
প্রেমের বাজিমাত
লেখনিতে রোজ ও রুশা
পাঠ-১৯
নাভান গভীর বনে অধীর আর সৃজনকে ডেকেই যাচ্ছে
“অধীর,সৃজন,রোজ,
নাভান পাগলের মতো ডাকছে কিন্তু কোনো সারাশব্দ নেই। এদিকে ৫ জন বনের শেষ প্রান্তে এসে গেছে প্রায়,কিন্তু তাদের পথ ফুরাচ্ছে না যেনো। সৃজন দাঁড়িয়ে ভালো ভাবে লক্ষ্য করে চারিপাশ। সবাই হাত ধরে ছুটার ফলে অনেক জায়গায় হোচোট খেয়ে তাদের শরীর এর অবস্থা নাজেহাল।সৃজন বলে উঠলো—
” আমরা ভুল পথে এসেছি,বনের ভিতরে ঢুকে গেছি বাহিরে না গিয়ে।
“ সৃজন এর কথা শুনে এবার সবাই চারিদিক তাকায়। শুখনো ঢুক গিলে আশেপাশে দেখে,রোজ রুশা ভে ভে করে কেদে দেয়। হেরার পায়ে খুব বাজেভাবে যখম পেয়েছে। তাও নিজেকে দূর্বল না করে শান্তনা দেয় দুজনকে।
“এখন ঘাবরে যাওয়ার সময় না,সবার হাতে ফোন আছে আশা করি সমস্যা হবে না। চল যে পথদিয়ে এসেছি আবার সেই পথদিয়ে যাই।
গভীর বনটা যেন আজ তাদের গিলে ফেলতে চাইছে। চারপাশে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, দূরে,কোথাও অজানা পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ। সব মিলিয়ে ভয়টা আরও ঘনীভূত হয়ে উঠেছে।
হেরার গলার দৃঢ়তায় বাকিরা সাহস পেল। যেন অন্ধকারের ভিতর একমাত্র আলোটা হেরাই।
ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বলে উঠল একে একে। আলো খুব বেশি নয়, শুধু সামনে কয়েক কদম দেখা যায়। মাগরিবের আজানের সময় যখন তারা দৌড়ে ঢুকেছিল, তখন আকাশে লাল আভা ছিল। এখন পুরোপুরি রাত। বনের ভেতরে সেই অন্ধকার আরও ঘন, আরও গাঢ়।
কিছু দূর যেতেই তিনটা রাস্তা দেখা গেল। তিনদিকে তিনরকম ছায়া। কোনটা দিয়ে এসেছিল তারা?
সৃজন বলল__
“এই দিকটা… আমার মনে হয় এই দিকটাই।
অধীর একবার বলতে চেয়েছিল—
“ভালো করে দেখ,”
কিন্তু রুশার কাঁপা শরীরটা বুকে চেপে ধরে আর কিছু বলতে পারল না। মেয়েটার মুখ কান্নায় লাল গোলাপি হয়ে গেছে। সে শুধু বলছে_
“আমরা বের হতে পারব তো?”
হেরা দাঁড়িয়ে শ্বাস নিচ্ছে কষ্ট করে। পায়ের যন্ত্রণায় চোখ ভিজে উঠছে। তবু সে রোজ আর রুশার মাথায় হাত রাখছে।
“আমরা আছি তো… কিছু হবে না।”
কিন্তু তার মনেও ভয়। তারা যে পথে হাটছে
ওরা জানত না,এই পথটাই তাদের সবচেয়ে বড় ভুল।
নাভান দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁপিয়ে উঠেছে। গলার স্বর ভেঙে গেছে তবু থামছে না।
নাভান চিৎকার করে ডেকে উঠল__
“হেরা”
তার কণ্ঠে শুধু আতঙ্ক না, একটা কাঁপা কাঁপা অস্থিরতা। যেন কাউকে হারানোর ভয় বুকের ভেতর ছটফট করছে। হেরা নাম টা উচ্চারণ করতে তার গলা শুখিয়ে যাচ্ছে। ইসসস কি মায়াভরা ডাক দিলো নাভান। হেরা যদি শুনতো নাভান তাকে এমন ভাবে ডাকছে পাগলের মতো তাহলে মনে হয় এটা বলতো—
“বাহ বাহ অহংকারী গিটার ওয়ালার মনে দয়া মায়া ও আছে I’m তো অবাক!
কিন্তু আজ কেউ কিছু বলছে না।
নাভান পাগলের মতো দৌড়াচ্ছে বনের অন্য প্রান্তে।
তার গলা ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো সাড়া নেই। শুধু পেঁচার ডাক, শুকনো পাতার শব্দ আর নিজের শ্বাসের আওয়াজ।
হঠাৎ তার বুকের ভিতর অদ্ভুত একটা ভয় চেপে বসল।
হেরার মুখটা ভেসে উঠল সামনে।
হেরা যখন রাগ করে, ঠোঁট ফুলিয়ে থাকে।
হেরা যখন হাসে, চোখের কোণে ছোট ভাঁজ পড়ে।
হেরা যখন কষ্ট লুকায় তখন তার চোখ আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
“তোমার কিছু হবে না মিসাইল গার্ল …
মনে মনে ফিসফিস করল নাভান।
সে নিজের কথা ভাবছে না। মাথায় শুধু একটাই ভয়,যদি ওরা ভুল পথে যায়? যদি হেরা আহত হয়? যদি রুশা ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়? যদি সৃজন কোনো ঝুঁকি নেয়?
বনের অন্ধকার তার এতো দিনের করা সাহস তাকে কাপিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু সে থামছে না।
একসময় তার মনে হলো,আচ্ছা,
হেরা কি কাঁদছে?
হেরা কি নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছে?
হেরা কি আবার সবার সামনে সাহসী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে?
এই চিন্তাই তাকে আরও ব্যথা দিল। বুকে হটাৎ চাপা একটা টান অনুভব করে । কই আগে তো কিভাবে হেরাকে সবার সামনে হেনস্তা করা যায় তার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেতো । কিন্তু আজ এমন লাগছে কেনো? তার বউ বলে ! হ্যাঁ, হেরা তো তার বউ! যে পরিচয় তারা কেউ মানে না আর না সামনে আনতে চায় কখনো! কিন্তু আজ নাভান এর বুকে এমন চাপা ব্যাথা হচ্ছে কেনো! মিসাইল গার্ল এর জন্য, এটা কি ভালোবাসা মায়া নাকি সম্পর্কের টান?
“মিসাইল গার্ল একবার ডাক দাও …
আমি চলে আসব,
দাঁত চেপে বলল নাভান। কিন্তু পাতার শব্দ ছাড়া আর কিছু শুনতে পেলো না।
তার ফোনের আলো কাঁপছে হাতে। হাত ঘেমে গেছে। বুক ধুকপুক করছে এত জোরে যেন মনে হচ্ছে গাছেরাও শুনতে পাচ্ছে।
হঠাৎ দূরে একটা ডালের শব্দ।
নাভান থমকে দাঁড়াল।
নাভান আবার ডাকলো__
“হেরা?”
কোনো উত্তর নেই।
তার মনে হচ্ছিল,অন্ধকার যেন ইচ্ছে করে ওদের আলাদা করে দিয়েছে। যেন বনটা তাদের ভয় দেখিয়ে পরীক্ষা নিচ্ছে, কে কাকে কতটা মনে করে।
এদিকে সৃজনের পেছনে হাঁটতে হাঁটতে রোজ হঠাৎ বলল__
“আমার মনে হচ্ছে আমরা ঘুরে আবার একই জায়গায় আসছি…
অধীর থেমে চারদিকে তাকাল। একই রকম তিনটা গাছ। একই ভাঙা ডাল। একই কাদা।
রুশা আবার কাঁদতে শুরু করল।
“আমার অনেক ভয় করছে হেরা পাখি,ওই লাইভ টেলিকাস্ট আমার ভয় করছে (কান্না করে কথাটা বলল রুশা )
হেরা এবার একটু হোঁচট খেল। ব্যথায় মুখ বিকৃত হয়ে গেল, কিন্তু সাথে সাথে নিজেকে সামলে নিল।
সৃজন ঘুরে তাকাল।
“ছোট বোন , ঠিক আছো?
হেরা মিথ্যে হাসল।
“হুম ঠিক আছি আমি।
তার চোখে জল চিকচিক করছে, কিন্তু সে কাউকে দেখতে দিচ্ছে না।
এদিকে নাভানের মাথার ভেতর শুধু একটা দৃশ্য ঘুরছে।
হেরা পড়ে গেছে…হেরা ডাকছে…
হেরা একা দাঁড়িয়ে আছে অন্ধকারে…
তার গলা ভারী হয়ে গেল। সে আকাশের দিকে তাকাল, চাঁদ নেই, তারা নেই। যেন পুরো পৃথিবীটাই আজ অন্ধকার। এই বন জংগল তো তার কাছে নতুন নয় তাও এতো ভয়!!
“মিসাইল গার্ল , তুমি শক্ত থাকো… আমি আসছি।”
নাভান এর কণ্ঠে ভয় আছে, অপরাধবোধ আছে, আর আছে একরাশ মায়ার টান , যা সে কখনো মুখে স্বীকার করেনি।
বনের গভীরে আজ শুধু পথ হারায়নি তারা,
হারিয়ে গেছে দিশা, সময়, সাহস।
কিন্তু একটা জিনিস এখনো হারায়নি,
তাদের একে অপরের উপর অন্ধ বিশ্বাস।
আর সেই বিশ্বাসই হয়তো বাঁচাবে তাদের…
অথবা আরও গভীর অন্ধকারে টেনে নিয়ে যাবে।
হঠাৎ অনেকগুলো পায়ের শব্দ কানে আসতেই সবাই একসাথে থমকে যায়। মুহূর্তের মধ্যে যেন চারপাশের বাতাসও ভারী হয়ে ওঠে। পাতার মচমচ শব্দ, শুকনো ডালের ভাঙা আওয়াজ,স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, কেউ একজন না, একাধিক লোক এদিকেই এগিয়ে আসছে।
আসার সময় সৃজন লক্ষ্য করেছিল,কিছু ছেলেরা একটু দূরে বসে নেশা করছিল। তখন গুরুত্ব দেয়নি, কিন্তু এখন সেই দৃশ্যটা হঠাৎ করেই ভয়ের রূপ নেয়। বুকের ভেতর ধড়ফড় শুরু হয় তার।
ভয়ে সৃজন চুপচাপ রোজের হাত শক্ত করে চেপে ধরে। রোজ কাঁপছে, তার নিঃশ্বাস দ্রুত হয়ে উঠেছে। হেরা পায়ে যন্ত্রণা নিয়েও খুব ধীরে ধীরে হাঁটতে থাকে, দাঁতে দাঁত চেপে সাহস ধরে রাখার চেষ্টা করছে। অধীর এক হাতে তার কিউটিপাইকে শক্ত করে ধরে, অন্য হাতে রুশাকে জড়িয়ে নেয়। যেন নিজের শরীর দিয়ে ওদের আড়াল করে রাখতে চায়।
ছেলেরা হলে হয়তো এতটা ভয় পেত না। কিন্তু তাদের সঙ্গে তিনটা মেয়ে। যদি সত্যিই বিপদ আসে? যদি ওই নেশাগ্রস্ত ছেলেগুলো খারাপ কিছু করার চেষ্টা করে? তখন কীভাবে সামলাবে?
এই চিন্তাই দুই যুবকের মাথায় ঝড় তোলে।
পায়ের শব্দ আরও কাছে আসতেই সৃজন খুব নিচু গলায় বলে ওঠে__
“অধীর, আগে লুকিয়ে পড়। দেখি কারা এগুলো। সবাই ফোনের লাইট বন্ধ করো। একদম শব্দ কোরো না।
তার কণ্ঠে চাপা দৃঢ়তা। ভয় আছে, কিন্তু ভয়কে চাপা দিয়ে দায়িত্বটাই বড় হয়ে উঠেছে।
সৃজনের কথায় সবাই সায় দেয়। দ্রুত গাছের আড়ালে সরে যায় তারা। ঘন অন্ধকারে বড় গাছের কাণ্ডগুলো যেন একেকটা ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। অধীর আর সৃজন সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের প্রিয় মানুষগুলোকে আড়াল করে রাখে। ওদের চোখ এখন অন্ধকার ভেদ করে আসা ছায়াগুলোর দিকে।
ওপাশ থেকে কণ্ঠ ভেসে আসে। মাতাল, জড়ানো গলায় প্রথম নেশাখোর ছেলেটা বলল!
“আরে মামা, ওই মাইয়ার দলটারে এইদিকে আইতে দেখছিলাম। এখন দেখি উধাও! আসলে কি মাইয়া আছিল, নাকি নেশায় ভুলভাল দেখতাছি?
তার কথায় পাশের দ্বিতীয় ছেলেটা হেসে উঠল কর্কশভাবে,
“ধুর! আমি তো কসম খাইয়া কইতাছি, তিন-চারটা মাইয়া আছিল। আইচ্ছা জঙ্গলে আইছে ক্যান? চল, একটু সামনে যাই। পাইলে আজকে মজা হইবো মামা!
কথাগুলো শুনে রোজের শরীর আরও কেঁপে ওঠে। হেরা ঠোঁট কামড়ে ধরে। অধীরের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়, মুঠো বাঁধা। সৃজন ধীরে শ্বাস নেয় এখন কোনো ভুল চলবে না।
অন্ধকার বনের মধ্যে নিঃশব্দ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে তারা। ভয় আছে, কিন্তু তার চেয়েও বড় তাদের একে অপরকে বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকার। সৃজন চেয়ে থাকে হালকা গাছের ফাক ফোকোরের আলোতে অধীরর এর দিকে। নাভান এর কলিজা অধীর ছেলেটা যে একেবারে নাজুক, নাভান এর জন্য হলেও অধীর এর কিছু হতে দেয়া যাবে না, চোখ যায় হেরা, ও রুশার দিকে। বোনের মতো মেয়েগুলো র দিকে তাকালে কেমন বড়ো ভাই ভাই ফিল আসে, তার তো কোনো ভাই বোন নেই এই দুই মেয়েকে বোনের জায়গা দিয়েছে সে, তাদের ক্ষতি করার আগে নিজের উপর দিয়ে সব বিপদ নিবে তাও তাদের ক্ষতি হতে দিবে না। আর তার বুকে যে একটা ফুল আছে তাকে তো সবটুকু দিয়ে আগলে রেখেছে, রোজ মেয়েটার কিছু হলে যে সে দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে। মাথায় হাজারো চিন্তার মাঝে সৃজন শক্ত থাকে।
অধীর আর সৃজন নেশাখোর ছেলেদের কথাগুলো শুনেই আরও সতর্ক হয়ে ওঠে। তারা এক ঝটকায় মেয়েদের নিজেদের পেছনে সরিয়ে নেয়। দু’জনেই সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, যেন যেকোনো মুহূর্তে ঢাল হয়ে যাবে।
সৃজনের মনে হঠাৎ নাভানের কথা আসে।
নাভান কি বুঝতে পেরেছে তারা হারিয়ে গেছে?
সে কি খুঁজতে বের হয়েছে?
এই গভীর অন্ধকারে বন্ধুর নামটাই যেন একটু সাহস দেয় তাকে। নিলয় হন্তদন্ত হয়ে বিরবির করছে আর একটা গোপন আস্তানায় যাচ্ছে, যা সে ছাড়া কেউ জানে না এই বনের প্রতিটি কোনা তার পরিচিত, তাই সে নিজেই এই পথ বেছে নিয়েছে কিন্তু তার মনে হেরাকে নিয়ে ভয়,
“হেরা ফুল আমি তোমার কিছু হতে দিবো না।একটু ক্ষতিও হতে দিবো না।তোমার কিছু হলে আমি এই বান্দরবান এর প্রতিটি বন জংগলে আগুন জ্বালিয়ে দিবো।
এক পাগল প্রেমিক পুরুষ এর আর্তনাদে, হুংকারে পুরু জংগল এর প্রানি ভয়ে আছে যেনো । আচ্ছা একাধিক মানুষ এর মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে আবার এমিন করে কারো প্রতি আসক্ত হওয়া যায়। আচ্ছা হেরা যদি তার আসল রুপ জানে তাহলে কি এখন যে সম্মান দেখায় তখনো কি দেখাবে। না নিলয় হেরার সামনে তার সত্য কোনো দিন আসতে দিবে না।
” আমার জি ম্যান,
তিতির কে অনেক কষ্ট করে আনা হয়েছে রিসোর্টে, মেয়েটা যখন নাভান জংগলের ভিতর ডুকতে দেকগেছে তখনি পাগলামি শুরু করেছে,তার ভালোবাসার মানুষ তার ছোট বেলার ক্রাস জি ম্যান যদি হাড়িয়ে যায় আবার তখন কি করবে সে। তিতির মনে মনে ভাবে, থু থু উপরের দিকে ফেললে সেই থু তু কিন্তু নিজের শরীরে লাগে,পরের জন্য কুয়া খুড়লো সে আর সেই কুয়ায় নিজেই পরছে, যদি যে নেন্সি ও অই মেয়েটার বুদ্ধিতে এমন কাজ বা করতো আর হেরা,সৃজন,অধীর,রোজ,রুশা বিপদে পরতো আর না নাভান তাদের বাচাতে যেতো,মেয়েটাকে মেডিসিন খাইয়ে ঘুম পারিয়ে দিচ্ছে,কিন্তু অই যে একটা স্বপ্ন,
“আমি বিয়ে করবো বাবা আমি বিয়ে করবো,জি ম্যান তুমি কই যাচ্ছো,আমি তোমাকে ছাড়া থাকিতে পারবো না জি ম্যান।
এই স্বপ্নটা বার বার দেখে লাফিয়ে উঠে আর জি ম্যান বলে ডাকতে থাকে।
” আ আ আমি আর কিছু করবো না জি ম্যান আমি আর এমন কাজ করবো না যেটাতে তোমার বিপদ হতে পারে,আমি যদি অই হেরাকে।
সবার সামনে মুখ ফসকে বলতে নিলে নেন্সি মুখ চেপে ধরে, ফিসফিস করে বলে।
“তুই কি পাগোল তিতির, সবাই জানলে কি হবে বুঝতে পারছিস? তোর একা কষ্ট হচ্ছে আমার হচ্ছে না নিলয় যে চলে গিয়েছে আমার কি কষ্ট হচ্ছে না, অই মেয়ে আমাদের জীবিন টা শেষ করে দিচ্ছে,জবে থেকে এই ভার্সিটিতে এসেছে।
এদিকে হেরার মন অন্য কোথাও। ভয়, ব্যথা, অন্ধকার,সব কিছুর মাঝেও তার মাথায় একটাই নাম ঘুরছে,নিলয়।ছেলেটা সবসময় তার বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছে বন্ধুর মতো, যদিও হেরা বুঝে নিলয় এর সব কিছু কিছু সে তো বলেছে বন্ধু ছাড়া সে আপাতত কিছু ভাবতে পারবে না । আজ কোথায় সেই বন্ধু ? আজ কেন নেই?মনে মনে যেন ডেকে ওঠে হেরা ।
“নিলয়… আপনি কি জানেন আমি বিপদে?
আবার পরোক্ষনের নাভান এর কথা মনে হতে বুকে চাপা একটা ব্যাথা হয়, কিডন্যাপারে দিন নাভান হেরাকে বাচাতে নিজে আঘাত তার শরীরের নিয়েছে তাও কতো যন্ত করে নাভান তকে আগলে রেখেছিলো বুকে মুহুর্তে মুখের রঙ পরিবর্তন হয়ে যায় অন্যরকম একটা বৈধ টান অনুভব হয় যা সে স্বীকার করতে চায় না। নাভান কি আজ হেরাকে এভাবে দেখলে আগলে নিতো নাকি আবার ঢাল হয়ে সামনে দাড়াতো বিপদ মোকাবেলা করার জন্য। এ কেমন দ্বিধা কাজ করছে হেরার মনে নাভান কে কেনো আশা করছে তার বিপদে। নিলয় এর প্রতি তার একটা সম্মান আছে কিন্তু এমন টান সে অনুভব করে নি তাহলে কি এটা বৈধতার টান।
হেরা একটু পিছিয়ে গাছের গায়ে হেলান দিতে যায়। কিন্তু অন্ধকারে কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। হঠাৎ শব্দ করে উঠে হেরা।
“আউচ!”
চাপা চিৎকার বেরিয়ে আসে তার মুখ থেকে ব্যাথাতুর শব্দ।
গাছটার গায়ে খেজুরের শুকনো কাঁটা-ভরা ডাল ছিল। অন্ধকারে না দেখে হেলান দেওয়ায় কাঁটা তার পিঠ আর হাতে বিঁধে যায়। যন্ত্রণায় সে কেঁপে ওঠে। রুশা তাকে ধরে ফেলে, কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে।শব্দটা নিস্তব্ধতার বুক চিরে বেরিয়ে যায়। ওপাশের নেশাগ্রস্ত ছেলেগুলো সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায়। তারপর একজন বলে ওঠে।
“শুনছস? এইদিকে আওয়াজ হইছে!
পরক্ষণেই কয়েকটা মোবাইলের টর্চের আলো একসাথে জ্বলে ওঠে। তীব্র সাদা আলো অন্ধকার ভেদ করে এদিক-ওদিক ঘুরতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই আলো এসে পড়ে তাদের গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়াগুলোর ওপর।
“এই যে! এইদিকে!
চারদিক থেকে তারা ঘিরে ধরে।
প্রথম নেশাখোর ছেলেটা বিকৃত হাসি হেসে বলে।
“ফুলটুসি গো ফুলটুসি… লুকাইয়া আর লাভ কী? বাইর হও ময়না পক্ষি , ভয় পাইও না।”
নেশাখোর ছেলেটা একটু থামে, চোখ বুলিয়ে নেয় মেয়েদের দিকে। তার চোখে লালসা, কণ্ঠে মাতলামির জড়তা।
“আজ তোদের নিয়া এই বনের ভেতর ভাসুম। কেউ বিরক্ত করবো না আমাগো। বিশ্বাস করো, অনেক মজা দিমু। রেডি হও, তাড়াতাড়ি। আমার তো আর তর সইতাছে না!”
তার কথায় পাশের আরেকজন খিলখিল করে হেসে ওঠে। তারপর আলো ফেলে দেখে সামনে অধীর আর সৃজন দাঁড়িয়ে আছে।
“আরে এইহানে দেখি পুরুষও আছে!
নেশাখোর ছেলেটা ঠোঁট বাঁকায়।
“ওহ্ বুঝছি… নিজেরাই মজা নিতে আইছস? মামা, তো মামা একা একা খাইবা ক্যান? আমাগোও একটু দিয়া খাও!”
কথাগুলো শুনে অধীরের রক্ত মাথায় উঠে যায়। তার হাত মুঠো হয়ে শক্ত হয়ে আছে। সৃজনের চোখ অন্ধকারের থেকেও কালো হয়ে ওঠে।
ভয় আছে,তবে তার চেয়েও বড় তাদের দায়িত্ব।
তাদের পেছনে তিনটা মেয়ে কাঁপছে। সামনে কয়েকজন মাতাল ছেলে। বনের বাতাস যেন থেমে গেছে।একপাশে নেশা আর লালসা। অন্যপাশে ভালোবাসার মানুষগুলো। অধীর ধীরে এক পা সামনে বাড়ায়। সৃজন খুব নিচু গলায় বলে।
“যা-ই হোক, তোমাদের কিছু হতে দিব না।”
অন্ধকার জঙ্গলের ভেতর আসন্ন ঝড়ের আগে যেমন নিস্তব্ধতা নেমে আসে,ঠিক তেমন একটা ভারী মুহূর্ত নেমে আসে সবার ওপর।
ছেকেগুলোর কথায় অধীর সাহস দেখাতে গেলেও তার মনে ভয় আছে, নাভান তাকে সব বিপদ থেকে দূরে রাখে,মোমের পুতুলের মতো ছেলেটাকে প্রটেক্ট করে। কিন্তু সৃজন এর রক্ত গরম হয়ে যায়,অধীর মারামারি এসবে অভস্ত্যতা নয়,কিন্তু সৃজন মাঝে মাঝে নাভান এর সাথে মিলে যায় রাগ হলে,ছেলেটা রাগে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে বলে। শক্ত কন্টে বলে।
“আমরা ঘুরতে এসেছিলাম পথ হাড়িয়ে ফেলি,আমাদের যেতেদিন।
সৃজন এর কথা যে শুনলোই না ছেলেগুলো আবারো দ্বিতীয় নেশাখোর ছেলেটা বললো।
আরে মামা কচি মাল কিন্তু চামড়া গুলা চকচক করতাছে তিনটাই কড়া,অই নিল কালারের জামা পড়া মাইয়াডারে আগে ধর, শালির শরীর মনে হয় মাখন ,এককেরে কচি মাল আজ খাসা মজা হইবো তা মামনি আইসাপরো তোমারে কনো কষ্ট দিমু না, আসো আসো।
এবার রোজ রুশা হেরার চোখ দিয়ে পানি পরে তারা কনোদিন এমন পরিস্থিতিতে পরে নি আর হেরা লজ্জায় কান্না করে দেয়,ভাই এর মতো মানুষ গুলোর সামনে তাকে কি বলছে। রুশা বলল।
প্লিজ ভাই আমাদের ছেড়ে দিন আমাদের ক্ষতি করবেন না,আমরা আপনাদের পায়ে পরি,,
।
।
কে শোনে কার কথা! ছেলেগুলো তখন নেশার ঘোরে,চোখ লাল, কথা জড়িয়ে যাচ্ছে, আচরণে কোনো হুঁশ নেই। বেশি কিছু না বলে তারা হেরার দিকে এগিয়ে আসে। একজন তার ওড়নার কোণা ধরে টান দিতেই হেরা যেন বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ওঠে। বুক ফেটে এক চিৎকার বেরিয়ে আসে তার গলা থেকে।
একটা আর্তনাদ, যেখানে ছিল ভয়, অপমান, অসহায়তা আর বাঁচার শেষ আকুতি।
সৃজন তখন আর নিজেকে সামলাতে পারে না। সামনে দাঁড়ানো দু’তিনজনের সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে মারামারিতে। তার চোখে তখন একটাই জেদ—হেরাকে বাঁচাতে হবে। কিন্তু সংখ্যায় তারা বেশি, আর নেশায় বেপরোয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল ঠিক তখনই—
হেরার চিৎকার যেন অন্ধকার ভেদ করে কোথাও পৌঁছে যায়।
মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে চারপাশে অদ্ভুত নড়াচড়া শুরু হয়। ঝোপঝাড় কাঁপে, শুকনো পাতার ওপর পায়ের শব্দ। তারপর অন্ধকার চিরে হাজির হয় সাত-আটজন মুখোশধারী লোক। কারও হাতে ছুরি, কারও হাতে বড় চাকু, কারও হাতে জ্বলন্ত মশাল। আগুনের লালচে আলোয় তাদের ছায়া যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
নেশাখোর ছেলেগুলোর চোখের নেশা মুহূর্তেই কেটে যায়। তাদের গলায় শুকনো ঢোক গেলার শব্দ শোনা যায়।
সৃজন এতগুলো অচেনা, মুখোশধারী মানুষ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তার মনে পড়ে যায় এই এলাকার নাম,অলংকার এড়িয়া’।
এই জায়গায় শুধু ডাকাতি হয় না,মানুষ খুন হয়, কিডনি-চোখ পাচার হয়, লাশ গায়েব হয়ে যায় রাতারাতি। এখানে আইনের চেয়ে বড় নাম,কাল্লু ডাকাত। নাভান এর কাছে শুনেছিলো একদিন।
ঠিক তখনই সামনে এগিয়ে আসে একজন। লম্বা দেহ, কাঁধে কালো চাদর, চোখে অদ্ভুত কঠোরতা। সে-ই কাল্লু ডাকাত। তার কণ্ঠ ভারী, কর্কশ, অথচ অদ্ভুত স্থির।
“এই যে ডাইলখোরের দল! ডাইলের ব্যবসা করস, কর। আমার কিচ্ছু যায় আসে না। কিন্তু মাইয়া মানুষের গায়ে কলঙ্ক দিবি,এইটা হইবো না, বাছারা। দরকার পড়লে মানুষ মার, কিন্তু এই নোংরা কাজ আমার এলাকায় চলবো না।
ওই জল্লু! ওই চিকনা ডাইলখোরটারে ধইরা আন আমার কাছে!”
প্রথম নেশাখোর ছেলেটার হাত-পা কাঁপতে থাকে। সে জানে, এই এলাকায় কাল্লুর কথাই শেষ কথা। এখানে খুন করলেও বিচার হয় না, কিন্তু মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া,সেটা কাল্লুর নিষেধ।
কারণ?
লোকমুখে শোনা যায়, কোনো এক অতীতের আগুনে তার নিজের বোন পুড়ে ছাই হয়েছিল ধর্ষণ করেছিলো বখাটেরা। বাচতে দেয় নি তারা। আর তার প্রেমিকা কে সে অনেক ভালোবাসে তার দেয়া কথা রাখতে মেয়েদের সম্মান দেয়, সেই থেকে তার মনে মেয়েজাতির জন্য অদ্ভুত এক কঠোর নিয়ম,ছোঁয়া যাবে না, কিন্তু রেহাইও নেই যদি সীমা লঙ্ঘন করে।
রুশা যেন আকাশের চাঁদ হাতে পায়। সে দৌড়ে গিয়ে হেরাকে জড়িয়ে ধরে। হেরা তখনও কাঁপছে, চোখে জল, ঠোঁট শুকিয়ে গেছে।
এক মুহূর্তে পরিস্থিতি ঘুরে যায়।
নেশাখোর ছেলেগুলো ভয়ে ভোঁ দৌড় দেয়। শুধু প্রথম ছেলেটা জল্লু মাস্তানের হাতে ধরা পড়ে।
জল্লু,কালো কুচকুচে, বিশাল দেহ, চোখে ভয়ংকর স্থিরতা। সে ছেলেটাকে টেনে এনে কাল্লুর সামনে ফেলে দেয়।
“ভাই, এই সালারে কী করমু কন?”
চারপাশে নিস্তব্ধতা। শুধু মশালের আগুনের শব্দ,ফটফট করে জ্বলছে।
ছেলেটা কাঁপছে, মুখে কান্না,
“ভাই ভুল হইছে, আর হইবো না…
কাল্লু ধীরে ধীরে তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে। চোখে চোখ রাখে। সেই দৃষ্টিতে রাগের চেয়ে বেশি ছিল ঘৃণা।
“ভুল একবার হয়। এইটা ভুল না—এইটা ভয়ংকর পাপ আর আমার এলাকায় এই পাপের শাস্তি মৃত্যু।
হেরা চোখ বন্ধ করে ফেলে। তার বুক কাঁপছে। সে জানে না কী হতে যাচ্ছে। ভয় আর নিরাপত্তার মাঝামাঝি এক অদ্ভুত অনুভূতিতে দাঁড়িয়ে থাকে সে।
আজ সে বেঁচে গেছে,কিন্তু এই অন্ধকারের ভেতর দাঁড়িয়ে সে বুঝতে পারে, এই পৃথিবীতে ভালো আর মন্দের সীমারেখা খুব অদ্ভুত।
একজন ডাকাত, যে খুন করতে পারে নির্দ্বিধায়, সে-ই আবার মেয়েদের সম্মান রক্ষা করল।
আয়, সবগুলারে নিয়ে আস্তানায় আয়!
অধীর আর সৃজনের মধ্যে দু-একটা ঘা পড়েছে ইতিমধ্যে। তবু দু’জন দাঁতে দাঁত চেপে চুপ করে আছে,শুধু মেয়েদের জন্য। হাত তুললেই আরও ঝামেলা বাড়বে, তাই উপায় না পেয়ে ওরা সবাইকে নিয়ে চলে গেল ওদের আস্তানায়।
কাল্লু মাস্তানের কথায় একে একে সবাইকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হলো। যে নেশাখোর ছেলেটা এতক্ষণ বুক ফুলিয়ে ঘুরছিল, তার নেশা যেন হাওয়া! চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসার অবস্থা।
কাল্লু এবার গম্ভীর গলায় বলল
“কিরে ডাইলখোর! তোকে এর আগেও কইছি না,এইসব আকাম করবি না?”
নেশাখোর ছেলেটা কাঁপতে কাঁপতে বলল—
“ভাই, আমার ভুল হইয়া গেছে… আর হইবো না। আল্লাহর কসম, আজকেই শেষ দিন!
আস্তানার ভেতর তখন টানটান অবস্থা। দড়ি দিয়ে বাঁধা সবাই, মাঝখানে কাল্লু মাস্তান,চেহারায় ভয়ংকর ভাব ধরার চেষ্টা করছে। কিন্তু সমস্যা একটাই,তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেই নেশাখোর ছেলেটা, যার নেশা কেটে গেলে সে হয়ে যায় পাড়ার সবচেয়ে শান্ত কবুতর।
নেশাখোর কাঁপা গলায় বলল।
“ভাই… মানে মামা… মানে বস… আপনি আসলে খারাপ না। আপনার চোখে মায়া আছে। এই শেষ বার আর এমন হইবো না।
কাল্লু কপাল কুঁচকে বলল।
“এই যে! বেশি মাখামাখি করবি না। আমি ডাকাত, সমাজসেবক না!
নেশাখোর মাথা নাড়িয়ে বলল!
“জানি ভাই। কিন্তু আপনি যদি ডাকাত হন, তাহলে আপনি ‘ভদ্র ডাকাত’। কারণ দড়ি বাঁধছেন ঢিলা কইরা!
আস্তানার কোণে দাঁড়িয়ে থাকা যুবক যুবতীরা চাপা হাসি দিল। অধীর ফিসফিস করে বলল।
“এই লোকটার নেশা গেছে, কিন্তু বুদ্ধি বাড়ছে!
সৃজন পাশ থেকে ফিসফিস করে সৃজনকে বলল,
“দেখছস? কসমের লিস্টও রেডি কইরা আনছে!
সৃজন আবার হালকা হেসে বলল,
“নেশা গেলে সবাই ভদ্রলোক হয় রে ভাই!”
কথার ফাঁকে রুশা চিৎকার করে উঠল।
“কালু মামা! ওই সালা পাতলুরে ক্ষমা করবেন না। পাতলু আমার বান্ধবী কম, বোন বেশি,হেরা পাখির হাত ধরছে! মামা, এরে তুলে এক আছাড় মারেন! আপনার যে বডি আপনি পারবেন আমি সিউর।
‘কালু’ নামটা শুনেই কাল্লুর চেহারা কেমন গাঢ় হয়ে গেল। তার কালো চামড়ার জন্য একসময় তার প্রেমিকা তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। সেই থেকে মেয়েদের ওপর তার অদ্ভুত এক রাগ। আর মেয়েদের মুখে ‘কালু’ ডাকটা শুনলেই তার মাথায় আগুন জ্বলে ওঠে।
সে ধমকে উঠল।
“এই! নামটা আরেকবার কইলে কিন্তু দড়ি খুলে তোদের দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু কইরা দিমু পিছন দিয়া কুত্তা ছাইড়া।
রুশা একটু থেমে মিষ্টি গলায় বলল।
কুত্তা না মামা “ডগ “হবে “ডগ”!
রুশা থেমে আবার বলে।
“ঠিক আছে মামা… কাল্লু মামা … মানে সম্মানিত কাল্লু মামা সাহেব বলে ডাকবো?!
সৃজন ফিসফিস করে বলল,
“কিরে লাইভ টেলিকাস্ট তোর লাগ গোলাপি ডাকাত রে সম্মানিত বেক্তি বানিয়ে দিলো দেখি!!
অধীর ঠোঁট চেপে হাসি আটকাতে গিয়ে কাশতে লাগল।
কাল্লু চারদিকে তাকিয়ে গম্ভীর থাকার চেষ্টা করলেও মুখের কোণে একটা হিরো ভাব দেখালো জল্লুকে , কাল্লু আবার নেশাখোর ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল!
“তোরে আমি ছাড়মু, কিন্তু একটা শর্ত, আজকের পর যদি কোনো মাইয়ার হাত ধরতে দেখি, হাত না, পুরো মানুষটাই গাছের সাথে বেঁধে কিডনি, চোখ,সব বিদেশে পাচার করমু।
নেশাখোর তাড়াতাড়ি মাথা নেড়ে বলল।
“ভাই, আমি এখন থেকে শুধু নিজের হাতই ধরমু!”
অধীর বলল,
“ওইটা ধরলেই ভালো, অন্য কিছু ধরিস না!
আস্তানার ভেতর হালকা হাসির রোল পড়ে গেল। জিল্লুর হু হা হাসিতে, এই লোক টা হাসলে মনে হয় জোকার হাসছে,জিল্লু হাসি দেখলে যে কেউ হেসে দিবে তার হাসি টাই এমন!!
তবে কাল্লুর চোখে এখনও একটা সতর্কতা।
“মনে রাখবি , মেয়েদের সম্মান করবি । আর বেশি নায়কগিরি দেখাইতে আইলে, এই কাল্লু… মানে কাল্লু ডাকাত তো ,আছেই, তোর পিন্ডি চটকে দিবো !”
সবাই চুপচাপ মাথা নেড়ে সম্মতি দিল। কিন্তু ভেতরে ভেতরে অধীর আর সৃজন ভাবছে,আজকের এই আস্তানা অভিযান হয়তো এখানেই শেষ না… সামনে আরও বড় কিছু অপেক্ষা করছে। সৃজন যেনো ভয় আর অপেক্ষা করায় বেস্ত ঠিক বুঝা গেলো না,আর অধীর ও আগের মতো,এদিকে হেরা আর রোজ বিরক্তিতে কটমট চোখে তাকায় বালের হিরো এরা কিচ্ছু করতে পারছে না, এর থেকে উপন্যাস এর নায়ক দের নিয়ে কল্পনা জল্পনা করার ঢের ভালো!!
চারিদিক কেরোসিন ল্যাম্পের হলদে আলো দুলছে। বাঁধা অবস্থায় বসে আছে অধীর, সৃজন, রুশা আর রোজ। চারদিকে কাল্লু ডাকাতের সাঙ্গোপাঙ্গরা দাঁড়িয়ে,কারও হাতে লাঠি, কারও হাতে চাপাতি। বাতাসে কেমন অদ্ভুত উত্তেজনা।
রুশা কাঁপা গলায় বলল,
“কালু মামা, আপনি কিন্তু আমাদের ওপর অবিচার করছেন। ওই পাতলু এত অন্যায় করেও মুক্তি পাবে, আর আমরা কী দোষ করেছি? আমাদেরও ছেড়ে দিন না…
কথাটা শেষ হতেই কাল্লু ডাকাত গর্জে উঠল। তার চোখ দুটো লাল, গলার স্বর ভারী ও কর্কশ।
“চুপ, ছেমড়ি! আমি কালা,এটা তোরে কে বলছে বারবার কইতে? এই ‘কালা, কালা’ শুনতে শুনতেই আমার কানে পোকা ধরেছে! তোদের মতো মেয়েগো আমি ঘৃণা করি। সুন্দরী মাইয়াগো তো আরও বেশি! দেমাক এমন, পা মাটিতে পড়ে না! কালা কালার জন্য আমার প্রেমিকা আমায় ছাইড়া গেছে!
অধীর রুশার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। চোখ রাঙিয়ে ধমক দিল।
“তোমার মুখটাই বেশি চলে। এখন যদি এরা তোমার কথার জন্য আমাদের মেরে ফেলে?
রুশা অধীরের দিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। তার চোখের পানি ল্যাম্পের আলোয় চিকচিক করে উঠল।এই অবস্থায়ও রোজ থামল না। সে একটু এগিয়ে এসে বলল।
“আরে মামা, কে বলেছে আপনি কালা?যে কইছে ওই মাইয়ার চোখ কালা! তার মন কালা! আপনি তো কালাচাঁদ,ঝকঝকে, একেবারে চাঁদের মতো ”
রোজের কথায় যেন আগুনে ঘি পড়ল। কাল্লু ডাকাত দাঁত চেপে উঠল। তার মুখ শক্ত, কিন্তু চোখে কোথায় যেন একটা দহন।
“চুপ, মাইয়া! এক আছাড় মারমু, দাঁত সব গুনতে পারবি না! তোরে কে বলছে আমার ভালোবাসা কালা? আমি কালা, আমার চৌদ্দগুষ্টি কালা এইটা সত্যি, কিন্তু আমার ভালোবাসা কালা না… সে অনেক সুন্দরী। তাই তো তার দেমাক বেশি!
কথা বলতে বলতে তার কণ্ঠে অদ্ভুত কাঁপন ধরা পড়ল। যেন রাগের আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্যরকম ব্যথা। এবার সৃজন বলল।
“আরে মামা আপনি না বললেন আপনার প্রেমিকা আপনি কালা দেখে ছেড়ে চলে গেছে।
কাল্লু ডাকাত রাগি চোখে তাকায় বলল।
” হ চলে গেছে, কিন্তু ও তো সুন্দরী তাই আমায় কালা কইতো ছেড়ে চলে গেছে তাই বলে তারে অপমান করবি তরা।
“মামা ছেলে চলে গেছে তাও এতো ভালোবাসা(সৃজন)
এবার জল্লু বলল।
” ভাই আপনি ইমোশনাল হইয়া যাইবেন,আগে কন এদের এহন কি করমু আর এই ডাইলখোর রে কি করমু অবিচার করন যাইবো না, পরে এই মাইয়া পোলার দল গুলা কইবো আমরা বিচার করতে পারি না। কাল্লু মাস্তান কি জানি ভাবলো তারপর বলে উঠে।
“এই ডাইলখোর এর চোখ সবার আগে তুলবি, এটার চোখ মাগনা নিয়া দিমু অই টাকাখোর ডাক্তারদের ।
এবার সবাই ভয় পায়।নেশাখোর ছেলেটি বুঝে এবার তার মৃত্যু নিশ্চিত,রুশা আবার বলল।
“
আপনি অনেক ভালো বলেছেন, মামা। ঠিকই বলেছেন,এই পাতলুর কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার। আমি একমত… এই পাতলুর চোখ তুলে ফেলুন।
মেয়েটার কথা শেষ হতে না হতেই পাশে বসে থাকা নেশাখোর ছেলেটা হঠাৎ হেসে উঠল। তার চোখ দুটো লাল, গলায় নেশার ভারী টান না থাকলেও । মদের তিব্র গন্ধ বাতাসে নাকে লাগছে মাঝে মাঝে। ছেলেটি বিদ্রুপাত্মক হাসি দিয়ে বলে।
“ওই মাইয়া! এই কাল্লু রে কি তোর ভালা মানুষ মনে হয় নাকি, শালি?
সালা কিডনি পাচারকারী ডাকাত সর্দার কাল্লু! এ শুধু ডাকাতিই করে না,মানুষ পেলেই খুন করে। তারপর তাদের ভিতরের কিডনি,কলিজা, সব তুলে বিদেশিদের কাছে বিক্রি করে!
আর তুই এখানে বসে মার কাছে মাসির কথা কস! শালি”
ছেলেটার কথা শুনে যেন মুহূর্তেই চারপাশের বাতাস জমে গেল।
ঘরের ভেতর এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এল।
রুশা আর রোজের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। ভয় আর আতঙ্কে তাদের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। তারা দুজনই ধীরে ধীরে অধীর আর সৃজনের দিকে তাকাল,যেন তাদের চোখে একটু ভরসা খুঁজছে।
রুশা ফিসফিস করে বলল,
“রোজ… যদি সত্যিই উপন্যাসের মতো কোনো সাহসী ছেলে আমাদের সাথে থাকত, তাহলে হয়তো আমরা দুই মিনিটেই এখান থেকে বের হয়ে যেতে পারতাম…
রোজ মলিন হেসে মাথা নেড়ে বলল,
“হ্যাঁ… উপন্যাসে তো সবসময় একটা নায়ক থাকে।
যে ঠিক সময় এসে সবাইকে বাঁচিয়ে নিয়ে যায়…”
অধীর পাশ থেকে কটাক্ষ করে বললো।
” এটা উপন্যাস না এটা বাস্তব,(অধীর)
“তোমায় কি বলবো তুমি তো আমার থেকে ভয় বেশি পাও।(রুশা)
” কাল্লু ডাকাত ধমকে উঠে।
চুপ সব, এই সব গুলারে ভোরের দিকে মেরে অই বিদেশি ডাক্তার এর কাছে পাচার করবি এখন যা মুরগী লিয়ে আয়,একটা পারটি দিচলাই, কি বলিস রে বাচ্চারা!
কাল্লু মাস্তান তাদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের লোকদের নির্দেশ দিচ্ছিল। মোটা পেটটা হাঁটার সঙ্গে দুলছে, আর মাথার টাক জায়গাটা আগুনের আলোয় চকচক করছে। চারপাশে তার কয়েকজন লোক দাঁড়িয়ে, আর অধীর, সৃজন, হেরা, রোজ, সবাইকে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে।
এতক্ষণ হেরা চুপচাপ সব দেখছিল। ভয় ছিল ঠিকই, কিন্তু তার চেয়ে বেশি ছিল রাগ। শেষ পর্যন্ত আর নিজেকে থামাতে পারল না।
হেরা রাগে কটমট করে কাল্লুর দিকে তাকিয়ে বলল!
“অই কালু! টাকলা পেটমোটা! তোর মাথায় তো দেখি অনেক বুদ্ধি! আমাদের মারবি? সালা একবার হাতটা খুল,তারপর দেখ তোর কি অবস্থা করি! তোর কিডনি পাচার করমু আমি!”
চারপাশে হঠাৎ চুপচাপ নেমে এল। এমন কথা শুনে কাল্লুর নিজের লোকেরাও অবাক।
কাল্লু চোখ বড় বড় করে চেঁচিয়ে উঠল,
“অই ছেমড়ি! তুই কি কইলি?
হেরা একটুও ভয় পেল না।
“কইছি তুই আসলেই কালা! তোর মন কালা! ভিতরে বাহিরে পুরাটাই কয়লার মতো কালা! সালা কাল্লু!”
রোজ দ্রুত বলে উঠল!
“কালু মামা, ও বাচ্চা মানুষ। ওর মাথায় একটু সিট আছে। আপনি কিছু মনে করবেন না। চাইলে আপনাকে আমি ফর্সা হওয়ার ক্রিম কিনে দিবো।একেবারে ৭ দিনে ঝকঝকে তকতকে সাদা ফকফকা হয়ে যাবেন।
কাল্লু একটু থেমে গেল। কি মনে করে যেনো রোজের কথায় সায় দিলো।
“সত্যি? এমন ক্রিম আছে? এক্কেরে দুধের লাহান সাদা করিব টু লাই আমাকে।
রোজ গম্ভীর মুখে বলল।
“হ্যা মামা, আছে।”
সৃজন অধীর একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে সৃজন নিচু গলায় অধীরকে বলল।
“এইটা ডাকাত না, বিউটি পার্লারের কাস্টমার মনে হয়।
তারা যে এমন বিপদে আছে তা এই ডাকাত দলের সাথে যুক্ত হয়ে ভুলে বসেছে। অধীর হাসি চেপে বলল।
“চুপ কর, না হলে আগে আমাগো ফেসওয়াশ দিয়ে দিবে। তখন যা কেলানি দিছে রে ভাই পিঠ টা ব্যাথা করছে।
হেরা আবার বলল।
“যতই করো ঘষা-মাজা, আসলে তুমি কাইল্লা। গ্যাংয়ের সভাপতি! ওরে মিস্টার কাইলা!
কয়েকজন ডাকাতও এবার হাসি চেপে রাখতে পারল না। জল্লু হু হা করে হেসে ফেললো।
কাল্লু রেগে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠল।
“চুপ! বেশি কথা কইলে কিন্তু ভালো হইবো না ছেমড়ি।
হেরা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল।
“তুই কি খুব ভালো নাকি?কালু!
হেরা দূর থেকে নাভানকে আসতে দেখেই তার মনে হটাৎ সাহস বেড়ে যায়।তাই যা মুখে আসছিলো তাই বলছিলো হেরা, এদিকে নাভান এর পড়নে সাদা গেঞ্জির উপর চকলেট কালারের শার্ট হাতা ফোল্ড করা চুল এলোমেলো হাতের কালো বেল্টের ঘড়ি, আর কালো পেন্ট, আচ্ছা কোনো ছেলেকে এমন ঘাম ঝড়া এলোমেলো মুখে এতো ভয়ংকর সুন্দর লাগতে পারে তা এই শেহতাজ খান নাভান কে না দেখলে হেরা জানতো না, কই নিলয় ও তো সুন্দর কিন্তু তার দিকে এতো মহো নিয়ে কেনো চোখ যায় না হেরার।
পাগলের মতো খুজতে খুজতে
হঠাৎই তার চোখ গিয়ে থামে হেরার উপর হালকা আলোয় আর আকাশের চাদের মিশেলে হেরার মুখ টা অদ্ভুত সুন্দর দেখাচ্ছে নাভান এর কাছে, জায়গা টা পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচু জায়গায়, যেখানে গাছ পালা খুব বেশি না হাতে গুনা কয়েকটা আর তাদের বেধে রাখা হয়েছে সবাইকে। সবাইকে এক নজর দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে নাভান। হেরা ঠিক আছে।
মুখে একটু ধুলা, হাতে দড়ির দাগ, তবু সে মাথা উঁচু করে বসে আছে। চোখে হার মানা নেই।
নাভান এর বুকের ভেতরের ঝড়টা যেন একটু থেমে যায়। সে নিঃশ্বাস ফেলে ধীরে ধীরে। মনে হচ্ছিল এতক্ষণ সে ঠিক করে শ্বাসই নিতে পারছিল না। তার চোখে একফোঁটা পানি চিকচিক করে ওঠে, কিন্তু সে তা লুকিয়ে ফেলে।
মনে মনে বলে ওঠে।
“আলহামদুলিল্লাহ… ঠিক আছে সবাই!
নাভান এর চোখে চোখ পরতেই হেরার বুক ধক করে উঠে, কিছু একটা ছিলো নাভানের চোখে আচ্ছা জ্বলের ফোয়ারার মতো কি চিকচিক করছিলো নাকি হেরার মনের ভুল। হেরাকে এমন স্তব্দ হয়ে চেয়ে থাকতে দেখে সবাই তার চোখ অনুসরণ করে তাকায় সৃজন এর মুখে হাসি ফুটে উঠে।
” নাভান তুই।
নাভান এই একটা নামে তাদের মনে সাহস এনে দেয় মুহুর্তে, নাভান ডাকাতদের উদ্দেশ্য করে বলে।
“কি চাই তোদের ছেড়ে দে,কি লাগবে তোদের বল আমি দিচ্ছি।
কাল্লু মাস্তান নাভান এর বডি আর চেহারা দেখে একটু তিক্ষ্ণ চোখে তাকায়। এতো মানুষ এর সাথে চলাফেরা করেছে তাই খুব সহজে ধরতে পেরেছে ছেলেটা সাধারন কোনো ছেলে না। তাই একটু বাজিয়ে দেখছে।
” আরে তুই কি প্রেসিডেন্ট এর পোলা নাকি যে তোর কথায় ছেড়ে দিবো? কই জল্লু অই মাল ডারে ধর।
“তোদের সরদার কে?
প্রশ্ন করে নাভান, উত্তরে হেরা ফট করে বললো।
” অই কালু টাকলা পেট মোটা বাট্টু টা এদের সরদার। গিটার ওয়ালা।
কাল্লু আবার ক্ষিপ্ত হলো এই মেয়ে বার বার কাল্লু ডাকছে।আচ্ছা ডাকছে ভালো কথা একটু সম্মান তো দিবে, না ডিরেক্ট কাল্লু। তার থেকে কতো বড়ো তাও একটু সম্মান দেয় না এই মেয়ে কাল্লু তার টাকলা মাথায় হাত দিয়ে বললো।
“আবার তুই কালা কইলি!
এই বলে কাল্লু এগিয়ে এসে হেরার গালে সজোরে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল।
হেরার মাথাটা এক ঝটকায় কেঁপে উঠল, গালটা মুহূর্তেই লাল হয়ে গেল। চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই যেন কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল।
কিন্তু দৃশ্যটা দেখে নাভানের চোখ মুহূর্তেই রক্তবর্ণ হয়ে উঠল। যেন মাথার ভেতর আগুন জ্বলে উঠেছে। এক মুহূর্তও দেরি করল না সে। সোজা এগিয়ে গিয়ে কাল্লুর সামনে দাঁড়াল, তারপর,
ঠাস!
নাভানের হাতের চড়টা এত জোরে পড়ল যে কাল্লুর মাথা একপাশে কেঁপে উঠল। চারপাশের লোকজনও থ হয়ে তাকিয়ে রইল।
নাভান দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“ওই কালু! তোর সাহস কী করে হয় মিসাইল গার্লের গায়ে হাত তোলার?
হেরা সঙ্গে সঙ্গে রাগে ফুঁসে উঠল। চোখ রাঙিয়ে বলল,
“এই অহংকারী গিটারওয়ালা! আমাকে মিসাইল গার্ল বলবেন না। আমার নাম।মেহেরিমা ইসলাম হেরা?
পাশ থেকে কেউ আতঙ্কিত গলায় বলে উঠল সৃজন।
“ভাই, আমাদের বাঁচা! এখান থেকে নিয়ে যা। ঝরগড়ার সময় পরে পাবি।
হেরা হতভম্ব হয়ে বলল।
“এই লোকটা ? আমাদের মারতে এসেছে নাকি? না হলে কাল্লুকে থাপ্পড় দিল কে!
এবার নাভান চোখ ছোট ছোট করে তাকায় হেরার দিকে যার জন্য করলো চুরি সে কয় চোর। ছেলেটা তখন হঠাৎ হেরার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,
“এই কালু! ওই মিসাইল গার্লকে দুই গালে চারটা থাপ্পড় দেন। আপনাকে এক থাপ্পড় দিয়েছে না? ওইটার বদলা।”
হেরা তাড়াতাড়ি বলে উঠল,
“এই কালু মামা, এই অহংকারী গিটারওয়ালাকে মারুন! আমি কিন্তু বলিনি আপনাকে মারতে, আপনি নিজেই মেরেছেন। আমি কিছু বলিনি কিন্তু!”
তারপর আবার একটু নিচু গলায়, যেন উসকেও দিচ্ছে আবার সাবধানও করছে।
“জানেন, এই বেটার গায়ে কিন্তু অনেক জোর। আপনাকে তুলে এক আছাড় মারতেও পারে। আর এর হাতের চড় খেলেই তিন দিন জ্বর থাকবে। সাবধান থাকবেন… আপনার থেকেও বড় ডাকাত মনে এই অসভ্য অহংকারী গিটার ওয়ালা।
নাভান দাঁত চেপে বলল।
“আর একটা কথা বললে থাপ্পড় দিয়ে গাল লাল করে দেব, মিসাইল গার্ল!
“অই কই তরা,জল্লু,চিল্লু ধর এই সাহেব রে।
স্টপ, জাস্ট স্টপ আমাকে ছোয়ার চেষ্টা ও করিস না! (নাভান)
হেরা আর কাল্লু ডাকাত এর দুরুত্ব অনেক কম। হেরা কাল্লুকে উদেশ্য করে বলে।
“দেখলেন, কেমন জোরে ধমক দেয়। আর জানেন আপনি একে ধরার কথা বলছে না এখন যদি এর গফ থাকতো তাহলে আপনার অবস্থা খারাপ করে ছারতো দুইটা তারছিড়া।
কাল্লু হেরার কথার উত্তরে বলে।
” গফ কি।
“আরে মুর্খ কালু প্রেমিকা কে গফ বলে ইংরেজিতে। তার প্রেমিকা থাকলে বলতো ছাড় আমার বেবিকে ছাড়।
হেরার বকবকানিতে কাল্লুর ধ্যান বার বার নষ্ট হচ্ছে।নাভান কাল্লুর উদ্দেশ্য বলে।
“এই কালু তোরে আমি ২ কুটি টাকা দিবো এদের সবাইকে ছেড়ে দে শুধু এই মিসাইল গার্ল কে রেখে দে।
২ কুটি টাকার কথা শুনে কাল্লুর জল্লুর চোখ কপালে,
আমার সাথে মজা নিস বেটা দুই কুটি টাকা মুখের কথা,
চারপাশের বাতাস তখন টানটান হয়ে আছে।
কাল্লুর লোকজন বুঝতে পারছে।
এই ছেলেটা সাধারণ কেউ না।
আর কাল্লু নিজেও মনে মনে ভাবছে।
“এই গিটারওয়ালাটা আসলে কে?”
কারণ তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার চোখে ভয় নেই…
বরং এমন এক আগুন আছে, যা চাইলে পুরো আস্তানাই জ্বালিয়ে দিতে পারে।
কাল্লু কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। নাভানের চড়ের জ্বালা যেন এখনও গালে টনটন করছে। সে ধীরে ধীরে গালটা মালিশ করতে করতে নাভানের দিকে তাকাল। চোখ দুটো ছোট হয়ে গেছে, যেন লোকটাকে ভেতর থেকে পড়ে নিতে চাইছে।
চারপাশে তার সাঙ্গোপাঙ্গরাও একটু দূরে সরে দাঁড়িয়েছে। কেউ ফিসফিস করছে, কেউ আবার কাল্লুর মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে চাইছে এখন কী হবে।
হঠাৎ কাল্লু গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
“এই গিটারওয়ালা… তুই কে রে?
নাভান ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে বলল,
“কে আমি সেটা জানার দরকার নেই। সবাইকে ছেড়ে দে।
নাভান বাকিটা শেষ করল না। শুধু চোখের দৃষ্টি দিয়েই যেন কথাটা শেষ করে দিল।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নেশাখোর ছেলেটা একটু সাহস পেয়ে বলল।
“কাল্লু মামা, অর্ডার দেন। একসাথে ঝাঁপাইয়া পড়ি।
কাল্লু হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিল।
তারপর আবার নাভানের দিকে তাকাল। এবার তার মুখে অদ্ভুত একটা হাসি ফুটে উঠল।
“হুম… সাহস তো কম না। আমার সামনে দাঁড়াইয়া আমাকেই থাপ্পড় মারছিস!
তারপর হঠাৎ সে জোরে হেসে উঠল।
“হাহাহা! এই পোলাটা আমারে মারছে!”
তার লোকজন একটু হতভম্ব হয়ে গেল। তারা ভেবেছিল এখন মারামারি শুরু হবে, কিন্তু কাল্লু উল্টো হাসছে!
হেরা ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে রইল।
কাল্লু এবার হেরার দিকে তাকিয়ে বলল,।
“এই মাইয়া, তোর ওই গিটারওয়ালার বন্ধুর সাহস আছে কিন্তু।
হেরা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,।
“বন্ধু না। অহংকারী গিটারওয়ালা।”
কাল্লু আবার হাসল।
“ঠিক আছে, অহংকারী গিটারওয়ালা।”
তারপর নাভানের দিকে তাকিয়ে বলল,।
“কিন্তু একটা কথা… তুই যদি সাধারণ কেউ হইতি, এতক্ষণে তোরে আমার পোলাপানরা মাটিতে ফালাইয়া দিত।”
নাভান শান্ত গলায় বলল,।
“চেষ্টা করে দেখতে পারিস।
এই কথাটা শুনে আবার চারপাশে গুঞ্জন শুরু হলো।
হঠাৎ পাশ থেকে এক লোক কাল্লুর কানে কানে জল্লু কিছু বলল।
“সর্দার আমি মনে হয় চিনতেছি। এই পোলাটারে আগেও কোথাও দেখছি…।
কাল্লু কপাল কুঁচকে বলল কাল্লু।
“কোথায়?”
জল্লু ডাকাত একটু ভয়ভয় গলায় বলল,।
“ওই যে… দুই মাস আগে নদীর ঘাটে যারা পাচারকারীদের ধরছিল… তাদের মধ্যে একটা ছিল এই পোলা।”
কথাটা শুনে কাল্লুর চোখ একটু বড় হয়ে গেল।
সে আবার ভালো করে নাভানের দিকে তাকাল।
মনে মনে বলল
“এই পোলাটা তাহলে ওই?”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে হঠাৎ সে হাত তুলে বলল,।
“এই! কেউ হাত দিবি না।
বলতে বলতে কিছুর হুইসেল পায়,সবাই সর্তক হয়ে যায়।কাল্লু ডাকাত নাভান এর সামনে এসে বলে।
“তুই ভাগ্যবান। আজকে তোরা ছাইড় পাইলি।
তারপর হেরার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আর তুই মাইয়া… তোরে একটা কথা বলি। তোরে মিসাইল গার্ল ঠিকই কইছে। মুখটা মিসাইলের মতোই।
কাল্লু সহ সব ডাকাত হঠাৎই ছুটে পড়ল, যেন মাটির উপর পা পড়লেই আগুন জ্বলে উঠবে। ডাকাতদের এই হুল্লোড়ের মধ্যে, নিলয় ছুটে আসে হেরার কাছে। নাভান একে একে সবার বাধন খুলে দেয়। হেরা আগুনের পাশে বসে, তার পায়ের চোট কিছুটা ব্যথা দিলেও মুখে সাহসের ছাপ অটুট। নিলয় ছুটে আসে সাথে আরো অনেক জন যারা ডাকাতদের পিছু নিয়েছে।হেরা অনেক অবাক। নিলয় কে এমন অবস্থায় দেখে। এদিকে হেরাকে ঠিক থাকতে দেখে মুখে এক ঝলক হাসি ফুটে উঠে নিলয় এর।ছেলেটা হেরার কাছে গিয়ে হেরার হাত ধরে বলতে থাকে।
“হেরা… তুমি ভয় পেও না। আমি সবসময় তোমার পাশে থাকব।
হেরার মুখে ফুটে ওঠা ছোট্ট হাসি, তার চোখে ভরা কৃতজ্ঞতা,এই দৃশ্য নাভান এর হৃদয় কাঁপিয়ে দেয়।
নাভান পেছনে দাঁড়িয়ে তাদের দিকে তাকায়। চোখে আছে ক্ষিপ্ততার আগুন, কিন্তু সেই আগুনের ভেতর জাগে এক অদৃশ্য, তীব্র জেলাসি। সে বুঝতে পারছে, নিলয় শুধু হেরালে ভালোবাসে না তার থেকে বেশি হাড়ানোর ভয় পায়।নিলয় হেরার কাছে এতটা কাছের হয়ে উঠেছে যে, নাভান নিজের কাছে কেমন হেরে যাচ্ছে দিন কে দিন।
হঠাৎ হেরার হাসি নাভান এর হৃদয়ে এক অদ্ভুত চিৎকার তুলল,একধরনের জ্বলন্ত, নরম যন্ত্রণা। সে চায় হেরা নিরাপদ থাকুক, চায় হেরাকে দেখে আশ্বস্ত হোক। কিন্তু এই আবেগের সঙ্গে ভেতরে জেগে উঠছে এক অদ্ভুত ক্ষিপ্ততা,কেন নিলয় এত কাছে?
নাভান ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে, কিন্তু দৃষ্টিতে নেই রাগের প্রতিচ্ছায়া, বরং আছে অপ্রকাশিত অদৃশ্য টান । সে চায় হেরা বুঝুক, সে সবসময় পাশে আছে। সে চায় হেরা নিলয় এর দিকে না তাকাক—কিন্তু জানে, এই মুহূর্তে তা সম্ভব নয়।
হেরার চোখ আবার নিলয় এর দিকে ফিরে যায়। নাভান এর হৃদয় যেন চেপে ধরল, বুকের ভেতর জ্বলছে এক অদৃশ্য আগুন। সে শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে, অথচ প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি কথা নাভান এর মনে নতুন ব্যথা তৈরি করছে। তার হেরার প্রতি টান যেন আগুনের মতো জ্বলছে—ভেতরে শক্ত, বাইরে শান্ত।
এই অদৃশ্য টান হেরার চোখে পড়ে না, কিন্তু নাভান বলতে চায়
“হেরা, আমি আছি দেখো আমারো চিন্তা হয়েছে খুব তোমার জন্য। আমারো বুক কেপেছে দেখো এখনো এই বা পাশে হাত দিলে তুমি বুঝতে পারবে
কিন্তু বা নাভান সেটা বলতে পারলো না।
সবাই দূর্বল হয়ে বসে আছে। না খাওয়া আর দৌড়ানোর ফলে সবার গলা শুখিয়ে গেছে, রুশা ডাব এর ছড়ি দেখতে পেয়ে কাছে যায়, এখনো ডাকাতদের রান্না করা মুরগী আগুনের উপর কলাপাতায় মোড়ানো মাছ এগুলো পুড়ে খায়।রুশার একটা এডভেঞ্চার নিতে মন চাইলো।
” ভাই ডাকাতদের হাতের রান্না,সবার কপালে জুটে না , আয় খেয়ে নে।
সবার বেশ খুদা পেয়েছে নাভান আর নিলয় ছাড়া সবাই ইচ্ছেমতো খেয়ে নেয়,রোজ রুশা ওড়নায় অনেক গুলো পেয়ারা ও বনাদি ফল নিয়ে নেয়, আর অধীর কাধে কলার এক বিশাল কান্দা উঠিয়ে নেয়,কিছু দূর যেতে যেদে স্যার সহ পুলিশ, ও কিছু আর্মিরা এদিকে আসছে।
হেরার পা কাটার ফলে নিলয় তাকে ধরে হাটছে।স্যার সহ সকল স্টুডেন্টরা সবাইকে ফিরে পেয়ে হাজার শুকরিয়া করে।
চলবে……..