তোমাতেই আসক্ত ২ | Tomatei Asokto 2

ভালোবাসার টানে যখন হৃদয় পুরোপুরি কারও কাছে হার মানে, তখন সেই অনুভূতির নামই হয় আসক্তি।

তোমাতেই আসক্ত ২

 পর্ব:১ 

তানিশা সুলতানা

 “আবরার ভাই আমাকে মে/রে/ছে। এই দেখো গাল দুটো লাল করে দিয়েছে থাপ্পড়ে। আবার হাতও মোচরে ধরেছিলো।

১৪ বছরের ছোট্ট মেয়েটার ডান গালটা অসম্ভব লাল হয়ে আছে। পাঁচ আঙুলের ছাপ স্পষ্ট। থর থর করে কাঁপছে হাত পা। প্রচন্ড ভয় পেয়েছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
আব্দুল রহমান (আবরারের বাবা) হাত মুষ্ঠি বদ্ধ করে ফেলে৷ আতিয়া বেগম এবং বর্ষা খাবার পরিবেশ করছিলেন। আরিফের হাতে খবরের কাগজ। অহনা গভীর মনোযোগে নুডলস খাচ্ছে। যেনো খাওয়া ছাড়া এই মুহুর্তে পৃথিবীর সব কিছু মূল্যহীন।
হাফিজুল চৌধুরী (আবরারের দাদা) আদ্রিতার হাত টেনে নিজের পাশে বসায়। দুই হাতে চোখের পানি মুছে দিয়ে আদূরে স্বরে বলে
” আমি তাকে বকে দিবো। তুমি কেঁদো না।

তাতেই সন্তুষ্ট আদ্রিতা। সে অনবরত মাথা নারিয়ে কান্না থামানোর প্রচেষ্টা চালায়। 

রহমান সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। তিনি গম্ভীর স্বরে অহনাকে বলে
“যাও তোমার ভাইকে ডেকে আনো।

অহনা বিরক্ত নয়নে বাবার মুখ পানে তাকায়। আরিফ খবরের কাগজ রেখে বলে
“ভাই, ওকে ডাকতে হবে না। আদ্রিতা স্বভাবটা একটু বেশি ছেলেমানুষি।”
বর্ষাও তাতে সম্মতি জানায়। এবং অনুরোধ করে আবরারকে কিছু না বলার।
অহনা খুশি মনে আবার খাওয়া শুরু করে। যাক এই যাত্রায় কেনো মেলোড্রামা হবে না। শান্তিতে খাওয়া যাবে।।
তবে অহনার কল্পনায় জল ঢেলে দিয়ে আবরার নিজেই ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
২৪ বছর বয়সী আবরার তাসনিন বড়ই সুদর্শন। একবার তার পানে তাকালে নজর ফেরানো দায়। কাঁধ সমান ঝাঁকড়া চুল কপাল জুড়ে তাদের বিচরণ, পেটানো শরীর, ঘনকালো চাপ দাঁড়ি, উঁচু নাক, এবং ছোট ছোট বিলাই আঁখিপল্লব।
সব সময় ঢালাঢালা টিশার্ট কিংবা শার্ট পড়ে থাকবে।
সিগারেট ধরেছে আরও আগে তবে রহমান টের পেয়েছে সেদিন।।
যদিও আবরার তার থেকে লুকিয়ে খেতো না।
এই তো পৌরসুদিন রাত বারোটায়। ঘুম আসছিলো না ছাঁদে পায়চারি করতে গিয়েছিলেন রহমান।

আরো পড়ুন

 সেখানে গিয়ে দেখতে পায় ছাঁদের রেলিং এ বসে একের পর এক সিগারেট টানছে আবরার।
উনি ভেবেছিলো আবরার হয়ত ভয় পেয়ে সিগারেট ফেলে দিবে বা বাবাকে এক্সকিউজ দেখাবে, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার পায়তারা আঁটবে।
তবে সেসব কিছুই হয় না। বাবার সামনেই সিগারেট খেতে থাকে। রহমান রেগে বলে
” দিনকে দিন বখাটে হয়ে যাচ্ছো।
আবরার জবাব দেয় নি। যেনো শুনতেই পেলো না বাবার কথা।

আবরারকে দেখে আতিয়া বেগম দৌড়ে তার কাছে আসে। কপালে ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ লাগানো। বিচলিত হয়ে বলে
“কি হয়েছে আবরার? কপাল কাটলো কি করে?

আবরার সেই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বলে
” বাইক রেস রয়েছে আমার। আসছি

বেরুনোর জন্য এক পা এগোতেই রহমান বলে ওঠে
“আদ্রিতাতাকে মেরেছো কেনো?

আবরার দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকে তাকায় আদ্রিতার মুখ পানে। সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটা হাফিজুরের পেছনে লুকিয়ে পড়ে। সামান্য কেঁপেও বোধহয় উঠলো তার সত্তা।
আরিফ বলে
” কি শুরু করলে বলো তো বন্ধু? এটা ওদের ব্যাপার। ওরাই মিটিয়ে নিবে। 

আমরা কেনো ঢুকবো এসবে?

রহমান ঘোর প্রতিবাদের স্বরে বলে
“ওদের ব্যাপার মানে কি? গায়ে হাত তুলেছে। মেয়েটার গাল লাল হয়ে গিয়েছে।

আবরার বলে
পরের বার যদি আমার সামনে আসে, গাল ছাড়াও আরও অনেক কিছু লাল হবে। ওকে দূরে থাকতে বলে দিন।

ব্যাসস কথা শেষ হতেই বড় বড় পা ফেলে প্রস্থান করে আবরার। রহমান রাগে কটমট করতে করতে অনেক কথাই বলতে থাকে। সেসব মোটেও ঢোকে না আবরারের কানে। কেনো না ইতিমধ্যেই সে অনেক দূরে চলে গিয়েছে।
আদ্রিতা হাফিজুরের পেছন থেকে উঁকি দিয়ে দেখে নেয় এক পলক। 

তারপর ঠোঁট বাঁকিয়ে বিরবির করে বলে
ইসস দূরে দূরে থাকবো।
হাতির বাচ্চা গরিলা, আমি তোর নাকের ডগার সামনেই ঘুরে বেড়াব—দেখি কী করতে পারিস।
কিছুক্ষণ আগের ঘটনা

বাগানে বসে আইসক্রিম খাচ্ছিলো আদ্রিতা। তখন খেয়াল করে আবরার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বাসায় ফিরছে। কপালেও র/ক্তের দাগ। নিশ্চয় হিরোগিরি দেখাতে গিয়ে পিটানি খেয়ে এসেছে। একটু পরেই তার বাইক রেস।
সরল আদ্রিতার ছোট্ট মনে মায়া হয়। তাই সে আইসক্রিম ফেলে দৌড়ে আতিয়া বেগম এর কক্ষে চলে যায়। সেখান থেকে ফাস্ট এইচ বক্স নিয়ে আবরারের কক্ষে ঢোকে। মানুষটা তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শার্ট খুলছিলো।

 পিঠেও ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। বড্ড মায়া লাগে তার।
বীণা অনুমতিতে কক্ষে ঢুকে বলতে থাকে
” আসসালামু আলাইকুম বড় ভাই।
আহারে কিভাবে অমানুষের মতো পিটিয়েছে আপনাকে। তাদের কি মনে মায়াদয়া নেই?
এই দেখুন আমি ঔষধ নিয়ে এসেছে। আসুন লাগিয়ে দেই।

বলতে বলতে তুলোতে স্যাভলন লাগিয়ে ফেলেছে।
আবরার গম্ভীর নয়নে আদ্রিতার পানে তাকিয়ে বলে
“দূরে থাক আমার থেকে।

থোরাই কেয়ার করলো আদ্রিতা। সে বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে যায়। 

আরো পড়ুন

টিশার্ট এবং স্কার্ট পড়েছে। গায়ে ওড়না নেই। বিগড়ানো মেজাজ আরও বিগড়ে যায় তার। আঁখি পল্লব বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করার প্রচেষ্টা করার মাঝে বুকের বা পাশে হাত রাখে আদ্রিতা। সঙ্গে সঙ্গে ঠাসস করে এক খানা থা/প্প/ড় মেরে দেয় গালে। 

তুলো ছিঁটকে পড়ে যায় দূরে। আদ্রিতার কানের মধ্যে শা শা করতে শুরু করে।
আবরার দাঁতে দাঁত চেপে বলে
” ওড়না কই তোর?
কি দেখাতে চাস ইডিয়েট?

আদ্রিতা ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। এবং বলে
“আপনি খুব খারাপ

আবরার আদ্রিতার হাত ধরে বলে
” আই নো দ্যাট
পরের বার ওড়না ছাড়া যদি আমার সামনে আসে, আবরার তাসনিন কতটা ভয়ংকর হতে পারে—তা বুঝিয়ে দেব।

বলেই হাত ধরে টেনে কক্ষ থেকে বের করে দেয়। এবং সঙ্গে সঙ্গে মুখের ওপর ঠাসস করে দরজা আটকায়।

তোমাতেই আসক্ত ২ পর্ব-২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *