প্রেমের বাজিমাত পর্ব-২৫| Premer Bajimat Part-25

প্রেমের বাজিমাত গল্পের পর্ব ২৫ এর আবেগঘন দৃশ্য
ভালোবাসার খেলায় এবার সামনে আসে এমন এক মুহূর্ত, যা বদলে দিতে পারে সবকিছু।

প্রেমের বাজিমাত

লেখনিতে রোজও_রুশা

পাঠ ২৫

* #অতীত**

গাজীপুরের নরম সবুজে ঘেরা, শান্ত অথচ গল্পে ভরা এক শহর,,,সেই শহরের বুকেই একসময় গড়ে উঠেছিল চারটি জীবনের অদ্ভুত এক বন্ধন।

জাওয়াদ খান, কাজল, তৌহিদা আর জিহান তালুকদার।চারজন মানুষ…
কিন্তু তাদের সম্পর্কগুলো ছিলো শুধু নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ না—ভালোবাসা, দায়িত্ব, বন্ধুত্ব আর অদ্ভুত টানাপোড়েনের এক গভীর জালে জড়িয়ে ছিলো তারা।

জাওয়াদ খান আর জিহান তালুকদার–দুজনের বন্ধুত্বটা ছিলো ছোটবেলা থেকেই।একসাথে বড় হওয়া, একসাথে স্বপ্ন দেখা…তাদের সম্পর্কটা ছিলো এমন—যেখানে কথা না বললেও একে অপরকে বুঝে নেওয়া যেতো। জাওয়াদ খান ক্লাস ফোরে থাকতে লন্ডনে চলে যায়, আর জিহান তালুকদার গাজীপুরেই ছিলো পরিবারের সাথে।

আরো পড়ুন

অন্যদিকে কাজল***
সে ছিলো জিহানের জীবনের এক টুকরো শান্তি।
ফুপির একমাত্র মেয়ে…কিন্তু পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সে ছিলো জিহানের “ছোট বোনের মতো আগলে রাখা, আবার বন্ধুর মতো মনের সব কথা বলা,,,,এই দুইয়ের মাঝামাঝি এক অদ্ভুত সম্পর্ক। সময়টা তখন এমন,,,
জিহান আর জাওয়াদ পড়ছে ইন্টার প্রথম বর্ষে,
আর কাজল নিউ টেনের ছাত্রী। দুষ্টুমি তার রক্তে, কিন্তু পড়াশোনায় সে ছিলো সবার সেরা। জাওয়াদের জীবনটা ছিলো অন্যরকম। পুরো পরিবার লন্ডনে থাকলেও, বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর, সে তার ছোট বোন তৌহিদাকে নিয়ে ফিরে আসে গাজীপুরে—
নিজেদের পুরনো বাড়িতে, যেখানে তাদের স্মৃতি, তাদের শেকড়, আর বাবা-মায়ের কবর ছিলো,,মূলত তারা আসে কবর জিয়ারত করতে। বোনকে সব সময় নিয়ে না আসলেও। বুঝ হবার পর বায়না ধরেছে স্কুলের ছুটিতে বাবা মায়ের কবর জিয়ারত করতে বাংলাদেশ যাবে।

তৌহিদা,,নামের মতোই শান্ত, কোমল, আর অদ্ভুত মায়াবী একটা মেয়ে।

অন্যদিকে জিহানের জীবনে ছিলো অভাব!!! কিন্তু সেই অভাব টাকার না,,,!
কিন্তু ছিলো এক বিশাল শূন্যতা। মা মারা যাওয়ার পর,
বাবার দ্বিতীয় বিয়ে– আর সেই থেকেই ঘরে শুরু হয় অশান্তির এক অন্তহীন অধ্যায়।ছোট বয়সেই জিহান বুঝে যায়– সবাই পাশে থাকে না। তাই খুব অল্প বয়সেই ব্যবসার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় সে।কঠিন হয়ে যায়…কিন্তু ভেতরে কোথাও একটা নরম জায়গা রেখে দেয়,,যেখানে শুধু জায়গা পায় কাজল।ফুপির মৃত্যুর পর, কাজলকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে জিহান।

নিজ হাতে স্কুলে ভর্তি করায়,
নিজেই খেয়াল রাখে–
খেয়েছে কিনা, পড়েছে কিনা, কিছু লাগবে কি না…

কাজল তখন শুধু দায়িত্ব না–
জিহানের জীবনের একটা অংশ,,ফুপির একটা মাত্র অংশ। বেচে থাকাকালীন মায়ের অভাব পূরণ করেছেন তিনি । একদিন,,সবকিছু বদলে যায়। জাওয়াদ খান তার ছোট বোন তৌহিদাকে নিয়ে আসে জিহানদের বাড়িতে। ছোট বেলার বন্ধুর সাথে দেখা করতে।

সেদিন,,,একটা সাধারণ দিনের মতোই শুরু হয়েছিল সবকিছু। কিন্তু শেষটা ছিলো একেবারে অন্যরকম।সেদিনই প্রথম,,,জিহান তালুকদার দেখে তৌহিদাকে। আর সেই এক দেখাতেই,,
তার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে কেঁপে ওঠে।
সে বুঝতে পারেনি সেটা কি…কিন্তু বারবার দেখতে ইচ্ছে করতো মেয়েটাকে। তারপর থেকে,,,
অজুহাত খুঁজে খুঁজে জাওয়াদের বাসায় যাওয়া, শুধু এক ঝলক দেখার জন্য অপেক্ষা করা,,,সবই তার নিত্যদিনের অভ্যাস হয়ে যায়। এই সময়েই,,,কাজল আর তৌহিদার মধ্যে গড়ে ওঠে এক গভীর বন্ধুত্ব। সেম বয়সির থাকাতে। দুজন যেনো ধীরে ধীরে একে অপরের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছিল। কিন্তু সুখ কখনো একা আসে না। দুঃখ সাথে নিয়ে এসেছিলো তার দুয়ারে,,জিহানের ঘরে তখন ঝড় বইছে।তার সৎ মা…প্রতিদিন নতুন নতুন অশান্তির জন্ম দিতো।একদিন তো রান্নাই বন্ধ করে দিলো,,শুধু এই জন্য, যেনো জিহান নিজের বাবার সাথে থাকতে না পারে। সেই দিন,,,জিহান প্রথমবার ভেতর থেকে ভেঙে পড়ে। ঠিক তখনই,,পাড়ার এক খালা এসে বলে

“বাবা, বিয়ে করে আলাদা হয়ে যা। শান্তি পাবি।”

আরো পড়ুন

—কথাটা হয়তো সাধারণ ছিলো…
কিন্তু জিহানের মাথায় সেটা গভীরভাবে বসে যায়।
হঠাৎ একদিন,,,সে গিয়ে দাঁড়ায় জাওয়াদ খানের সামনে।এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলে,,।

“আমি তৌহিদাকে বিয়ে করতে চাই।”

জাওয়াদ প্রথমে রাজি হয়নি।
কারণ তৌহিদা তখনো ছোট। সবে ১০ম শ্রেনীতে পরে, কাজল রেখার ১ বছর এর বড়। কিন্তু ভালোবাসা বয়স মানে না। জিহান ততদিনে তৌহিদার মন জয় করে নিয়েছে।

শেষমেশ,,
সব বাধা ভেঙে হয়ে যায় তাদের বিয়ে। বিয়ের মাত্র এক মাস পর,,জাওয়াদ চাপ দেয় জিহানকে লন্ডনে তাদের সাথে যাওয়ার জন্য। এমন টাই কথা হয়েছিলো,,কারন জাওয়াদ বোনকে ছেড়ে থাকতে পারবে না,,, জিহান রাজি হয়। কারণ–
যে বাড়িতে শান্তি নেই, সেখানে থেকে আর কি হবে? কিন্তু… এই সিদ্ধান্তটা সবচেয়ে বেশি ভেঙে দেয় কাজলকে।তার চোখের সামনে,,তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটা চলে যাবে।সে কাঁদতে থাকে,, নিঃশ্বাস আটকে আসা কান্না। শেষমেশ—ভাঙা গলায়, কাঁপা কাঁপা স্বরে–জিহান তালুকদার জাওয়াদকে বলে ফেলে সেই কথাটা…

“তুই কি …আমার পিচ্চি পরিটাকে বিয়ে করবি ?”

–জাওয়াদ থমকে যায়।তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা,অধীক মাত্রায় সুন্দরী,কিন্তু চিকন, ছোটখাটো…দেখলে মনে হয় ক্লাস ফাইভের ছাত্রী। জাওয়াদ ছোট দেখে মানা করে,,কিন্তু জিহান এর কথায় সে থমকে যায়।

“আমি ছাড়া যে আমার পরিটার কেউ নেই,,কার সাথে থাকবে তাকে যে এই সমাজ এর নরপশুরা ছিড়ে খুবলে খাবে,,

এই কথা বলার কারন কাজল রেখাকে অনেক ছেলেরা বিরক্ত করতো সুন্দরী থাকায়,কিন্তু জিহান এর জন্য কেউ পারতো না,,আর এই সমাজ একটা মেয়েকে একা কোথাও নিয়ে গেলে খারাপ চোখে দেখবে তাই জিহান এই প্রস্তাব রাখে তার প্রাণ প্রিয় বন্ধু জাওয়াদ খান এর কাছে!! ,,জাওয়াদ খান এই কথা শুনে ভরকে যায়, তার চোখের ভেতর
ছিলো এক গভীর ভয়…হারিয়ে ফেলার ভয়। কারন ততদিনে জাওয়াদখান ও কাজলরেখার প্রেমে পরে গিয়েছে!! আর পরবেই না কেনো,,যেমন দেখতে সুন্দর তেমন তার চতুরতা ছিলো!! বিদেশি হাজারো মেয়ের মাঝে এমন মেয়ে দেখে নি জাওয়াদ খান কখনো! মায়ায় তো পরেছিলো প্রথম দেখাতে, কিন্তু তা প্রথমে মানতে চায় নি জাওয়াদ খান কারন কাজলরেখা ছিলো একেবারে পিচ্চি দেখতে বয়স কম এই ভেবে।
বিয়ে এগুলো কাজল এর মাথায় কিছু ঢুকে নি তার একটা চাওয়া ছিলো তার জিহান ভাই যে করেই হোক তাকে যাতে তার সাথে নিয়ে যায়!!কান্নারত কন্ঠে বলে।

” জিহান ভাই তুই আমায় যে করেই হোক নিয়ে যা তোর সাথে,আমি একা থাকবো না এখানে।।

জাওয়াদ যখন কাজলরেখার চোখের পানি দেখে,,তার ভেতরের সব যুক্তি হার মানে। সেদিনই–
সে বুঝে যায়, এই মেয়েটাকে সে ফেলে যেতে পারবে না। মনের কথা সায় দিলো জাওয়াদ খান। এই মেয়ের চোখের পানি পরতে দিবে না,তাহলে যে তার নিজেরি মন ভালো থাকবে না,মায়াবি পিচ্চি মেয়ের মায়ায় পরে বিয়ে করে গ্রামবাসী কিছু মানুষকে নিয়ে। কাজলরেখার এতে কিছু যায় আসে না সে তার ভাই এর সাথে যেতে পারবে এটাইতেই সে খুশি ছিলো।

শুরুটা ছিলো একটা সমঝোতা…
কিন্তু ধীরে ধীরে সেটা বদলে যায় ভালোবাসায়।
জাওয়াদ খান পাগলাটে, একরোখা একটা ছেলে।
কিন্তু সেটা কাজলরেখার জন্য নয়। সে হয়ে ওঠে একেবারে অন্য মানুষ।কাজের বাইরে–
তার পুরো পৃথিবীটাই ছিলো কাজলকে ঘিরে।

কখনো কোলে তুলে রাখা,কখনো বুকে জড়িয়ে রাখা–
সে যেনো ভালোবাসতে ভালোবাসতেই বাঁচতো। এমন আদুরে পুতুলের মতো রাখতো নিজের কাছে জাওয়াদ খান তার কাজল রেখাকে,,, জিহান যেন বন্ধুর এমন পাগলামি দেখে তৃপ্তি পেত, অবুঝের মাঝে কাজল রেখা বুঝতে লাগে জাওয়াদ খান তার দুনিয়া এখন,, একদিন
হঠাৎ কাজল মাথা ঘুরে পড়ে যায়। সেদিন জাওয়াদ খান ভেঙে পড়ে পুরোপুরি। পাগলের মতো ছুটে যায়, অফিস থেকে,কাঁদতে কাঁদতে ভালোবাসার কাজল রেখাকে বুকে জড়িয়ে ধরে। ডাক্তারের কাছে গেলে, ডাক্তার জানায় কাজল মা হতে চলেছে। সেদিন
জাওয়াদের চোখে আনন্দের ঝিলিক। কিন্তু জিহান…সে চুপ হয়ে যায়। তার চোখে ছিলো শুধু ভয়। কারণ,,এই বয়সে, এই দায়িত্ব…সবকিছু এত সহজ না। জিহান ছিলো সবার থেকে বুঝদার তাইতো বিয়ে বাচ্চাকাচ্ছা নিয়ে তার সেভটি ছিলো অনেক, কিন্তু বন্ধু যে বেশামাল প্রেমিক, এমনিতে কাজল ছিলো চিকন,ও বয়স কম তাই বিয়ে হবার আগে জাওয়াদ কে বলেছিলো ১৮ বছর হলে আবার বিয়ে করবে দুমধাম করে,কিন্তু ছেলে আর মেয়ে আগুন আর মোম, একরুমে থাকলে তাদের মতের পরিবর্তন হতে সময় লাগে না,আর সেখানে যদি হয় বৈধ স্ত্রী, আর এমন আগুন সুন্দরী বউ থাকলে তো যুবক বেশামাল হবেই। জাওয়াদ খান নিজের সর্ত ভেঙে আপন করে নিয়েছিলো তারস্ত্রী তার প্রথম ভালোবাসা পিচ্চি বউ কে। ডাক্তার বলেছিলো জিহান কে এটা রিক্স হয়ে যাবে কাজল এর জন্য,, বোন কে নিয়ে ভয়ে জিহান এর প্রথম থেকে ছিলো।

~~~

এতোটুকু বলতে এডভোকেট কাজল খান, শব্দ করে কেদে উঠে। রোজ,ঝিনুক তাকে জরিয়ে ধরে।

“তারপর কি হয় মামনি?

প্রশ্ন করে ঝিনুক,,আবার ফিরে যায় অতীতে এডভোকেট কাজল খান । জিহানের চোখে সেদিন এক অদ্ভুত ভয় ছিলো। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে সে ধীরে বলে উঠেছিল—

“দোস্ত… কাজলের বয়স মাত্র ১৪।
ওকে দেখলেই বোঝা যায়। একেবারে বাচ্চা এখনো। আমি খুব ভয় পাচ্ছি… যদি পরে কোনো সমস্যা হয়?”আর ডাক্তার তো বললো ওর রিক্স হয়ে যাবে?

কথাগুলো বাতাসে ঝুলে রইলো। জাওয়াদ খান প্রথমে কিছু বললো না। তার চোখে তখন শুধু কাজলের মুখ—
তার ছোট্ট, নিষ্পাপ, ভালোবাসায় ভরা মুখটা।
হঠাৎ সে কাঁপা গলায় বলে উঠলো–

“না… না! আমি বাচ্চা নষ্ট করে ফেলবো।
আমার কাজল রেখার কষ্ট আমি সহ্য করতে পারবো না…”

–সিদ্ধান্তটা সহজ ছিলো না। ভেতরটা ভেঙে যাচ্ছিলো তার, তবুও,,ভালোবাসার মানুষটাকে বাঁচাতে সে কঠিন পথটাই বেছে নিলো। সেদিন,,, হাসপাতালের সাদা দেয়ালের ভেতর নীরবে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল।
এবার রোজ কাজল খান এর হাত চেপে ধরে,,

“আন্টি তখন তুমি বাচ্চা নষ্ট করে দিয়েছিলে,,,?

রোজ এর কথায় চোখ থেকে পানি মুছে বলে উঠে।
এডভোকেট কাজল খান।

“না ভাগ্য বোধহয় অন্য কিছু লিখে রেখেছিল।
আমি আল্লাহর দোয়ায় যেনো সব জেনে যাই।
বিছানা থেকে উঠে। এক দৌড়ে বের হয়ে আসি ।

“চোখ ভরা পানি, মুখে আতঙ্ক,,সেদিনের পাগলামি কাজল রেখার দেখেছিলো সবাই —

“না! আমি আমার বাচ্চাকে কিছু হতে দিবো না!”

কাজল খান এর চিৎকারে পুরো হাসপাতাল তোলপাড় হয়ে যায়। ডাক্তার, নার্স—সবাই থমকে যায়।জাওয়াদ হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
কাজল কাঁদতে কাঁদতে জাওয়াদের শার্ট আঁকড়ে ধরে-

“তুমি আমার বাচ্চাকে মেরে ফেলতে চাও?
আমি দিবো না… কিছুতেই না!”

সেদিন,, কারো আর কিছু বলার ছিলো না।
একটা ছোট মেয়ের বুকভরা মায়ের ভালোবাসা
সব যুক্তি, সব ভয়কে হার মানিয়ে দেয়।
এরপর শুরু হয় অন্য এক যুদ্ধ।

লন্ডনের সবচেয়ে বড় বড় ডাক্তার দেখানো হয়।
সবাই একই কথা বলে,,ঝুঁকি আছে… কিন্তু আশাও আছে। শেষমেষ ,,,
তাদের পাঠানো হয় রাশিয়ায়। সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছিলেন,,যিনি কম বয়সে মা হতে যাওয়া মেয়েদের বিশেষ চিকিৎসা দিতেন। সবাই মিলে রাশিয়ায় চলে যায়। জাওয়াদ আর জিহান মাঝে মাঝে লন্ডনে যেতো,,ব্যবসার কাজ সামলাতে। কিন্তু মন পড়ে থাকতো এক জায়গাতেই,নিজেদের প্রিয় মানুষ দের কাছে।

মাস কেটে যায়…ভয়, দুশ্চিন্তা, আর ভালোবাসার মাঝে, একটা অপেক্ষা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।

অবশেষে–
আট মাস পর জন্ম নেয় তাদের ভালোবাসার ফসল। একটি ছেলে সন্তান। সে যেনো এক রাজপুত্র। একেবারে জাওয়াদ খানের প্রতিচ্ছবি–
চেহারা, চোখ, এমনকি চুল পর্যন্ত। জাওয়াদ খান যে ছিলো লন্ডনের অসংখ্য মেয়ের ক্রাশ-
সেই ছেলেটাই পাগল হয়ে ছিলো তার ছোট্ট বউ আর ছেলের জন্য। দিনগুলো কেটে যাচ্ছিলো-
ভালোবাসা, হাসি আর পূর্ণতায় ভরা।
৪ বছর পর-
নতুন করে সুখ আসে তাদের জীবনে।

তৌহিদা প্রেগন্যান্ট হয়। আর কিছুদিন পর-
তার কোল জুড়ে আসে এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান মেয়েটা যেনো একেবারে রাশিয়ান পরী। তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিলো- পুতুলের মতো বড় বড় চোখ,
আর থুতনির ছোট্ট কাটা দাগ। দেখলেই মন ভরে যেতো। ছোট্ট রাশিয়ান পরিটা তার আধো আধো তুতলানো কথায় পুরো বাড়িটা মাতিয়ে রাখতো।
সে “নাভান” কে ডাকতো “লাভান” বলে। আর গর্ব করে বলতো–

“লাভান বর আমার!”

নাভান যদি কোনো ছোট বাচ্চাকে কোলে নিতো।
তাহলেই মেয়েটার কান্না শুরু হয়ে যেতো।
সে কিছুতেই মেনে নিতে পারতো না।

একদিন-
কাজল মজা করে পিচ্চি পরিটাকে বলেছিল!

“বিয়ে করলে কিন্তু লাভান বর এর সাথে থাকতে পারবি…”ঘুমাতেও পারবি,,তর লাভান বর কে কোনো মেয়ে খেলতে ও নিবে না,,,

সেদিন! পিচ্চি পরিটার কি কান্না! সে একদম সত্যি ভেবে বসে। কাঁদতে কাঁদতে বলে।

“আমি এখনই বিয়ে করবো! আমি লাভান বর এর সাথে থাকবো!”

জিহান আর তৌহিদা– দুজন মিলে সেদিন তাকে সামলাতে হিমশিম খেয়ে গিয়েছিল। হাসির মাঝে, কান্নার মাঝে, ভালোবাসার টানাপোড়েনে-
তাদের জীবন এগিয়ে যাচ্ছিলো…কেউ জানতো না
এই সুখের আড়ালে লুকিয়ে আছে কেমন ঝড় তাদের দিকে ধেয়ে আসছে।

to be continued,,,,,,

প্রেমের বাজিমাত পর্ব-২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *