যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব-১ | Jekhane Prem Nishedh Part-1

যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ — নিষিদ্ধ ভালোবাসার গল্প

‎আমার আঠারো বছর জীবনের তেইশ নাম্বার প্রেম প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলো মীর বংশের প্রাণ, বড় ছেলে মীর আরযান শানের জন্য। এই মুহূর্তে তাকে মীর জাফর নামক সম্মান সূচক আসনে বসিয়ে ধপাস করে ফেলতে পারলে আমি সাঁঝ বোধ-হয় একটু স্বস্তি পেতাম। তবে সেই সৌভাগ্য আমার মতো দুঃখিনীর কোথায়? দয়াময় আমার বেলায় একটু বেশিই নিষ্ঠুর, নইলে যেখানে তেইশ নাম্বার প্রেমটা হয়ে চুমু খাওয়ার জন্য একশন নিতেই যাচ্ছিলাম সেখানে এত বড় কট আমি কেমন করে খেলাম? সাঁঝ অন্ধকার রাতের আকাশের দিকে একবার তাকালো। একরাশ আফসোস নিয়ে সুধিয়ে উঠল,” না করতে পারলাম একটা প্রেম, আর না খেতে পারলাম চুমু। এই জনমে আমার বোধ-হয় বাঁশ খেয়েই দিতে হবে ঘুমু।”

‎আরো পড়ুন

‎সে পেছনের দরজা দিয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকে  জলদি রুমের দরজা বন্ধ করে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমের ভান ধরল। এইযে একটু আগেও সে বড়সড় একটা কান্ড ঘটিয়ে এসেছে। কেউ জানার আগেই খোদার নাম নিয়ে চোখ বন্ধ করতে পারলেই এখন ভালো। আজকে বাড়ির ওপর মিসাইল পরলেও সে চোখ খুলবে না তো খুলবেই না। দেখি মীর জাফরের দল তাকে আজ কেমন করে ঠেঙানি দেয়। সাঁঝ চোখজোড়া বন্ধ করতেই হঠাৎ তার ফোনে পুনরায় একটা কল এলো। ফোনটা ভ্রাইভেট করা। একেবারে শরীর কেঁপে উঠল তার। সে ফোনটা  বালিশের কাছ থেকে হাতে নিয়ে স্ক্রিনের নামটা দেখে রিসিভ করল। হিসহিসিয়ে বলল,”তুমি এখনো যাওনি? চলে যাও কাল কলেজ গিয়ে দেখা করব। আমি ভাইয়ের পায়ের শব্দ পেয়েছিলাম। ভাগ্যিস আমি শুনতে পেয়েছিলাম নইলে এই জন্মের জন্য মিস্টার আরযান আমাদের ঠোঁট কেটে মিউজিয়ামে রাখত।”



‎”আরে বোকা মেয়ে, ওটা বিড়াল ছিল।”



‎”সাইজ এত বড় কেন?”



‎”হুলো বিড়াল যে।”



‎”ওহ।”

‎চন্দবালা পড়ুন

‎”আমি তোমার বাড়ির পেছনের দিকে দাঁড়িয়ে আছি। তুমি কষ্ট করে জলদি এসো জানেমান। আমাদের কিন্তু এখনো চুমু খাওয়া হলো না।”



‎সাঁঝের লজ্জা লজ্জা করল। জীবনের প্রথম চুমু তার। বিড়ালকে ভাই বেয়ে একটু আগে রুমে দৌড়ে এসেছে। সে না আসলেই একটা বোকা। শুধু শুধু দয়াময়কে এত নিষ্ঠুর বলে আখ্যায়িত করল। এক লাফে বিছানা ছাড়ল সাঁঝ। লাইট জ্বালিয়ে আয়নায় নিজেকে দেখল একবার। জীবনের প্রথম চুমু বলে কথা। সাধারণ হলে চলবে না। একেবারে অসাধারণ হওয়া চাই। মাউট ফ্রেশনার তো তার নেই। কী করবে? মুখের মধ্যে পারফিউম মারবে নাকি? আরযান ভাইয়ের দামি দামি পারফিউমের কালেকশন। কেমন অদ্ভুত মানুষ সে, টোকাইয়ের মতো পারফিউম কালেক্ট করে। ডিজিটাল টোকাই। কী করবে, না করবে ভাবতে ভাবতে শেষে ঠিক করল কোনো পারফিউম তার চাই না। শরীর,মুখ কোথাও তার দুর্গন্ধ নেই। যেসব মানুষের গায়ে পঁচা নর্দমার মতো গন্ধ মূলত তারাই ওইসব গন্ধওয়ালা পানি গায়ে মাখে। সাঁঝ চোরের মতো আলতো করে রুমের দরজা খুলে বের হলো। এইসময় এই বাড়ির সাত ছেলে বাসায় থাকে না। ওরা আরো পরে ফিরবে। সাঁঝের মা-চাচিরা ইন্ডিয়ান সিরিয়াল দেখতে ব্যস্ত। কে পায় এখন আর সাঁঝকে? সিঁড়ি বেয়ে দোতলা থেকে নেমে বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে বাড়ির উল্টো দিকে যায় সাঁঝ। এদিক দিয়ে আরেকটা সড়ক গেছে। এই সড়কে তার মীর বাড়ির ছেলে, কিংবা অন্য কারো যাতায়াত নেই। সাঁঝ পেছনের দরজা খুলতেই দেখল তার চার ঘন্টা আগে পাতানো প্রেমিক কারেন্টের খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে আছে। যদিও খাম্বার থেকেও বেশি এটাকে হাম্বা লাগছে। না, না নিজের প্রেমিককে কেউ এসব বলে? আঠারো বছরে বাইশ বার প্রেম করতে গিয়ে ফেইল হয়ে তেইশ বারে গিয়ে সাকসেসফুল হয়েছে। এখন সেও প্রেম করবে, সিনেমার হেরোইনদের মতো চুমু খাবে। না করলে তাহলে প্রেম কী স্বার্থক হবে নাকি? “এই গাঁজা তুমি আমাকে অনেক ভালোবাসো তাই না? “না হলে কি কেউ তার প্রিয়জনের জন্য এভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকত?



‎”গাঁজা নই, নামটা রাজা—

‎ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ালেই চাইলে আমাকেই দিতে পারো সাজা।”



‎সাঁঝের আবারও লজ্জা করল। ইশ প্রথম ভালোবাসা বুঝি এমনই হয়? এই অনুভূতি সাঁঝ সেই কবেই পেত খালি পেল না মীর বংশের বড় নিমপাতার জন্য। এই নিম পাতার মগ ডালে বসে একদিন যদি সাঁঝ শাঁকচুন্নির মতো পা ঝুলিয়ে তার মন্ডু না ভেঙেছে তাহলে এই মীর আদ্রিজা সাঁঝ তার নাম বদলে হাবারানী রেখে দিবেই। হঠাৎ সাঁঝ চারপাশে একবার তাকালো। অন্ধকারে কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। শেষে রাজাকে সে অনুরোধ করল, “আমি তোমার হাত ধরি? আমি না জীবনেও কোনো দিন কোনো ছেলের হাত ধরতে পারিনি। আচ্ছা হাত পরে ধরছি আগে চলো চুমু খাই, আমার সব বান্ধবীদের ওই বিশেষ খাদ্য খাওয়া শেষ। আমি পিছিয়ে আছি, আর নয়।”



‎রাজা চারপাশে একবার তাকায়। মুহূর্তেই সাঁঝকে বলল,” চুমু খেতে হলে চোখ বন্ধ করতে হয়। তারপর আস্তে আস্তে কাছে এসে ড্যাশ ড্যাশ ড্যাশ।”



‎”এটা আবার কী।”



‎”আগে চোখ তো বন্ধ করো।”



‎সাঁঝ খুশির চোটে চোখ বন্ধ করে ফেলল। সামনে থেকে কোনো রেসপন্স না আসায় শেষে চোখ বন্ধ করেই রাজাকে  কাছে টেনে নিলো, ঠোঁটের দূরত্ব মুছে যাওয়ার আগমুহূর্তে এক ভারী কণ্ঠ ঝাঁপিয়ে পড়ে, মুহূর্তেই তাকে কল্পনা থেকে বাস্তবে নামিয়ে আনে—

‎“একটু থাম। আজ তোর চুমুর দায়িত্বটা আমি নিজেই নিলাম।”



‎সন্ধ্যা পিছু হটবার আগেই, অন্ধকারের ভেদ করে একটি শক্ত হাত তার হাতকে জোর করে ধরি। হাত জোড়া চেপে ধরতেই কণ্ঠ ওঠে,

‎আর কখনো চুমু খাব না—এটাই শেষবার, আরযান ভাই। আপনার কসম, চুমু নামের ওই চুলমার্কা নিম্নমানের খাবারে আর এক টাকাও নষ্ট করব না। কানে ধরে কথা দিচ্ছি—এবার ছেড়ে দিন।



‎আরযানের রাগ তখন সপ্ত আকাশ ছুঁয়ে গেছে। একে তো এই মেয়ে তার তৈরি করা নিয়ম ভঙ্গ করেছে তারওপর বেয়াদবি করছে? অনেক হয়েছে আজকে এই বেয়াদবটাকে চরম শাস্তি দিবে সে। দিন দিন বড় হচ্ছে, আর মীর বাড়ির মান সম্মান সব ধুলোয় মিশাতে ব্যস্ত। মীরের বাড়িতে এতবার বলা হয়েছে—প্রেম নিষিদ্ধ, এই বাড়ির সন্তানরা প্রেম করতে পারবে না। তবুও, এই দেড়িবাজ মেয়ে প্রেম করেছেই। আর এখন চুমু পর্যন্ত? তাও রাত বিরেতে ছ্যাছড়া একটাকে বাড়ির পেছনে এনে নষ্টামি করা?



‎আরযান, সাঁঝকে টেনে হিঁচড়ে বাড়ির ভেতরে নিয়ে আসে। সাঁঝ বাঁচার জন্য চিৎকার করছে। আরযান ভাইয়ের মা ছাড়া আজকে আর তাকে কেউ শান্ত করতে পারবে না। এই ব্যাটা আজকে তাকে জমের দুয়ারেই বোধহয় পাঠাবে। আরে খোদা, দুনিয়ায় কী বাঁশ দেওয়ার জন্য তুমি সাঁঝকেই দেখো?



‎আরযান সাঁঝকে বাঁধল গোডাউন ঘরে। মা, চাচিরা সাঁঝের চিৎকারে ছুটে আসে। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়না। সাঁঝের মা যখন আরযানের মুখ থেকে সব ঘটনা শুনে তখন তো সে লাঠি এনে দু’টো বারি কষিয়ে বসায় পিঠে। তবে আরযান রাগ দেখিয়ে সবাইকে সেখান থেকে যেতে বলল। সাঁঝের মাকে দু’টো কথা শুনিয়ে লাঠি নিজের হাতে নিয়ে বলল, “এসব লাঠি ফাঠিতে মারলে কিছু হবে? স্টিলের স্কেলটা আনতে পারলেন না ছোটমা? আপনার মেয়ের শরীর কেটে রক্তাক্ত না করলে সে এই জনমে মানুষ হবে না। স্কেলটা এনে আমার হাতে দিয়ে,সবাই রুম থেকে বের হলে খুশি হবো।”



‎আরযানের মা ছেলেকে থামানোর চেষ্টা করল। তবে তার জানা আছে, ছেলেকে থামানোর চেষ্টা করলে আরো রেগে যাবে। এই বাড়ির বড় বড় ছেলে গুলোকেই এই বয়সে ছাড়ে না, আর এদিকে এই সাঁঝ তো আজকে বিরাট কান্ড ঘটিয়ে বসেছে। এখন কী করে এই মেয়েকে বাঁচানো যাবে? আরযান রাগারাগি করে সবাইকে গোডাউন থেকে বের করে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়। তার হাতে যেন কী একটা। সে গোডাউনের কাপুড়ের আলমারির ওপর জিনিসটা রেখে ছাই রঙা ব্লেজারটা শরীর থেকে খুলল। ভেতরে শার্ট ফর্মাল শার্টের হাতার বোতাম খুলে, কনুই অবধি গুটিয়ে নিলো। সাঁঝের সামনে খানিকটা ঝুঁকে বসল সে। শ্যামবর্নের এক অপার সুন্দর পুরুষ, বর্তমানে মীর ইন্ডাস্ট্রির সিইউ পদটা তার দখলে। কাজিন মহল এই শ্যাম পুরুষের জন্য মাতোয়ারা। মাতোয়ারা হবে না? ন্যাশনাল টিমে ফুটবলও খেলে সে। দু’টো কাজ একই সঙ্গে কেউ সামলাতে পারে? এই লোককে বাড়িতে খুব কম সময়ের জন্য পাওয়া যায়। কারন সে যে দুই পেশা একই সাথে সামলাচ্ছে। ক’দিন আগেও বাইরে গিয়ে ফুটবল খেলে জয়ী হয়ে এসেছে।  দেশের রত্ন, তাইতো বাড়ির সবাই তাকে করে এত যত্ন। তবে ছয় ফুটের এই দেহটা কেন ছোট্ট সাঁঝের জীবনের পেছনে পড়েছে? আরযান ভাইয়ের আজকে অফিস শেষ করে ফুটবল প্যাকটিস করতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেখো কোথা থেকে এসে প্রথম বাঁশটা দিলেন এই যে মিস্টার অ্যাথলেটিক। ইশ আমার ফুটবলার আসছে। ভ্রমর কালো চোখ, মোটা ভ্রুর অধিকারী মীর আরযান শান, সাঁঝের সামনে ঝুঁকে বসতেই সাঁঝ ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। কাঁদার মেয়ে সে না, মার খেতে খেতে এখন বেহায়া হয়ে গেছে। এখন তার মজাই লাগে মার খেলে। কেমন যেন শরীর মালিশ হয়ে যায়। আরযান তার দিকে তাকালো। একটা ঘন নিশ্বাস ছেড়ে বলল,”খুব চুমুর শখ? এত বেশি? পরীক্ষায় তুই পাঁচ সাবজেক্টে ফেইল করেছিস,প্রাইভেট টিচার ধমক দিয়েছে বলে, রং নাম্বার দিয়ে স্যারের প্রেমিকা সেজে তার সংসারে অশান্তি বাঁধিয়েছিস, পাশের বাড়ির পোষা শালিকের প্রথম দুইজোড়া ডিম চুরি করে তুই বাচ্চাদের নিয়ে পিকনিক করেছিস, ঝিলপার্কের পুকুরে ঢিল মারতে গিয়ে এক লোকের টাক মাথা ফুটো করেছিস। এই সপ্তাহে কতগুলো পাপ করেছিস হিসেব আছে? আমি বাড়িতে না থাকলে তোর পাখা গজায়?এতদিন তোর মাথা বাঁচিয়ে রেখেছি। আজ যদি একেবারে না কাটি, তবে আমি আর মীর আরযান শান নই—আর নিজেকে এক বাপের সন্তান বলব না।”



‎”এক বাপের সন্তান কেমন করে? আপনার বাপ তো চারটা।”



‎আরযান রাগী চোখে সাঁঝের দিকে তাকাতেই সাঁঝ হেসে বলে উঠল,

‎“ইয়ে মানে—বড় আব্বু, মেজো আব্বু, সেজো আব্বু আর আমার বাবা। এই তো, চার বাপই তো হলো!



‎”সাঁঝরে।” বলতে দেরি, তবে গলায় হাত চলে যেতে দেরি হলো না। আজকে আরযান সত্যি প্রচন্ড রেগে গিয়েছে। তবে অন্য একজনের জীবন নিয়ে তার এত কিসের আসে যায়। সাঁঝের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতেই গলা ছেড়ে দেয়। সাঁঝের চোখে এইবার ঠিকই জল গড়িয়ে পড়ছে। সে দম নেওয়ার চেষ্টা করতেই আরযান উঠে যায়। এক বোতল পানি এনে, ঘষে ঘষে সাঁঝের হাত ডিপ ক্লিনজিং করে দেয়। সাপের মতো ফুঁসতে থাকা আরযান ধমকে সাঁঝকে বলে, “আর কোথায় ওই ছেলের স্পর্শ লেগেছে সাঁঝ? জলদি বল, জাস্ট ফাস্ট। এই শরীরে অন্য পুরুষের ছোঁয়া কি করে লাগালি? এত বড় সাহস কে দিয়েছে?”



‎”আরযান ভাই লাগছে ভীষণ।”



‎”“এতক্ষণ তো শুধু সাঁঝই হয়েছে। তুই নিজেও জানিস, তুই কীভাবে এখানে চলে এসেছিস?” ভাবতে পারছিস তোর হাতে অন্য পুরুষের স্পর্শ লেগেছে।”



‎সাঁঝ গোঙাতে গোঙাতে বলল, “তো আমি নিজেও তো অন্য পুরুষের হয়ে যাব, এমনও তো হতে পারে ওই গাঁজা না মানে রাজাই আমার ফিউচার হাসবেন্ড।”



‎”তো হয়েছো কী? হয়নি তো? তোর সাহস কী করে হয় এখনই স্বামীর হোক অন্য কাউকে দিয়ে নষ্ট করার? পরে তোর স্বামীকে কী জবাব দেব আমরা? আমাদের বাড়ির মান-ইজ্জত তুই দেখছি নষ্ট করে ছাড়বি। না, অনেক হয়েছে। একরাত এই গোডাউনে না খেয়ে, বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাক তারপর  যদি শিক্ষা হয়। তবে এত সহজে তোকে ছাড়ছি না। কঠিন থেকে কঠিন শাস্তি হবে তোর। যত বার তুই আমার অবাধ্য হবি ততবারই আমি তোর জাহান্নাম হয়ে ফিরে আসব। আমার একটা মাইরও মাটিতে পড়বে না সাঁঝ, ফাজিল অসভ্য মেয়ে।”



‎আরযান সাঁঝকে অন্ধকার গোডাউনে রেখে চলে যায় বাইরে থেকে তালা মেরে। সাঁঝ চিৎকার চেচামেচি করতে থাকে। অন্ধকার তার ভালো লাগে,কবরে তো তাকে এমনভাবেই থাকতে হবে। একটু প্র্যাকটিস করলে মন্দ হয়না। তবে এখানে বসে থাকতে থাকতে তার পিঠ ব্যথা হয়ে যাবে। আর পোকা কামুড় দিলে যদি  ত্বকে কোনো ক্ষতি হয়? তাহলে এই ত্বক নিয়ে সে ছেলেদের মন জিতবে কীভাবে?”

‎বড় ঝামেলা হয়ে গেল রে। পরেরবার থেকে আরো সাবধানে চুমু খাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। ভাবতে না ভাবতেই হঠাৎ আরযান ফিরে এলো। হাতে কিসের যেন প্যাকেট। সাঁঝ মুখ ফিরিয়ে বলল, “এখন খাবার এনে ভাইয়া আপনি সরি বলবেন তাই না? আপনার সরি আমি বাথরুমে ফেলে দিয়েছি। ফ্ল্যাশ করার অপশন নেই। বাথরুমে পানিও ঢালব না। যাতে আপনার সরি অন্য সব পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে জলদি পচতে পারে।”



‎আরযান কিছুই বলল না, কেবল সামনে ঝুঁকে বসে বলল, “এই ছোট্ট ঠোঁট দু’টোর অনেক উত্তেজনা দেখছি। হ্যারে সাঁঝ তোর সত্যি চুমু চাই?”

‎সাঁঝের ভ্রু কুঁচকে উঠল—মিস্টার আরযান সাহেবের মুখে হঠাৎ এমন কথা?

‎ডাল মে কুচ কালা হ্যায়। আরযান বাঁকা হাসল। বলল,”কাছে আয়। ওহ আগে চোখ বন্ধ কর।”



‎”কিন্তু ছিঃ আপনি তো আমার ভাই হোন।”

‎আরে, চিন্তা করিস না। তোর জন্য তো শুধু চুমুর স্বাদটাই যথেষ্ট



‎সাঁঝ সন্দেহজনক দৃষ্টিতে চেয়ে মিটিমিটি করে চোখ বন্ধ করল। আরযান শান পুনরায় বলল, “পুরোপুরি বন্ধ কর।” ধমকের কারনে সাঁঝ পুরো চোখ বন্ধ করতেই আরযান প্যাকেট থেকে ঝাল মরিচের গুঁড়ো নিয়ে সাঁঝের ঠোঁটে ঘষে দিতেই সে জ্বালাপোড়ার চোটে চিৎকার করে ওঠে। আরযান হাত ছেড়ে উঠে বলল, “এবার দেখ চুমুর ফ্লেবার কেমন। আর কেউ চুমু চাইলেই রাজি হয়ে যাবি? এত অসভ্য তুই? যাহ এর কারনে তোকে পাঁচ ঘন্টা বেশি এখানে পড়ে থাকতে হবে। ছোট মা মেয়ে না তুই নামক একটা নিলর্জ্জ পয়দা করেছে। আর আমিও জানি, কী করে মানুষকে নিলর্জ্জ থেকে “মানুষ করতে হয়।” কথাটা ছুড়ে দিয়ে আরযান বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যায়। গোডাউনে একা পড়ে থাকে সাঁঝ। মরিচের ঝাঁজে এবার সত্যিই চোখ বেয়ে জল নামে; কিছুক্ষণের মধ্যেই নাক দিয়েও ঝরবে, আর ধোঁয়া যে আর কত দিক দিয়ে বেরোবে—কে জানে!



‎চলবে?

পর্ব-২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *