
পুর্নহীন পূর্ণতা
লেখিকা সুমি চৌধুরী
পর্ব ৪
ফজরের আযানের সুমধুর সুরে ঘুম ভাঙে সারার। কাল রাতে অনেকক্ষণ কান্নাকাটি করার পর শরীর আর দিচ্ছিল না, তাই সোজা রুমে এসে শুয়ে পড়েছিল। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরটা তেমন একটা ভালো লাগছে না ওর। রাতেও না খেয়ে ঘুমিয়েছে। রাফসানের ওই বিষাক্ত কথাগুলো শোনার পর খিদে জিনিসটাই সে ভুলে গিয়েছিল। অপমানে আর কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল ওর, তাই না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিল।
সারা ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠে ওয়াশরুম থেকে ওযু করে এলো। এরপর জায়নামাজ বিছিয়ে মন দিয়ে নামাজ আদায় করে নিল। এইটা সারার একটা বড় গুণ যে সে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। নামাজ শেষে সারা পরম শান্তিতে কোরআন তেলওয়াত শেষ করল। মনে হলো বুক থেকে অনেক বড় একটা পাথর নেমে গেছে।
তেলওয়াত শেষে সে জায়নামাজ গুছিয়ে রেখে ধীরে ধীরে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল। সকালের আলো এখনো পুরোপুরি ফুটেনি, চারদিকে আবছা আবছা অন্ধকার লেগে আছে। ভোরের সেই স্নিগ্ধ আর হালকা ঠান্ডা হাওয়া সারার চোখেমুখে লাগতেই মনটা একদম ফ্রেশ হয়ে গেল। রাতের সেই বিভীষিকা আর অপমানের স্মৃতি যেন এই মিষ্টি বাতাসে কিছুটা ধুয়ে গেল। সারা চোখ বুজে এক দীর্ঘশ্বাস নিল।
অনেকক্ষণ পর যখন সকালটা পুরোপুরি হলো, সারা রুম থেকে বের হয়ে নিচে নেমে এলো। নিচে আসতেই দেখল রায়ান চৌধুরী সোফায় বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে খবরের কাগজ পড়ছেন। আজ শুক্রবার, তাই রায়ান চৌধুরীর আজ কোনো তাড়া নেই। কলেজ বা অফিস না থাকায় বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছেন তিনি। সারা ধীরে ধীরে পায়ে রায়ান চৌধুরীর সামনে এসে দাঁড়াল এবং মৃদু স্বরে বলল।
“আসসালামু আলাইকুম আব্বু। শুভ সকাল।”
রায়ান চৌধুরী সারার কণ্ঠ শুনে খবরের কাগজ থেকে চোখ সরিয়ে ওর দিকে তাকালেন। সস্নেহে হাসলেন তিনি।
“ওয়ালাইকুম আসসালাম। শুভ সকাল মা। কখন উঠেছিস?”
“অনেকক্ষণ আগে আব্বু।”
রায়ান চৌধুরী সারার মুখের দিকে একটু ভালো করে তাকালেন। অভিজ্ঞ চোখ দুটো সারার ফোলা ফোলা চোখের পাতা আর ম্লান চেহারা দেখে কুঁচকে গেল। তিনি চিন্তিত স্বরে বললেন।
“তোর চোখ এমন ফোলা কেন মা? কেঁদেছিস? নাকি রাফসান আবার কিছু বলেছে তোকে?”
সারা মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। গালের সেই চড়ের দাগ আর রাতের অপমানগুলো ওর চোখের সামনে ভেসে উঠল, কিন্তু সে চায় না তার জন্য বাবা-ছেলের মধ্যে অশান্তি হোক। সে চট করে সামলে নিয়ে মাথা নাড়িয়ে বলল।
“না না আব্বু, ভাইয়া কিছু বলেনি। আসলে কাল রাতে একদমই ঘুম হয়নি, তাই চোখটা এমন ফোলা লাগছে হয়তো।”
রায়ান চৌধুরী ঠিক বিশ্বাস করতে পারলেন না। তিনি জানেন রাফসান কতটা একগুঁয়ে আর কর্কশ। তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “রাফসানটা দিন দিন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে মা। ওর পক্ষ থেকে আমি তোর কাছে মাফ চাইছি। তুই চিন্তা করিস না, আজ ওর সাথে আমি কথা বলব।”
সারা জোর করে ঠোঁটে একটা হাসি ফুটিয়ে বলল, “আব্বু তুমি শুধু শুধু চিন্তা করছো। ভাইয়া কিছুই বলেনি আমাকে।”
ঠিক সেই মুহূর্তে সিঁড়ির ধাপে ধাপে রাফসানের ভারি পায়ের আওয়াজ পাওয়া গেল। সে বেশ ধীরগতিতে আয়েশ করে নিচে নামছিল। সারা আর তার বাবার মাঝখানে কী কথা হচ্ছিল সেটা সে শুনতে পায়নি ঠিকই, কিন্তু দুজনকে ওভাবে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখে ওর মাথার রগ দপদপ করে উঠল। রাফসানের চোয়াল শক্ত হয়ে এল। সে মনে মনে ভাবল, “নিশ্চয়ই এই জংলি মেয়েটা কাল রাতের নাটক সাজিয়ে এখন আব্বুর কাছে নালিশ করছে। সুযোগ পেয়েই আমাকে ফাঁসানোর ফন্দি আঁটছে।”
রাফসান নিচে নামতেই রায়ান চৌধুরীর তীক্ষ্ণ নজর ছেলের ওপর পড়ল। তিনি হাতের খবরের কাগজটা শব্দ করে পাশে রাখলেন। তাঁর শান্ত চোখে এখন একরাশ গাম্ভীর্য। তিনি বেশ কড়া গলায় ডাকলেন।
“রাফসান।”
রাফসান পকেটে হাত গুঁজে ভাবলেশহীন মুখে এগিয়ে এসে বাবার সামনে দাঁড়াল। গলার স্বরে এক চিলতে নির্লিপ্ততা মিশিয়ে বলল।
“জ্বি আব্বু, ডাকলে কেন।”
রায়ান চৌধুরী একবার সারার ম্লান মুখের দিকে তাকালেন, তারপর সারার দিকে ফিরে স্নেহের স্বরে বললেন।
“যা তো মা, আমার জন্য এক কাপ কড়া করে চা বানিয়ে নিয়ে আয়। আজ এই সাতসকালে কাজের লোকের হাতের পানসে চা খেতে একদম মন চাইছে না। তুই নিজ হাতে বানিয়ে নিয়ে আয়, তোর হাতের চা খেলেই মনটা চাঙ্গা হবে।”
সারা একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। সে এক মুহূর্তও সেখানে আর দাঁড়িয়ে থাকতে চাইছিল না। রাফসানের আগুনের মতো দৃষ্টি এড়িয়ে সে দ্রুতপায়ে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। সারা আড়ালে যেতেই ড্রয়িংরুমের পরিবেশটা থমথমে হয়ে উঠল। রায়ান চৌধুরী এবার সোজা হয়ে বসলেন। তাঁর দৃষ্টি এবার সরাসরি রাফসানের চোখের ওপর স্থির। তিনি নিচু কিন্তু অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বললেন।
“রাফসান, তোর সাথে আমার কিছু সিরিয়াস কথা আছে। বস এখানে।”
রাফসান মনে মনে দাঁত কিড়মিড় করল। সে নিশ্চিত যে এখন সারার হয়ে ওকালতি শুরু হবে। সে অবজ্ঞার সাথে বাবার সামনের সোফাটায় গা এলিয়ে বসল, যেন সে কিছুই জানে না।রায়ান চৌধুরী এবার আরও আষ্টেপৃষ্ঠে গাম্ভীর্য জড়িয়ে নিলেন। ড্রয়িংরুমের পিনপতন নিস্তব্ধতায় তাঁর কণ্ঠস্বরটা যেন কোনো এক কঠিন দণ্ডাদেশের মতো শোনাল। তিনি ছেলের চোখের মণির দিকে সরাসরি তাকিয়ে পাথরচাপা গলায় বললেন।
“আমি তোর সাথে সারার বিয়ে দিতে চাই।”
কথাটা শোনামাত্র রাফসানের মনে হলো মাথার ওপর বিশাল কোনো বাজ পড়ল। ওর কানের ভেতর দিয়ে যেন গরম সিসা বয়ে গেল। মুহূর্তের জন্য ওর চোখের মণি কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। বিস্ময় আর চরম ঘৃণায় রাফসান সোফা থেকে ঝড়ের বেগে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উঠল।
“হোয়াট। আব্বু, তুমি কি সেন্স হারিয়ে ফেলেছ। কী বলছো এসব তুমি। ওই কালকূট জংলি মেয়েটাকে আমি বিয়ে করব। ইটস এ জোক রাইট।”
ওর কন্ঠের তীক্ষ্ণতায় সারা ড্রয়িংরুম থরথর করে কাঁপছে। কিন্তু রায়ান চৌধুরী একদম অবিচল। তিনি অত্যন্ত শান্ত, নিচু কিন্তু হাড়কাঁপানো গম্ভীর গলায় হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন।
“কুল ডাউন রাফসান। গলার স্বর নামা। শান্ত হয়ে বোস। আমার সিদ্ধান্ত সচরাচর কেউ বদলাতে পারে না সেটা তুই জানিস। আর আমার কথা শুধু এইটুকুই না, আরও অনেক কিছু শোনার বাকি আছে তোর। আগে বোস।”
রাফসান রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে সোফায় ধপ করে বসে পড়ল। ওর চওড়া বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছে।রায়ান চৌধুরী এবার সোফায় হেলান দিয়ে বসে নিজের চশমাটা টেবিলের ওপর রাখলেন। তাঁর চোখেমুখে এখন একজন কঠোর ব্যবসায়ীর ছায়া। তিনি রাফসানের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে শীতল গলায় বললেন।
“প্রথম কথা হচ্ছে, আমি তোর বাবা। আমার সিদ্ধান্ত বা কথা রাখা তোর নৈতিক দায়িত্ব। এখন শোন আসল কথা। তুই হয়তো ভাবছিস তুই আমার একমাত্র ছেলে বলে আমি তোর ওপর খুব দরদ দেখাবো। ভুল ভাবছিস রাফসান। ছেলের মঙ্গলের জন্য আমি কতটা কঠোর হতে পারি, সেটা তোর কল্পনার বাইরে। আই হোপ ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড মাই পয়েন্ট।”
রাফসান রাগে ফুঁসছে কিন্তু বাবার গলার স্বর শুনে কিছুটা দমে গেল। রায়ান চৌধুরী আবার বলতে শুরু করলেন।
“আই ডোন্ট লাইক টু ওয়েস্ট মাই টাইম উইথ ইউজলেস টক। আমি খুব সংক্ষেপে বলছি। আমার যত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আছে, তার সবটাই আমি আজই সারার নামে লিখে দেয়ার ব্যবস্থা করব। লজিকটা খুব সিম্পল। তুই যদি সারাকে বিয়ে করিস, তবে সারার যখন আঠারো বছর পূর্ণ হবে, তখন তার স্বামী হিসেবে তুই ওই বিশাল সম্পত্তির বৈধ অংশীদার বা অধিকারী হবি। ইন দ্যাট কেস, ইউ উইল গেট এভরিথিং।”
রাফসানের চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল। রায়ান চৌধুরী এক বাঁকা হাসি দিয়ে শেষ মোক্ষম চালটা চাললেন।”এখন চয়েস তোর। অপশনটা খুব সোজাসাপ্টা। তুই কি সারাকে বিয়ে করে এই সাম্রাজ্য আগলে রাখবি, নাকি এক কাপড়ে এই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবি। ভাবিস না আমি তোকে জোর করব। ইট ইজ কমপ্লিটলি আপ টু ইউ। তোর ইচ্ছে হলে রাজি হস, না হলে নেই।”
রাফসান অবাক হওয়ার চরম সীমায় পৌঁছে গেল। তার নিজের জন্মদাতা পিতা আজ সামান্য এক রাস্তার মেয়ের জন্য নিজের ছেলেকে ত্যাজ্য করার হুমকি দিচ্ছে। সব সম্পত্তি ওই মেয়েকে লিখে দেবে আর তাকে হতে হবে ঘরছাড়া। রাফসানের রগ চটা স্বভাব মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। সে রাগে হিংশ্র পশুর মতো সোফার কুশন খামচে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
“আব্বু। তুমি কি সত্যি সত্যিই পাগল হয়ে গিয়েছ। ওই অজাত-কুজাত একটা মেয়ের জন্য তুমি নিজের ছেলের ক্যারিয়ার নষ্ট করে দিচ্ছো। জাস্ট একটা রাস্তার মেয়ের জন্য তুমি আমার সাথে এমন করছ।”
ছেলের মুখে আবারো ‘রাস্তার মেয়ে’ শব্দটা শুনে রায়ান চৌধুরী এবার বাঘের মতো গর্জে উঠলেন। তিনি সোফা ছেড়ে দাঁড়িয়ে সরাসরি রাফসানের চোখে চোখ রেখে ধমকের স্বরে বললেন।
“শাট আপ রাফসান। অনেক হয়েছে। তোকে কতবার বলব সারা কোনো রাস্তার মেয়ে নয়, সারা আমার মেয়ে। ও এই বাড়ির সম্মান। এরপর যদি দ্বিতীয়বার ওকে রাস্তার মেয়ে বলে ডাকিস, তবে আমি ভুলে যাব তুই আমার নিজের রক্ত। তখন তোকেও রাস্তার ছেলে বলতে আমি এক মুহূর্ত দ্বিধা করব না।”
রাফসান রাগে আবারও কিছু বলতে গেলে রায়ান চৌধুরী তর্জনী উঁচিয়ে তাকে থামিয়ে দিলেন। তাঁর কণ্ঠস্বর এখন বরফের মতো শীতল আর ধারালো। তিনি চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন।
“ব্যাস রাফসান। আমি তোর কোনো কৈফিয়ত বা সাফাই শুনতে চাই না। কথা একটাই। তোর সামনে রাস্তা এখন দুইটা। হয় সারাকে বিয়ে করে এই বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি হবি, না হয় আজীবনের জন্য আমার ত্যাজ্য পুত্র হয়ে এই সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবি।”
রাফসান রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। তাঁর মনে হলো বুকের ভেতর এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি ফেটে পড়ছে। সে পাগলের মতো সোফা থেকে দাঁড়িয়ে পাশে থাকা দামী ফুলদানিটা দুহাতে তুলে সজোরে মেঝেতে আছাড় মারল। ঝনঝন শব্দে কাঁচের টুকরোগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। রাফসান গলার রগ ফুলিয়ে উন্মাদ চিৎকার করে উঠল।
“আমার সব কেড়ে নিল ওই রাস্তার মেয়েটা। আমার নাম, আমার প্রতিপত্তি, আর আজ আমার বাবার ভালোবাসা থেকেও আমাকে বঞ্চিত করছে ও। আই উইল কিল হার।”
বলেই রাফসান আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না। সে হ হ করে তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে ঝড়ের বেগে বাড়ির সদর দরজার দিকে পা বাড়াল। ঠিক তখনই পেছন থেকে রায়ান চৌধুরীর মেঘগম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এল।
“শুনে রাখ রাফসান। সময় মাত্র আজকের দিনটাই। আজকের সূর্য ডোবার আগে যদি তুই ফিরে এসে আমার কথা না মানিস, তবে ভেবে নিস তোর বাবা আজই মারা গেছে।”
বাবার মুখ থেকে এমন চরম কথা শুনে রাফসানের পা জোড়া যেন মাটিতে গেঁথে গেল। ওর লাল হয়ে থাকা দুচোখ বেয়ে এক ফোঁটা নোনা জল গড়িয়ে পড়ল। সে সম্পত্তির কথা ভেবে কাঁদছে না। আজ সামান্য একটা ‘কুড়িয়ে পাওয়া’ মেয়ের জন্য তার নিজের বাবা তাকে মরার কথা বলছ এই অপমান আর আঘাত ওর সহ্য সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। রাফসান আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি পেল না। সে রাগে আর অভিমানে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিরুদ্দেশের পথে চলে গেল।
রাফসান ঝড়ের বেগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেই রায়ান চৌধুরীর দুচোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ল। তিনি সোফায় ধপ করে বসে পড়ে কপালে হাত দিলেন। বাইরে থেকে তাঁকে কঠোর মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে তিনি দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছেন। তিনি সব জেনে-বুঝেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রায়ান চৌধুরী খুব ভালো করেই জানেন, সারার মতো শান্ত, ধৈর্যশীল আর গুণবতী মেয়ে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। অন্যদিকে, রাফসান দিন দিন প্রচণ্ড জেদি আর অহংকারী হয়ে উঠছে। তার এই আকাশচুম্বী অহংকার আর আভিজাত্যের দম্ভ যদি কেউ ভাঙতে পারে, তবে সে একমাত্র সারাই। রাফসানের এই বুনো স্বভাবকে বাগে আনতে হলে সারার মতো স্নিগ্ধ শাসন প্রয়োজন। রায়ান চৌধুরীর মনে অগাধ বিশ্বাস যে, আজ রাফসান তাঁকে ভুল বুঝলেও একদিন এই সারাই হবে রাফসানের জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। তাই নিজের কলিজার টুকরো ছেলেকে ঘরছাড়া করার হুমকি দিয়ে হলেও তিনি এই কঠিন জুয়াটা খেলেছেন।
কি হবে এখন রাফসান কি সারাকে বিয়ে করবে আর বিয়ে করলে সারার লাইফটা কি হবে জানতে হলে পর্ববতীর অপেক্ষায় থাকুন আর পেইজটা ফলো দিয়ে রাখুন।
চলবে…!