেই আছে। সবাই তাদের নিয়ে কথা বলছে, প্রশংসা করছে। এসব দেখে তিতির, জিসা ও নেন্সির গায়ে আগুন ধরছে।

শয়তানের কি আর মাথায় ভালো বুদ্ধি ঘোরে! তারা হেরার ক্ষতি করার পরিকল্পনা করছে।

একদিন বেশ মজা মাস্তি করে ঘুরে বেড়ায় সবাই। হেরা আর নাভান একত্রে থাকছে। অনেকে জানে হেরা আর নাভানের সম্পর্ক কেমন, তাই কেউ তাদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করে না। আবার কলেজের ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট বলে কথা।

অনেকের মনে প্রশ্ন হয়—নাভান হেরাকে নিয়ে বেশি ভাবে কেন? আর কোনো প্রতিপক্ষদের নিয়ে তো এতো মাতামাতি করে না! নাকি এর পিছনে কোনো কিছু আছে, যা অজানা?

সবাই মিলে পাহাড়ি এক গভীর বনে যাবে। সেখানে অবশ্য নিরাপদের কর্মীরা আছে, তাই ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

শয়তানের কাজ সয়তানি করা। জিসা, তিতির, নেন্সি—তাদের সয়তানিবুদ্ধি কাজে লাগাতে ব্যস্ত। ২–৩জন মেয়েকে বলেছে ভুলিয়ে, ভালিয়ে হেরাকে আলাদা করতে। অনেক ঘুরাঘুরি করে সবাই ক্লান্ত। সবাই গাছের নিচে বসে জিরিয়ে নিচ্ছে আর পানি, বিস্কুট খাচ্ছে। নাভান কিছুটা দূরে, ফোনে নেট না থাকায় হেটে যাচ্ছে। তিতির সেই সুযোগ কাজে লাগায়।

হঠাৎ ভয়ংকর আওয়াজ শুনে সবাই ছুটোছুটি করে। সবাই এমন ভাবে ছুটছে কিছু ভুজে ওঠার আগে। রুশা, রোজ, সৃজন ও অধীর একসাথে। বান্ধবির মধ্যে সে সিঙ্গেল হয়ে পরেছে। তাই নেট না পেয়ে ক্যামেরা নিয়ে পিক তুলছিলো, তাদের থেকে দূরে দাঁড়িয়ে। ঝিনুক আসে নি—এই প্রতিযোগিতায়, তুষারের খুব জ্বর। তাই সে তার এই অবস্থা রেখে আসে নি। হেরা ভয়ে দৌড়াচ্ছে, কিন্তু ভিরের মধ্যে তাকে লেং মেরে ফেলে দেয় তিতির। রোজ, রুশা, অধীর, সৃজন—তরাও একসাথে দৌড়াচ্ছিল। হেরাকে মুখ থুবড়ে পরে থাকতে দেখে দুই বান্ধবি ছুটে আসে। এদিকে আওয়াজটা আরো ভয়ংকর শোনা যাচ্ছে। তাদের রেখে সবাই অনেক দূরে চলে গেছে।

নিলয় গিয়েছিল হেরার জন্য কিছু খারাপ আনতে। তাই এগুলো তার অজানা।
অধীর রুশার হাত শক্ত করে ধরে, সৃজনও রোজের হাত শক্ত করে ধরে। আর রোজ ও রুশা হেরার হাত আঁকড়ে ধরে দৌড়ায়। এদিকে কিছুদূর যেতে ৪ রাস্তার মোড় দেখতে পায়। দুইজন মেয়েকে এক রাস্তা দিয়ে ছুটতে দেখে মনে করে সবাই এই রাস্তা দিয়ে গিয়েছে। বোকা যুবক-যুবতীরা বোঝতে পারলো না—এটা তিতিরদের প্ল্যান ছিল। প্যানে শুধু হেরা থাকলেও এবার আরো দুই জোড়া মানুষ একত্রিত হয়। তিতির রাগে ফুসতে থাকে।

ছাত্র-ছাত্রী সবাই একত্রে হতে নাভান এদিক সেদিক তাকিয়ে খুঁজতে থাকে অধীর ও সৃজনকে। সাথে চোখ বোলায়—কে কে মিসিং। বুকের ভেতর ধক করে উঠে একটা মেয়ের কথায়—

“আরে, ৫জনকে দেখেছি ওই গভীর বনের দিকে ঢুকতে।”

নিলয় হাতে খাবার নিয়ে শুনে এই অবস্থ্য। মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে। সে খুব ভালো জানে ওই বন তাদের জন্য কতটা ভয়ংকর হতে পারে। ভয়ে রিতিমত হাত-পা কাপছে তার। কি করবে, সে ভেবে না পেয়ে তার বাবাকে ফোন দেয়। বাবা সাফ সাফ না করেছে—সকাল হবার আগ পর্যন্ত কাউকে ওই বনে যেতে না দেওয়ার জন্য। ব্যাস, এটাই নিলয়ের ভয়ের মাত্রা আরো দ্বিগুণ করে দিয়েছে। সে ফোন হাতে নিয়ে ছুটে চলে নাভানের পিছু। সবাই তাদের মানা করছে, কিন্তু তারা কারো কথা শুনার জন্য প্রস্তুত নয়।

সামনে সেই রাস্তা—৪ রাস্তার মোড়। নিলয় কি ভেবে অন্য রাস্তায় যায়? আর এদিকে নাভান অন্য রাস্তায়।

“কি হতে চলে তাদের সাথে ভয়ংকর কোনো বিপদ, যা থেকে ফিরতে পারবে না, নাকি সুস্থ্য-সবলভাবে ফিরতে পারবে সবাই!? এখন এটাই দেখার পালা!!”

চলবে…….??????

গল্পতে আগের মতো রেসপন্স পাচ্ছিনা । এমন চলতে থাকলে গল্প দেওয়া অফ করে দিবো ।💔💔

প্রেমের বাজিমাত পর্ব-১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *